বাংলাদেশ সীমান্তের দখল নিতে লড়াইয়ে আরাকান আর্মি

2

পূর্বদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী উত্তর-পশ্চিম রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরে বড় আকারের হামলা শুরু করেছে আরাকান আর্মি। গত মঙ্গলবার সকালে শহরের উপকণ্ঠে দু’টি বর্ডার গার্ড পুলিশ হেডকোয়ার্টারে হামলার মাধ্যমে অভিযান শুরু করেছে তারা। গত সপ্তাহের শেষ দিকে তারা বুথিডাং শহর দখলের পর এই হামলা শুরু করলো।
এই দু’টি শহরই বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে উত্তর-পূর্ব রাখাইনে অবস্থিত এবং এই এলাকায় বসবাসকারীরা মূলত রোহিঙ্গা।
সমরবিদরা বলছেন, মংডুকে লক্ষ্য করে কয়েক দিক থেকে হামলা করে যাচ্ছে আরাকান আর্মির সদস্যরা, তারা শহরটি ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছে। তারা বলেছেন, ৪র্থ মাইল গ্রামের ৪ নাম্বার ব্যাটালিয়ন এবং মিথুগি ওয়ার্ডে ৫ নাম্বার ব্যাটালিয়ন বর্ডার গার্ড পুলিশের এই দুই ব্যাটালিয়নকে পরাজিত করতে পারলেই আরাকান আর্মি সৈন্যরা মংডুতে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে ।
এদিকে আরাকান আর্মির আক্রমণ ঠেকাতে অঞ্চলটিতে বিমান হামলা শুরু করেছে জান্তা।
মংডুর একজন বাসিন্দা জানায়, মঙ্গলবার ভোর ৩ টার দিকে তিনটি গ্রামে জঙ্গি বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করে জান্তা, এতে শবে বাহো গ্রামে আশ্রয় নেওয়া ২৩ বছর বয়সী এক বাস্তুচ্যুত তরুণী তাৎক্ষণিকভাবে নিহত হন। ওই হামলায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এছাড়া বাওধিকোন নামে আরেকটি গ্রামের বাড়িঘরে জান্তা বাহিনী বোমা হামলা চালালে অন্তত পাঁচজন বেসামরিক লোক গুরুতর আহত হয়। খবর বাংলানিউজের
এদিকে আরাকান আর্মি বুথিদাং থেকে পালিয়ে আসা জান্তা সৈন্যদেরও তাড়া করছে। গত ১৮ মে আরাকান আর্মি বুথিদাং দখল করে। আরাকান আর্মি যদি মংডু দখল করতে পারে, তবে উত্তর রাখাইনের শুধুমাত্র একটি শহরই জান্তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে তা হলো রাজ্যের রাজধানী সিতওয়ে। আর মংডুর দখল নিতে পারলে বাংলাদেশের সঙ্গে ২৭০ কিলোমিটার সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে আসবে। এক বিবৃতিতে আরাকান আর্মি বুথিডাং, মংডু এবং থান্ডওয়ে শহরের বেসামরিক নাগরিক এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সিতওয়ের অনেক বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছেড়েছেন। এদিকে জান্তা বাহিনী শহরটি অবরোধ করে রেখেছে, যার ফলে বাসিন্দাদের পালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে জুনে শুরু হওয়া শিক্ষাবর্ষের জন্য শিক্ষকদের পাবলিক স্কুল খুলতে বাধ্য করছে জান্তা।
সামরিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, সম্ভবত পাল্টা নৌ আক্রমণের মাধ্যমে বেসামরিক হতাহত এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কথা চিন্তা করে এখন পর্যন্ত সিতওয়ে এবং কিয়াউকফিউতে আক্রমণ করেনি আরাকান আর্মি। আর তারা যদি আক্রমণ করে তবে সিতওয়েতে প্রথম আক্রমণ করবে।
বর্তমানে আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের অর্ধেকেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে রাজ্যে জান্তা অবস্থানের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করার পর থেকে এই রাজ্যের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে নয়টি এখন তাদের দখলে।