নিজস্ব প্রতিবেদক
ফটিকছড়ির দাঁতমারায় নির্বিচারে পাহাড় কাটার অপরাধে দাঁতমারা ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউল আজম চৌধুরীসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। গতকাল সোমবার পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। অন্য আসামিরা হলেন ফটিকছড়ি দাঁতমারা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক ও ৮নং ওয়ার্ডের মো. ইউনুচের ছেলে মামুনুর রশীদ (৩৬), একই এলাকার মৃত আমীর আলীর ছেলে মো. সিরাজুল ইসলাম (৫৫), একই এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মোঃ শাহাদাত হোসেন, ও মিয়া সওদাগর (৫৫)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের সোনাইরখির মৌজার বালুখালী চামাঘোনা মনাইয়ার দোকান এলাকায় আসামিরা পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র ছাড়াই কয়েক লাখ ঘনফুট পাহাড় ও টিলার মাটি অবৈধভাবে কেটে অপসারণ করেছে। ফটিকছড়ি দাঁতমারার খাস খতিয়ানভুক্ত বিএস ১০২৫ দাগে টিলা/পাহাড় শ্রেণিভুক্ত জায়গা। রেকর্ড অনুযায়ী, টিলা শ্রেণির জায়গাটির বর্তমান ভোগদখলকারী মো. সিরাজুল ইসলাম।
দাঁতমারা ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউল আজম চৌধুরীর রাজনৈতিক প্রভাবে মামুনুর রশীদ পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করে আসছিল। কিছুদিন আগে এই পাহাড় কাটার ঘটনায় আরিফ (২০) নামে এক শ্রমিকেরও মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পাহাড় কাটার প্রাথমিক সত্যতার প্রমাণ মিলে এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ব্যবস্থার মারাত্মক ক্ষতি করায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০) এর ৬ (খ) ও ১২ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন পরিবেশ অধিদপ্তর।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব কাটিয়ে কয়েক মাস ধরে এসব পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করে আসছিল আসামিরা। তারা এসব পাহাড় ধ্বংস করে ব্যবসা করেছে। পরিদর্শন ও তদন্ত করে পাহাড় কাটায় তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় মোট ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।











