৪ সমস্যা সমাধানে বিনিয়োগ বাড়তে পারে দক্ষিণ কোরিয়ার

7

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রশাসনিক জটিলতা, ভিসা সহজীকরণ, শুল্ক হ্রাস এবং পর্যাপ্ত ডলার প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ দ্রুত বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং-সিক। গতকাল বৃহস্পতিবার টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে এ মন্তব্য করেন রাষ্ট্রদূত। সভায় মেয়র চট্টগ্রামে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপুল অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করেন।
সভায় মেয়র বলেন, চট্টগ্রামে দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়ং ওয়ানসহ বেশ কিছু বড় বিনিয়োগের প্রতিষ্ঠান আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বিপুল বিনিয়োগ করেছেন। নগরীর যোগাযোগ অবকাঠামোকে ঢেলে সাজাতে আড়াই হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। এছাড়া, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনেও নেয়া হয়েছে একাধিক প্রকল্প। নির্মাণ হচ্ছে বে-টার্মিনাল। ফলে বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য চট্টগ্রাম একটি আদর্শ স্থানে পরিণত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া এই সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে লাভবান হতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি আমদানির মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া এগিয়ে যেতে পারে বাণিজ্য প্রতিযোগিতায়।
জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রামে দক্ষিণ কোরিয়ার ৬০টি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দক্ষিণ কোরিয়া বিভিন্ন খাতে আরো বিনিয়োগ করতে চায়। তবে, চারটি সমস্যার সমাধান হলে বাংলাদেশে দ. কোরিয়ার বিনিয়োগ দ্রæত বাড়বে। প্রথমত, বাণিজ্য কার্যক্রম সহজ করতে বাংলাদেশ সরকার ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করলেও ব্যবসার সুযোগ বাড়াতে স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক গতিশীলতা আরো বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, ভিসা পাওয়ার পথ আরো সহজ করতে হবে। তৃতীয়ত, দক্ষিণ কোরিয়ান বিনিয়োগকারীরা বহিঃশুল্ক কমানো উচিৎ বলে মনে করেন। চতুর্থত, ডলার সংকটের ফলে অর্জিত মুনাফা ডলার আকারে ফেরত নিতে সমস্যা না হলে এবং কাচামাল আমদানিসহ বাণিজ্যিক কাজে ডলারপ্রাপ্তি সহজ হলে বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ দ্রæত বৃদ্ধি পাবে।
মেয়র রেজাউল দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ স¤প্রসারণে সর্বোচ্চ সহেযোগিতার আশ্বাস দেন। সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেম, দক্ষিণ কোরিয়া দূতাবাসের কনসাল কিম জিয়ং কি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন।