নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি কর্মচারী বিধিমালা পরিপন্থী কর্মকান্ডের অভিযোগে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এক কর্মকর্তা ও এক কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. এ কে এম সামছু উদ্দিন আজাদ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে সাময়িক বরখাস্তের এ তথ্য জানানো হয়। তাদের কেন চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হবে না, তা জানতে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে বোর্ড সচিবের কাছে কারণ দাখিল করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মকর্তা-কর্মচারী হলেন সেকশন অফিসার জাহেদ হোসেন ও অফিস সহায়ক জমির উদ্দিন। তবে বরখাস্ত হওয়াদের অভিযোগ, গত রবিবার আমরা কোনো অসৌজন্যমূলক আচরণ করিনি। চেয়ারম্যানকে দাবি উত্থাপনের সময় আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঝামেলা শুরু করেন। এতে শোরগোল সৃষ্টি হয়। তাই আওয়ামীপন্থীদের কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদকে সুবিধা দিতে তাদের বরখাস্ত করেছেন বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস উদ্দিন আহাম্মদ।
বরখাস্তের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২ নভেম্বর বেলা ১১টা ৪০ মিনিট থেকে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের দপ্তরে বোর্ডের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত সেকশন অফিসাররা পদোন্নতি সংক্রান্ত বিষয়ে সাক্ষাৎ করতে যান। পরে হিসাব শাখায় কর্মরত সেকশন অফিসার জাহেদ হোসেন, অফিস সহকারী আইয়ুব আলী, অফিস সহায়ক জমির উদ্দিন অনুমতি না নিয়ে চেয়ারম্যানের কক্ষে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে অশোভন, অশালীন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। এদের মধ্যে জাহেদ হোসেন ও জমির উদ্দিন শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানকে দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেন। এ ছাড়া বোর্ড চেয়ারম্যানের রুমে উপস্থিত অন্যদের সঙ্গেও শিষ্টাচারবহির্ভ‚ত আচরণ করেন, যা সরকারি কর্মচারী বিধিমালার পরিপন্থী। এমতাবস্থায় কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী জাহেদ হোসেন ও জমির উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. এ কে এম সামছু উদ্দিন আজাদ বলেন, চেয়ারম্যানের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগে জাহেদ হোসেন ও জমির উদ্দিন নামের দুইজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কেন তাদের স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সশরীরে হাজির হতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরখাস্ত হওয়া সেকশন অফিসার জাহেদ হোসেন পূর্বদেশকে বলেন, ‘গত রবিবার বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আমরা চেয়ারম্যানের কক্ষে যাই। সেখানে প্রবেশ করে দেখতে পাই, বোর্ডের কয়েকজন সেকশন অফিসার তাদের পদোন্নতির ব্যাপারে চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলছেন। ওনাদের কথা শেষ হওয়ার পর চেয়ারম্যান সাহেব জানতে চাইলেন, তোমরা কি জন্য এসেছো? তখন আমাদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী বললেন আমাদের কিছু দাবি-দাওয়া আছে আমরা সেটি একান্তে আপনাকে বলতে চাই। চেয়ারম্যান সাহেব বললেন, একান্তে নয়, এখানে বলো। তখন আমি বললাম, স্যার, আমরা অন্যদের সামনে বলতে চাচ্ছি না। এমন সময় আমাদের কথাগুলো মোবাইল দিয়ে ভিডিও করছিলেন আওয়ামীপন্থী কর্মচারী পরিষদের সদস্য সেকশন অফিসার ফারহানা আফরোজ। ওনার ভিডিও থামাতে গেলে চেয়ারম্যান মহোদয়ের কক্ষে আমাদের দু’পক্ষের মধ্যে বাক-বিতন্ডা হয়। পরে সচিব স্যার এসে সবাইকে শান্ত করেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার সংগঠন হলো শিক্ষবোর্ড কর্মচারী সংসদ (সিবিএ)। আমাদেরটা মূল সংগঠন। বোর্ডে আরেকটি সংগঠন আছে, সেটি হলো শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী পরিষদ, এটি জাতীয় শ্রমিক লীগের অন্তর্ভুক্ত একটি সংগঠন। গত আওয়ামী সরকারের আমলে এরা নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে। এখন তারা আবার বিএনপিপন্থী সাজার চেষ্টা করছে। এই আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দিতে আমাদেরকে বরখাস্ত করা হয়েছে।’










