১৬ বছর পর ফটিকছড়ির দুই ইউপির নির্বাচন

82

দীর্ঘ ১৬ বছর পর আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর ও নবগঠিত খিরাম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে প্রচারণা এখন তুঙ্গে। চেয়ারম্যান, নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্য প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন শেষ মুহূর্তের প্রচারণায়। কর্মী-সমর্থকেরা নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের মন জয় করতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, অনুষ্ঠেয় দুই ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১৮ এবং সাধারণ সদস্য পদে ৬০ জন প্রার্থী প্রতিদন্ধিতা করছেন। এখানে মোট ভোটার ২৫ হাজার ৬৭৯। তন্মধ্যে নানুপুরে ১৮ হাজার ৬০৭ এবং নবগঠিত খিরামে ৭ হাজার ৭২ জন। দুই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় দুই ও স্বতন্ত্র তিন, সাধারণ সদস্য পদে ৬০জন এবং সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে ১৮ জন প্রার্থী মাঠে নেমেছেন। এর আগে নানুপুর ইউপির ১নং সাধারণ ওয়ার্ডে তৌহিদুল আলম ও ১, ২ ও ৩নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে সৈয়দা নাজমা আক্তার বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নানুপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকে সৈয়দ ওসমান গণি, আনারস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জাকারিয়া, নবগঠিত খিরাম ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকে মো. শহিদুল আলম, আনারস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সোহরাব হোসেন এবং ঘোড়া প্রতীকে স্বরবিন্দু চাকমা। নানুপুরের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জাকারিয়া জানান, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী চেয়ারম্যান থাকাকালীন বিগত ১৬ বছর ধরে ব্যাপক দুর্নীতি করেছেন। জনগণ তার নিকট সেবা পায়নি। এলাকায় তিনি যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যসহ উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন করেন নি। একটি মডেল ইউনিয়ন গড়তে জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে প্রার্থী হয়েছি। নানুপুর ইউপির সদস্য পদপ্রার্থী মো. আবুল কালাম জানান, আমার ওয়ার্ডের লোকজন দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। তাদের সঙ্গে নিয়ে অধিকার আদায়ের চেষ্টা করব। নানুপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ ওসমান গণি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, জনগর নৌকায় ভোট দিতে মুখিয়ে। কেউ আমার বিজয় ঠেকাতে পারবে না। গত শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো জনপদ। প্রার্থীদের প্রচারণার মাইকিংয়ে মুখর বিভিন্ন এলাকা। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগে ব্যন্ত প্রার্থীরা। কেউ কুশল বিনিময় করছেন। কেউ দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি। চাইচেন দোয়াও। খিরাম গ্রামে গণসংযোগের সময় কথা হয় আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. শহিদুল আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ভোটারদের স্বতঃষ্ফূর্ত সাড়া পাচ্ছি। জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। তিনি ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহবান জানান। একই ইউনিয়নের হচ্ছার ঘাটে বাড়িতে গণসংযোগের সময় কথা হয় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সোহরাব হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, শুনা যাচ্ছে ব্যালট পেপার চিনিয়ে নিয়ে তারা ভোট চিনিয়ে নেবে। এমন না হলে ভোট সুষ্ঠু হলে আমার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। খিরাম গ্রামের ভোটার মো. শাহনেওয়াজ নাজিম জানান, প্রার্থীরা তো ভোটের আগে অনেক প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোটের পর আর খবর থাকে না। তাই দেখে শুনে ভোট দেব। উল্লেখ্য, ১৪নং নানুপুর ইউনিয়নকে ভাগ করে ২১নং খিরাম ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। মূলত ২০০৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর চারদলীয় জোট সরকারের আমলে খিরাম আলাদা ইউনিয়নের গেজেট প্রকাশ হয়। গত ২০১১ এবং ২০১৬ সালে ইউপি নির্বাচনে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতায় ওই দুই ইউনিয়নে নির্বাচন হয়নি। মূলত নানুপুর ইউপি সদস্য মুহাম্মদ ইউনুচ নানুপুর ইউনিয়নের ঢালকাট গ্রামের অংশ বিশেষ খিরাম ইউনিয়নে অন্তর্ভূক্ত করায় আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। অবশেষে দীর্ঘ ১১বছর পর গত ২০১৭ সালের ১১ মে হাইকোটের বিচারপতি আশিস রঞ্জন দাস ও বিচারপতি আশফাকুল ইসলামের সমন্বয়ে করা বেঞ্জে পিটিশনটি খারিজ হয়। পিটিশন থাকায় ২০১১ ও ২০১৬ তে নির্বাচন হতে পারেনি। সর্বশেষ ২০০৩ সালে এলাকাটিতে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে সময়ে সৈয়দ ওসমান গণি বাবু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রায় ১৬বছর পর নির্বাচন হচ্ছে বিধায় উক্ত দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে।