১০ দিন পর চালু বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ

46

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সাথে টানা ১০দিন পর সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন হয়েছে। চট্টগ্রাম-বান্দরবান মহাসড়কের সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন অংশে গত ৮ জুলাই থেকে টানা ১০ দিন সড়ক প্রায় ১০ ফুট পানির নিচে তলিয়ে ছিল। ফলে সারাদেশের সাথে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ ছিল বিচ্ছিন্ন। গত ১৫ জুলাই থেকে সৃষ্ট বন্যার পানি নামতে শুরু করায় গত সোমবার দুপুর থেকে আবারও যানচলাচল শুরু হয়। জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের কারণে বান্দরবান জেলা সদরের সাথে রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। জেলার নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রিত দূর্গত লোকজনও তাদের নিজ নিজ ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে যাদের বসতবাড়ি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা এখনো আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছেন।
এদিকে বান্দরবানের কাঁচা বাজারে সবজিসহ নিত্যপ্রয়োনীয় পণ্যগুলোর চরম সংকট দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টি, নিম্নাঞ্চলগুলো বন্যায় নিমজ্জিত থাকার কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় নিত্যপণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়েছে পুরো বান্দরবানেই। বৃষ্টির অজুহাতে সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম বেড়ে গেছে কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা। বেড়েছে কাঁচামরিচসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস। ব্যবসায়িরা বলছেন, বাজারে সবজির সংকট রয়েছে এবং বান্দরবানে বন্যার কারণে তাদের মালামাল আনতে খরচ বেশি পড়ছে। এছাড়াও স্থানীয় চাষীদের উৎপাদিত সবজির ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বাজারে সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ।
সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, গত সপ্তাহে যে মরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছিল, তা এখন বেড়ে ১২০ থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। বৃষ্টির অজুহাতে সব ধরণের সবজির দামও ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে বাজারভেদে প্রতি কেজি পটল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঝিঙ্গা ৫০ থেকে ৭৫ টাকা, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, বান্দরবান বাজারে সব ধরণের সবজির সংকট দেখা দিয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় সবজির অভাব ও চড়া দামে কিনতে হচ্ছে মরিচ, বেগুন, কাকরলসহ অনেক সবজি। বাজারে দ্রæত পর্যাপ্ত সবজি সরবরাহ এবং বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন আরো বেশি নজর দিলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হতো।
জেলা বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাশ বলেন, গেল কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বান্দরবানে শাক-সবজি ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম অনেকটা বাড়লেও পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে মালামালের। বৃষ্টি কমে গেলে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে সবজির বাজার আবারও নিয়ন্ত্রণে আসবে।
জেলা ত্রাণ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, টানা বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৪৫০ মেট্রিক টন জিআর চাউল, ৭ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ ও নিরাপদ পানি ও খাবার স্যালাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলার ৭ উপজেলার ১৩৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১০ হাজার পরিবার আশ্রয় নিয়েছে, তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হয়েছে।