পূর্বদেশ ডেস্ক
হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হলে মানুষ সাধারণত আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের ভেতর নেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত জীবন বাঁচাতে পারে। হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হলে মানুষ সাধারণত আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের ভেতর নেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত জীবন বাঁচাতে পারে। ভূমিকম্পের সময় কী করবেন, কোন কাজগুলো একেবারেই করা যাবে না এবং আতঙ্ক কাটিয়ে কীভাবে নিরাপদে থাকবেন- এসব নিয়ে জরুরি নির্দেশনা তুলে ধরা হলো।
ভূমিকম্প হলে প্রথমেই যা করবেন : শান্ত থাকুন এবং দ্রুত আশ্রয় নিন। আতঙ্ক ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। তাই প্রথম কাজ হচ্ছে নিজেকে স্থির রাখা। ‘ড্রপ, কভার, হোল্ড’ নিয়ম অনুসরণ করুন। মাটিতে বসে পড়ুন বা হাঁটু গেড়ে বসুন। মাথা ও ঘাড় টেবিল, ডেস্ক বা শক্ত কোনো কিছুর নিচে ঢেকে রাখুন। জিনিসটি নড়লে শক্ত করে ধরে থাকুন। জানালা ও কাঁচের জিনিস থেকে দূরে থাকুন। শক্ত কম্পনে কাঁচ ভেঙে ছিটকে মানুষকে আহত করতে পারে। বৈদ্যুতিক সুইচ, লিফট বা আগুনের উৎস থেকে দূরে থাকুন। আগুন লাগা বা শক লাগার ঝুঁকি থাকে।
ভূমিকম্পের সময় করণীয় : যদি ঘরের ভেতরে থাকেন পিলার, ভিতের দেয়াল বা ভারী টেবিলের নিচে আশ্রয় নিন। দরজার ফ্রেমের নিচে দাঁড়ানো এখন আর নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত নয়; বরং শক্ত আসবাবের নিচে থাকাই উত্তম। বুক ও মাথা রক্ষা করতে হাত ব্যবহার করুন। মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা না করে কেবল জরুরি অবস্থার জন্য প্রস্তুত থাকুন। শিশু বা বৃদ্ধ থাকলে আগে তাদের রক্ষা করুন।
যদি বাইরে থাকেন বিল্ডিং, বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছ ও সেতুর নিচ থেকে দূরে সরে যান। খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে মাথা দু হাত দিয়ে ঢেকে রাখুন। গাড়িতে থাকলে নিরাপদে থামিয়ে ভিতরে থাকুন। বাইরে নামলে পড়ে যাওয়া বস্তুতে আঘাত লাগতে পারে। যদি ভিড়ের মধ্যে থাকেন (মার্কেট, অফিস, স্কুল) দৌড়াদৌড়ি করবেন না- এতে হুড়াহুড়িতে আহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। নির্দেশনা থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে পালন করুন। সিঁড়ি ব্যবহার করতে গিয়ে ভিড় করবেন না।
ভূমিকম্পের সময় যা করবেন না : লিফট ব্যবহার করবেন না- আটকে পড়ার সম্ভাবনা বেশি। বারান্দা বা ছাদে দৌড়ে যাবেন না- বিল্ডিং ধসে পড়লে বিপদ দ্বিগুণ হবে। মোমবাতি বা আগুন জ্বালাবেন না- গ্যাস লিকের সম্ভাবনা থাকে। জানালা খুলতে যাবেন না- কাঁচ ভেঙে আঘাত লাগতে পারে। দৌড়াদৌড়ি বা চিৎকার করে আতঙ্ক ছড়াবেন না- এতে অন্যরাও দিশেহারা হয়ে পড়তে পারে।
ভূমিকম্প থেমে যাওয়ার পর করণীয় : নিজের অবস্থা দেখে নিন এবং আশেপাশে কেউ আহত হলে সাহায্য করুন। গ্যাস লাইন, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও পানি লাইন পরীক্ষা করুন। প্রয়োজন ছাড়া ঘর বা অফিসে প্রবেশ করবেন না। অফটারশক আসতে পারে- সতর্ক থাকুন। মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যস্ত থাকতে পারে, তাই জরুরি বার্তা এসএমএস- এ পাঠান। আহত বা ফেঁসে পড়া ব্যক্তিকে দেখতে পেলে সরানোর চেষ্টা করার আগে উদ্ধারকারী দলকে খবর দিন।
আতঙ্ক এড়াতে যেসব প্রস্তুতি থাকা জরুরি : বাসায় জরুরি ব্যাগ রাখুন (টর্চ, পাওয়ার ব্যাংক, ব্যান্ডেজ, পানি, শুকনো খাবার, ওষুধ)। প্রতিটি পরিবারের সদস্যকে ভূমিকম্পের আচরণবিধি শেখান। বাসার ভারী আলমারি ও আসবাবগুলো দেয়ালে শক্তভাবে আটকান। নিয়মিত ড্রিল করলে আতঙ্ক অনেক কমে যায়।
ভূমিকম্প কখন, কোথায়, কত বড় আঘাত হানবে- এটা কেউ বলতে পারে না। কিন্তু সচেতনতা, সঠিক সিদ্ধান্ত ও দ্রæত করণীয় জানলেই ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমানো সম্ভব। আতঙ্ক নয়, প্রস্তুতি- এই দিকেই গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।











