সৌন্দর্য হলো একজন ব্যক্তির ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি

1

মিতা পোদ্দার

মানুষের আসল সৌন্দর্য থাকে তার ব্যক্তিত্বে, তার কথায়, তার আচরণে, তার চিন্তায়। ব্যক্তিগত স্তরে, মানুষের আসল সৌন্দর্য বিভিন্ন আকারে প্রকাশ পায় এই যেমন ধরুন চেহারা, আকৃতি, আঙ্গুল, বাহু , রঙ, বয়স ইত্যাদি। ব্যক্তিগত সৌন্দর্য মানুষের ব্যক্তিত্ব ও ব্যক্তিগত আকর্ষণ দেখাতে সাহায্য করে। সুন্দরের সংজ্ঞা যদি জানতে চাওয়া হয় তাহলেই বিপত্তি। আসলেই তো সুন্দর বলতে আমরা কি বোঝাই? কেনই বা একটা কিছুকে আমাদের সুন্দর মনে হয় কিংবা কুৎসিত মনে হয়?
সুন্দরের সাধনায় আমরা মগ্ন থাকি। আমরা আমাদের বিশ্বকে সংজ্ঞায়িত করি সুন্দরের মাধ্যমে। মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে মানবিকতা, নিষ্ঠা এবং নৈতিকতাই মহত্বের আসল মাপকাঠি। একজন ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় তার সামাজিক অবস্থান বা বাহ্যিক রূপে নয়, বরং তার মানবিক মূল্যবোধ ও কাজের প্রতি দায়বদ্ধতায় নিহিত থাকে। তাই, কোনো ব্যক্তির মূল্যায়ন করা উচিত তার ভেতরের গুণাবলী দিয়ে, বাহ্যিক চেহারা দিয়ে নয়।
বাহ্যিক সৌন্দর্য ক্ষণস্থায়ী এবং এটি মানুষের আসল পরিচয় বহন করে না। সৌন্দর্য মানুষের সহজাত আকর্ষণীয় গুণ। আমার কাছে সৌন্দর্য মানে হলো বাবার মুখে আদূরে ডাক, মায়ের মিষ্টি শাসন, ভাই বোনের ছোটাছুটি আরও কত কী? মানুষ চিরদিন সুন্দর থাকেনা। বয়সের সাথে সাথে তা ¤øান হয়ে যায়। সুন্দর চেহারা দিয়ে কী হবে যদি আচরণটাই কর্কশ বা রূঢ় হয়? একজন মানুষের গুণাবলী তাঁর প্রতিভা বা দক্ষতাকে প্রকাশ করে। অহংকারবশত কেউ যদি অন্যদের ছোট করে তবে তাঁর প্রতিভা ও সৌন্দর্য অর্থহীন হয়ে পরে। বলা অনেক সহজ আমি তোমায় ভালোবাসি কিন্তু ভালোবেসে সারাজীবন পাশে থাকা এবং ধরে রাখা খুব কম মানুষই পারে। বন্ধু আমি তোর পাশে আছি সারাজীবন বলা অনেক সহজ, কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় বন্ধুত্ব এবং ভালোবাসা কম মানুষই মূল্যায়ন করতে পারে। বাহ্যিক সৌন্দর্য যেমন আসল সৌন্দর্য নয় ঠিক তেমনি সঠিক মানসিকতার না হলে কখনোই সৌন্দর্যের বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবেনা।
প্রত্যেকটা মানুষেরই উচিত নিজের মন-মানসিকতাকে পরিশুদ্ধ করা। বাহ্যিক সৌন্দর্যের সাথে সাথে নিজের মনকেও সুন্দর করে সবার কাছে ফুটিয়ে তুলতে হবে। সেটা শুধুমাত্র কথার মাধ্যমে নয় কাজের মাধ্যমে সেটা প্রকাশ করতে হবে। তবেই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গঠন করা যাবে।
লেখক : প্রাবন্ধিক