সেতু আছে সড়ক নেই

1

এম সাইফুল্লাহ চৌধুরী, লোহাগাড়া

লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের জামছড়ি খালে নির্মিত সেতুটি এখন এলাকার মানুষের কাছে ‘ঝুলন্ত সেতু’ নামেই পরিচিত। ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে প্রায় ৯৯ লাখ ৬১ হাজার টাকা ব্যয়ে যে সেতু নির্মাণকাজ হাতে নেওয়া হয়, সেটির মূল কাঠামো ২০২৩ সালের মাঝামাঝিতে শেষ হয়। কিন্তু সেতুর দুই পাশে প্রায় ১৫০ ফুট সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
নির্মাণকাজ পরিচালনার দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাশেম ব্রাদার্স। তবে প্রতিষ্ঠানটির হয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেন উপজেলা সদরের বাসিন্দা মিনহাজ উদ্দিন।
সরকারি অর্থে নির্মিত ৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৮ ফুট প্রস্থের এই সেতুটি ছিল স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। কৃষক, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী সবার জন্যই এটি ছিল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অবকাঠামো।
বর্ষায় ভোগান্তি কমবে, দুই পাশের গ্রামগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে- এমন স্বপ্ন নিয়েই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আড়াই বছর পরও কোন সংযোগ সড়ক না থাকায় সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে অনিয়ম, পরিকল্পনা সংকট এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতার কারণেই কোটি টাকার এই প্রকল্প আজ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। তারা বলেন, এটা সেতু নয়, অপচয় করা টাকায় নির্মিত কংক্রিটের ‘স্মৃতিস্তম্ভ’। স্থানীয়রা এই সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
জামছড়ি এলাকার কৃষক আবদুল গফুর বলেন, এই সেতু কাগজে-কলমে আমাদের, বাস্তবে কারও কাজে আসে না।
আরেক বাসিন্দা মোরশেদা বেগম বলেন, বর্ষায় কষ্ট করে চলাচল করতে হচ্ছে। কোটি টাকার সেতু নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় চলাচল করতে পারি না।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির দুই পাশে ১৫০ ফুটের মতো সংযোগ সড়ক নির্মাণ করলেই সেতুটি মূল সড়কের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে। তা না করায় পাকা সেতুটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। পাশে নির্মিত একটি বেইলি সেতু দিয়ে লোকজন চলাচল করছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দীঘির পাড়া সড়কটি চরম্বা ইউনিয়নের সঙ্গে পদুয়া ইউনিয়নের আঁধারমানিক গ্রামকে সংযুক্ত করেছে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে কয়েক হাজার পথচারী ও অসংখ্য গাড়ি চলাচল করে। পাশের বেইলি সেতুটি বর্তমানে দুর্বল হওয়ায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া বেইলি সেতুটি নিচু হওয়ায় বর্ষাকালে পানিতে ডুবে যায়। তখন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জনসাধারণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে দ্রæত পাকা সেতুটি সড়কের সঙ্গে সংযোগ করে চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া জরুরি।
চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ হোসেন বলেন, ঠিকাদারের দায়িত্ব ছিল সেতুটি সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়া। এই কাজের জন্য প্রকল্পেই বরাদ্দ থাকে। জনসাধারণের দাবির মুখে আড়াই বছর আগে সেতুটি নির্মাণ হলেও দুর্ভোগ এখনো রয়ে গেছে। বিষয়টি আমরা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে সেতুর নির্মাণকাজ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মিনহাজ উদ্দিন বলেন, সেতুটির প্রস্থ ১৮ ফুট। তবে প্রকল্পে সংযোগ সড়কের প্রস্থ আছে ১২ ফুট। আমরা দুইবার কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে ফিরে এসেছি। স্থানীয় লোকজনের দাবি, সেতুর প্রস্থের সমান ১৮ ফুট করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নাহিদ আহমেদ বলেন, আমি উপজেলায় যোগদানের আগেই সেতুটি উদ্বোধন করা হয়। বিষয়টি আগে জানতাম না, সম্প্রতি স্থানীয়রা জানিয়েছেন। দ্রুত সেতুটি চলাচলের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।