দেশ বর্তমানে নির্বাচনমুখি। দেশের প্রায় সবকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রচারণায় ব্যস্ত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এখনো দেশে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচারণায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রচারণাকালে চট্টগ্রাম আট আসনে বিএনপির এমপি প্রার্থীর গণসংযোগ কালে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারে এমপি প্রার্থী আহতসহ একজনের মৃত্যু হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু এবং অনুকূল পরিবেশের স্বার্থে দেশব্যাপী দ্রুত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। নয়তো নির্বাচন সংক্রান্ত সরকারের সকল অর্জন ব্যর্থ হয়ে যাবে।
দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার এক প্রতিবেদন হতে জানা যায়, নির্বাচন নিয়ে নানা বিভ্রান্তি প্রসংগে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব নির্বাচন নিয়ে যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদের ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সারাদেশে এখন নির্বাচনী আমেজ বইছে, এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কেউ থামাতে পারবে না। নির্বাচন নিয়ে যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তারা ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর। তারা ফ্যাসিস্ট সরকারের নানাভাবে সুবিধাভোগী’।
গত শুক্রবার সকালে নেত্রকোণা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মোহাম্মদ শফিকুল আলম বলেন, ‘সবাই এখন ইলেকশনের জন্যে অধীর আগ্রহে আছেন, অনেকেই ক্যাম্পেইন করছেন, অনেকেই ঢাকা থেকে এলাকায় চলে গেছেন, গ্রামে চলে গেছেন। প্রচার-প্রচারণা করছেন। আমরাতো সবাইকে দেখছি। পুরো জাতি এখন নির্বাচনের জন্যে অধীর আগ্রহে আছেন। এমন কোনো জায়গা নেই যে সেখানে ক্যাম্পেইনিং হচ্ছে না। সব জায়গায় হচ্ছে। নেত্রকোণা, নোয়াখালী, মাগুরায় দেখেছি; সব জায়গায় দেখেছি। পোস্টারে, ব্যানারে ছেয়ে গেছে’। তিনি আরও বলেন, ‘সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামতকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি নিশ্চিত করতেই প্রধান উপদেষ্টার সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে’।
গণমাধ্যমকে ‘রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসাবে উল্লেখ করে মোহাম্মদ শফিকুল আলম আরও বলেন, ‘সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডে গণমাধ্যম আমাদের অন্যতম সহযোগী শক্তি। জনগণের কাছে সরকারের কার্যক্রমের সঠিক ও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে। তাই সরকারের সঙ্গে গণমাধ্যমের পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়া আরও দৃঢ় করতে হবে’।
জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে সভায় সংবাদকর্মীরা স্থানীয় সমস্যা, সম্ভাবনা ও পেশাগত চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন এবং পেশার মানোন্নয়ন নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। প্রেস সচিব যাই বলুন না কেন, বাস্তবে নির্বাচনের পূর্বে অস্ত্র উদ্ধার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। যেভাবে দেশব্যাপী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার প্রয়োজন সে তুলনায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিছু কিছু অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে বলে পত্রিকার কিছু প্রতিবেদন আমাদের চোখে পড়ছে। জনৈক বিএনপি নেতার কাছ হতে বিদেশি পিস্তল উদ্ধার এবং রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র (ওয়ান শুটার গান), ৪টি মোবাইল ও ১টি মোটরসাইকেলসহ তিন ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ভান্ডারীগেইট এলাকা থেকে তাদের ধরা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নোয়াখালীর হাতিয়া থানার সুখচর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সুখচর গ্রামের মো. ওহাবের ছেলে মো. নাছির (৩৪), একই থানার আফাজিয়া উত্তর চর ইশ্বর রায় গ্রামের বাসু কবিরাজের বাড়ির মৃত জাকের হোসেনের ছেলে মো. বিটু (২৫) এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম খুরুশিয়া গ্রামের মৃত ইসলামের ছেলে মাহবুব আলম (২৫)।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম জানান, জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অবৈধ অস্ত্র-গুলি উদ্ধারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদ পেয়ে পদুয়া ইউনিয়নের ভান্ডারীগেইট এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে অস্ত্রসহ তাদের ধরা হয়। সম্ভবত কোনো এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি কিংবা অস্ত্র কেনার উদ্দেশ্যে তারা রাঙ্গুনিয়ায় এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ব্যাপারে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। তাদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
দেশে জুলাই বিপ্লবের সময় অনেক থানা লুট হয়েছে। সরকারি অনেক অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে চলে গিয়েছে। সেসব অস্ত্র নির্বাচনে ব্যবহার হতে পারে এমন ধারণা দেশবাসীর। নির্বাচন সুষ্ঠু করার স্বার্থে এবং নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টির স্বার্থে দেশের সকল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার করে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগেই পেশাধার এবং দলীয় সন্ত্রাসীদের দমন করতে হবে।











