সীতাকুন্ডে সড়কে ঝরে গেল ৫ প্রাণ

3

জাহেদুল আনোয়ার চৌধুরী, সীতাকুন্ড

সীতাকুন্ডে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৫ জনেরও অধিক। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস এবং হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সীতাকুন্ড অংশের বটতল এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে গতকাল রাত ১০ টায় এই রিপোর্ট লেখার সময় নিহতদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন কামাল, তার বাড়ি ছাগলনাইয়া এবং শাহা আলম, তার বাড়ি কুমিল্লায়। এছাড়া আহতদের মধ্যে চন্দনাইশের ইব্রাহিম, মিঠাছড়ার রিঙ্কু, অর্ণব, ফেনীর জাহাঙ্গীর, সীতাকুন্ডের জিপিএইচ এলাকার নয়ন ও ও রুকনে রানী নাথের পরিচয় পাওয়া গেছে।
স্থানীয়, ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে আসছিল যাত্রীবাহী সিডিএম নামে একটি লোকাল বাস। সেটি মহাসড়কের সীতাকুন্ড অংশে বটতলা এলাকায় অতিক্রম করছিল। এই সময় সড়কের থাকা একটি ডিএবি ডাম্প ট্রাককে ওভারটেক করে বাসটি এগোলে সামনে অপর একটি মোটরসাইকেল এসে পড়ে। তখন মোটরসাইকেলকে রক্ষা করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গাছের সাথে সজোরে ধাক্কা লাগে, এরপর সেটি খাদে পড়ে যায়। এতে বাসে থাকা অন্তত ৫০ যাত্রী আহত হন এবং ৪ জন যাত্রীর ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়।
এরপর প্রথমে স্থানীয়রা ও পরে ফায়ার সার্ভিস এবং হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে সীতাকুন্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর একজন মৃত্যুবরণ করেন। গুরুতর আহত ১২ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
ঢাকা মদনপুর থেকে আসা বাসটির যাত্রী আলিফ হোসেন বলেন, ঘুম ঘুম চোখে বুঝতে পারছি বাসের সামনে একটি ট্রাক পড়েছে। ট্রাকটিকে ওভারটেক করে এগোতেই সামনে পড়ে একটি মোটরসাইকেল। ওই মোটরসাইকেলকে রক্ষা করতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এ সময় বাসে থাকা সবাই কমবেশি আহত হন। শুনেছি ৪/৫ জন মারা গেছেন। আমাদের আল্লাহ রক্ষা করেছে।
দুর্ঘটনার বিষয়ে সাবেক পৌরসভার কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা সেলিম উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার বিকট আওয়াজ শুনে আমি বাড়ি থেকে ছুটে আসি। এসে দেখি পুরো বাস চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। এরপর লোকজন ডেকে এনে আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করি। শুনেছি সেখান থেকে অনেক যাত্রীকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ আসার পর ঘটনাস্থল থেকে ৪টি লাশ উদ্ধার করা হয়। বাসে কমপক্ষে ৫০ জনের অধিক যাত্রী ছিলেন। তারা সবাই আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সীতাকুÐ ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা দ্রæত এসে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসারত অবস্থায় সেখানে একজন মারা যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, আমরা ২৫ জন আহত যাত্রীকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছি। তার মধ্যে ১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করি। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগ মাথায় আঘাত পান। শিশুসহ ৫ জন যাত্রী নিহত হন। চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করাদের মধ্যেও ২/৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সীতাকুন্ড ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার সাথে সাথে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। ৪টি লাশ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশকে হস্তান্তর করেছি। ২০ জনের অধিক আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও গুরুতর আহতদের চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেছি।
সীতাকুন্ডের কুমিরা-টেরিয়াইল হাইওয়ে থানার ওসি জাকির রাব্বানী বলেন, আমরা ৪টি লাশ উদ্ধার করেছি। আহত হয়েছে ২০ জনেরও অধিক। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সন্ধ্যা হওয়ায় কিছু আহতের নাম-ঠিকানা পেলেও বেশিরভাগ পাইনি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর একজন যাত্রীর মৃত্যু ঘটে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করছি। আপাতত বাস ও ড্রাম ট্রাকটি আটক রেখেছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।