নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) উদযাপন করা হয়েছে ‘ওয়ার্ল্ড ওয়ান হেলথ ডে-২০২৫’। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউট এসব কর্মসূচির আয়োজন করে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘জন্ম হোক সুরক্ষিত, ভবিষ্যৎ হোক আলোকিত।’
দিবসটি উপলক্ষ্যে গতকাল রোববার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। শোভাযাত্রা শেষে প্রশাসনিক ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় ওয়ান হেলথ থিম সং লঞ্চিং, কেক কাটা ও সমাপনী অনুষ্ঠান।
এর আগে, দিবসটি উপলক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ওয়ান হেলথ কুইজ প্রতিযোগিতা, শিশুদের জন্য বিষয়ভিত্তিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পোষাপ্রাণির ভ্যাকসিনেশন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান। ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আহসানুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (বহিরাঙ্গন কার্যক্রম) প্রফেসর ড. এ. কে. এম. সাইফুদ্দিন এবং পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রাশেদুল আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেস-এর সহকারী অধ্যাপক ডা. রুমানা রশীদ।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, ‘আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুস্থ, সবল এবং সুন্দর একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই। এই জন্য আমাদের পূর্বপুরুষেরা যেমন কাজ করে গেছেন, তেমনি আমরাও কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের উদ্দেশ্য একটাই, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন একটি স্বাস্থ্যবান বাংলাদেশ পায়। কিন্তু আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেই চ্যালেঞ্জের মধ্যে অন্যতম হলো জলবায়ু পরিবর্তন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। রোগবালাই বাড়ছে। সুতরাং জলবায়ু পবিবর্তনকে কিভাবে আমরা মিটিগেশন করতে পারি, কিভাবে অ্যাডাপটেশন করতে পারি-সেই দিকে আমাদের সবাইকে নজর দিতে হবে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে কাজ করতে হবে। তাহলে ভবিষ্যতে আমরা একটি সুস্থ, সুন্দর এবং স্বাস্থ্যবান বাংলাদেশ পাবো।’
ডা. রুমানা রশীদ বলেন, ‘আমরা সবাই কিন্তু আলাদা ব্যানারেই কাজ করছি, হেলথ সেক্টর, হিউম্যান সেক্টর, এনভায়রনমেন্টাল সেক্টর। কিন্তু আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করার সময় চলে এসেছে। আমরা ওয়ান হেলথ ব্যানারে সবাই একসাথে কাজ করতে পারলেই কিন্তু অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স থেকে শুরু করে আমরা এখন যে ডিজিজগুলো নিয়ে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ফেস করছি- সেগুলো মোকাবিলা করতে পারবো।’
কর্মসূচিগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় প্রধান, হল প্রভোস্ট, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালকসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। খবর বিজ্ঞপ্তির।











