সিজেকেএস ক্রিকেট বাইল’জে বিভ্রান্তি ক্ষতিগ্রস্ত মুক্তিযোদ্ধা: দায় কার?

2

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সিজেকেএস ক্রিকেট উপবিধিতে অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তির কারণে চরম খেসারত দিতে হয়েছে শিরোপা প্রত্যাশী মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র (লাল)কে। গত ১১ মে সিজেকেএস-ইস্পাহানি প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে শিরোপাধারী আবাহনীর বিপক্ষে ম্যাচে জাতীয় তারকা ফজলে রাব্বিকে মাঠে এনেও খেলাতে পারেনি তারা। ক্রিকেট সম্পাদকের নির্দেশনা মোতাবেক তার রেজিস্ট্রেশন ফর্ম গ্রহণ করেননি ম্যাচ রেফারি। তার মতে, মুক্তিযোদ্ধার প্রিমিয়ার কোটার ৭ জনের রেজিস্ট্রেশন পূর্ণ হয়ে গেছে। মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তারা সিজেকেএস ক্রিকেট বাইল’জের ১৩(গ) ধারা উল্লেখ করে বলেন, ‘ঢাকা প্রিমিয়ারে খেলা চট্টগ্রামের স্থানীয় একজন (ফিক্সড) এবং বহিরাগত কোটায় ৭ জন রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে যার মধ্যে প্রতি ম্যাচে ২ জন খেলতে পারবে’। সিজেকেএস ক্রিকেট সম্পাদকের মতে, ‘স্থানীয় একজন এবং বহিরাগত কোটাসহ ৭ জন খেলার বিধান’- এর বিপক্ষে মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তারা উদাহরণসহ তুলে ধরে বলেন, তাহলে কিভাবে নওজোয়ান ক্লাব ইফতেখার সাজ্জাদ রনি (প্রিমিয়ার কোটা), শরীফুল ইসলাম, এইচ এম জুয়েল, ইফতেখার হোসাইন ইফতি, মো রাকিব, মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ হোসাইন ও রবিউল ইসলাম রবি আর ইস্পাহানিতে আবদুল্লাহ আল মামুন, মাহফুজুর রাব্বী, শেখ কামরান হাফিজ ডিকি (প্রিমিয়ার কোটা), মো: মনিরুল ইসলাম সোহাইল, শাহ্ পরান, পিনাক ঘোষ, শামসুর রহমান শুভ ও রনি বেপারী অর্থাৎ ৮ জন করে খেলালো? তখন ক্রিকেট সম্পাদক বলেন, আমি জানিনা, কেউ কমপ্লেইন করেনি। হাস্যকরভাবে তিনি আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধা বড় টিম বলে অভিযোগ এসেছে।
দু’পক্ষের বাদানুবাদে সিদ্ধান্তহীনতায় দুই ঘন্টা সময় শেষ। ইতোমধ্যে সিজেকেএস সহসভাপতি হাফিজুর রহমান এসে বাইল’জে অস্পষ্টতা আর বিভ্রান্তির বিষয়টি অবলোকন করে খেলাধূলার বৃহত্তর স্বার্থে ক্রিকেট সম্পাদকের ব্যাখ্যা মেনে খেলায় অংশগ্রহণের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানান এবং আগামীতে বাইল’জের ত্রæটি-বিচ্যুতিগুলো সবার পরামর্শক্রমে দুর করার প্রতিশ্রæতি দেন। মুক্তিযোদ্ধার শীর্ষ কর্মকর্তা, সিজেকেএস’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মশিউর রহমান, কাউন্সিলর সরওয়ার আলম চৌধুরী (মনি) ও শীর্ষ কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ তানসির উদারতার পরিচয় দিয়ে ক্রিকেটের স্বার্থে খেলতে রাজি হন একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছাড়াই। ফলে একজন কোটা কম নিয়ে খেলে আবাহনীর কাছে হেরে শিরোপা লড়াই থেকে ছিটকে পড়ে অন্যতম ফেভারিট দলটি। খেলোয়াড়টির পিছনে খরচ করা টাকাটাও পানিতে পড়ে। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধা সিজেকেএস সাধারণ সম্পাদক বরাবরে লিখিত আবেদনে খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশনে বৈষম্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে তদন্তপূর্বক সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, সিজেকেএস ক্রিকেট কমিটির বাইল’জের ফাঁক-ফোঁকরের সমস্যায় সৃষ্ট জটিলতায় পড়ে বছর কয়েক আগে চট্টগ্রাম লিগের আরেক শক্তিশালী দল এফএমসি স্পোর্টস ক্লাব আর ক্রিকেটই খেলছে না।
অথচ ভাবুন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাঙ্গনে স্বনামখ্যাত এফএমসি এখন চট্টগ্রাম লিগে থাকলে সিজেকেএস লিগের জৌলুস কেমন হতো? চট্টগ্রাম ক্রিকেটাঙ্গনে এ ধরণের সমস্যার কারণে জাতীয় ক্রিকেটাঙ্গনে চট্টগ্রামের অবস্থান দিন দিন কোথায় যাচ্ছে আর এ জন্য দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে সম্পাদকের পদে থাকা আবদুল হান্নান আকবরের নেতৃত্বে সিজেকেএস ক্রিকেট কমিটি দায় এড়াতে পারে কি? সাথে সাধুবাদ জানাতে হয় মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাদের। যদি তারা ঐদিন গোঁ ধরে বসে থাকতেন, ছাড় দিয়ে নিজেদের কোরবানী না দিতেন, তাহলে আরেকটি ডেডলক তৈরি হতে পারতো, হতো জটিলতা। ক্রিকেট কমিটির যে উপবিধি, তাতে যে ফাঁক-ফোঁকর, তা নিয়ে এখন থেকেই ভাবতে হবে।