নিজস্ব প্রতিবেদক
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নগরীর চশমা হিলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে আধাঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এ অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশের দাবি, ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি সফল করতে সেখানে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বৈঠক করছেন, এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়।
নগরীর পাঁচলাইশ থানার পূর্ব নাসিরাবাদের চশমা হিলে নওফেলের যে বাসায় অভিযান চালানো হয়, সেটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পারিবারিক বাসভবন হিসেবেই পরিচিত।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, আজ (বুধবার) দুপুরে ফেসবুকে একজন ‘জুলাই যোদ্ধা’ নামে ব্যবহারকারী একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, নওফেলের বাসায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ১৩ নভেম্বরের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে বৈঠক করছেন। পরে আরও কয়েকজন ‘জুলাই যোদ্ধা’ ফোনে বিষয়টি থানাকে অবহিত করলে পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে অভিযান পরিচালনা করে।
ওসি বলেন, আমরা তথ্য পাওয়ার পর সিএমপি কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অভিযান চালাই। স্থানীয় কিছু জুলাই যোদ্ধা আমাদের সঙ্গে যেতে চেয়েছিলেন কিন্তু আমরা দুজন ছাড়া কাউকে যেতে দিইনি। অভিযানকালে পুরো ভবন তল্লাশি করা হয়। বাসায় বর্তমানে পরিবারের কেউ থাকেন না। সেখানে সাতজনকে পাওয়া যায়, যারা নিজেদের কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাদের থানায় নিয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ বা ফ্যাসিস্ট সংশ্লিষ্ট কেউ থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানের সময় নগরীর দুই নম্বর গেইট এলাকায় ‘জুলাই ঐক্য, চট্টগ্রাম’ ব্যানারে ৫০-৬০ জন তরুণ লাঠি হাতে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায়। ব্যানারে লেখা ছিল ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও শেখ হাসিনার ফাঁসির দাবি’।
‘জুলাই ঐক্য, চট্টগ্রাম’-এর এক সংগঠক সাংবাদিকদের বলেন, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের অপতৎপরতা রুখে দিতে লাঠি মিছিল করেছি। জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে আমরা ধরে রাখতে চাই।










