সরকারের ‘ভিন্ন উদ্দেশ্য’ দেখছে বিএনপি

2

পূর্বদেশ ডেস্ক

জাতীয় নির্বাচনের আগে পুলিশ কমিশন ও এনজিও বিষয়ক আইন করার উদ্যোগে সরকারের ‘ভিন্ন উদ্দেশ্য’ দেখছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারকে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বস্ত সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি যে, তাড়াহুড়ো করে দু’টি আইন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পাস করাতে চাইছেন। একটি সংশোধিত পুলিশ কমিশন আইন, অন্যটি এনজিও সংক্রান্ত আইন। আমরা মনে করি, নির্বাচনের পূর্বে এই ধরনের আইন পাস করার পেছনে সরকারের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে, যা গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে বাধাগ্রস্ত করবে’।
গত বছর ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাত সংস্কারের যে উদ্যোগ নেয় সেখানে পুলিশ সংস্কারের বিষয়টিও ছিল। খবর বিডিনিউজের
পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশে পুলিশ কমিশন গঠন বিষয়ে বলা হয়, ‘তবে বিবেচ্য কমিশনের গঠন-কাঠামো, কার্যাবলি ও পরিধি কেমন হবে, তা আরও বৃহত্তর পরিসরে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা সমীচীন হবে’।
পরে রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও জোটের ঐকমত্যের ভিত্তিতে যে চ‚ড়ান্ত জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করা হয় সেখানে স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। জুলাই সনদে বলা হয়েছে, পুলিশ বাহিনীর পেশাদারত্ব ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকরণ এবং পুলিশি সেবাকে জনবান্ধব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে একটি ‘পুলিশ কমিশন’ গঠন করা হবে। এই প্রস্তাবের সঙ্গে ৩০টি দল ও জোট একমত পোষণ করেছে, কারও ভিন্নমত পাওয়া যায়নি।
জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পর তা বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে সরকারের তরফে সিদ্ধান্ত এসেছে। সে অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনের করার প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইন পাস করা সমীচীন হবে না। আমরা মনে করি, এই আইন দুইটি পরবর্তী জাতীয় সংসদে যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে প্রণয়ন করা সঠিক হবে’।
তিনি বলেন, ‘সরকারকে আহবান জানাচ্ছি এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য’।
এরই মধ্যে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে সরকার পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া চ‚ড়ান্ত করেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর তরফে খসড়াটি ঢেলে সাজানোর আহŸান জানানোর খবরও এসেছে।