সরওয়ার জামালের মনোনয়ন প্রত্যাহারে ৩ নেতার চিঠি

2

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে প্রাথমিকভাবে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজামের প্রার্থীতা বাতিলের জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিত চিঠি দিয়ে আবেদন করেছেন বিএনপির ৩ মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা। তারা হলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহবায়ক আলী আব্বাস ও কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির আহব্বায়ক এস এম মামুন মিয়া। গত ১৩ নভেম্বর তারা এই চিঠি প্রেরণ করেন।
চিঠিতে দাবি করেন, সরোয়ার জামাল নিজাম একজন আওয়ামী লীগের দোসর, সুবিধাভোগী ও বহু বছর ধরে রাজপথে অনুপস্থিত পলাতক ব্যক্তি। তাকে গত ১৭ বছরে বিএনপির হয়ে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলন, সংগ্রাম, মিছিল-মিটিংয়ে দেখা যায়নি। তিনি বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘসময় ধরে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। তাছাড়া আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করেছেন। তারা আরো উল্লেখ করেন, সরোয়ার জামাল নিজাম দলের দুর্দিনে কখনও তৃণমূলের পাশে দাঁড়াননি, নেতাকর্মীদের খোঁজ নেননি। যখন আওয়ামী লীগের সীমাহীন দমন-পীড়নে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘরছাড়া ও ফেরারি জীবনযাপন করছিলেন, তখন তিনি নিশ্চিন্তে পরিবার পরিজন নিয়ে বিলাসিতায় বিদেশে সময় কাটিয়েছেন। এমন একজন ব্যক্তিকে ধানের শীষের প্রার্থী করায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্য তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে বিএনপির সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী, তিনবারের সাংসদ হয়েও বিগত ২০০৮ সাল পরবর্তী দল এবং নেতাকর্মীদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এই দীর্ঘ কঠিন আন্দোলন সংগ্রামে তার কোন ভূমিকা বা উপস্থিতি ছিল না। কোনস্তরেই বিএনপির সাথে কোন সম্পর্ক রাখে নাই। সব সময় নির্বাচনের আগে এসে মনোনয়ন ভাগিয়ে নেন তিনি।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সরোয়ার জামাল নিজাম ২০১৩ সালে আওয়ামী সরকার বিরোধী কঠোর আন্দোলন চলাকালীন ১৯ জানুয়ারি আমেরিকায় চলে যান। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলে মনোনয়নের জন্য দেশে আসেন। আন্দোলনকালীন সময়ে নিরাপদে দেশের বাইরে অবস্থান করেছিলেন। তাছাড়া ২০১৮ সালেও পুরোটা সময় ধরে বিদেশে ছিলেন সরোয়ার জামাল নিজাম। পরে ৬ ডিসেম্বর দেশে এসে কোন এক অদৃশ্য কারণে মনোনয়ন পেয়ে যান। মনোনয়ন পেয়ে তিনি নির্বাচনী পোস্টার, প্রচার প্রচারণাও চালাননি। নির্বাচনে কোন এজেন্ট পর্যন্ত নিয়োগ করেন নাই। তার সাথে থাকা নেতাকর্মীদের আওয়ামী গায়েবী মামলা-হামলার মুখে ঠেলে দিয়ে তিনি স্বপরিবারে আত্মগোপনে চলে যান। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত তাকে আর আনোয়ারা-কর্ণফুলী এলাকায় কিংবা দলীয় কোন কর্মকান্ডে দেখা যায় নাই।
চিঠিতে বলা হয়, সরোয়ার জামাল নিজাম ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ত্যাগ করেন এবং আওয়ামী ক্লিয়ারেন্সর ভিত্তিতে ২৩ জানুয়ারি ২০২৪ সালে আমি-তুমি-ডামি নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর দেশে ফিরে আসেন। চিঠিতে তারা দাবি করেন, সওয়ার জামাল নিজাম ইতোপূর্বে আওয়ামী নেতা ছিলেন এবং ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রয়াত প্রেসিডিয়াম সদস্য আখতারুজ্জমান চৌধুরী বাবুর নৌকা প্রতীকের প্রধান এজেন্ট ছিলেন। তার ভ্রমণ ইতিহাস পর্যালোচনা করলে ভারতের সাথেও তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। চিঠিতে আরো বলা হয়, সরোয়ার জামাল নিজামের মতো স্বার্থপর, বেঈমান সুবিধাবাদী ব্যক্তিদের বিএনপি প্রার্থী মনোনীত করায় দলের দুঃসময়ের মজলুম নেতাকর্মীদের উপর চরম অন্যায় ও অবিচার হয়েছে।
দলের ভারাপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র ত্যাগী, নির্যাতিত ও পরিশ্রমী এ তিন নেতার আকুল আবেদন যে, বিশ্বাসঘাতক সওয়ার জামাল নিজামের বিরুদ্ধে উঠা সকল অভিযোগ, তথ্য-উপাত্ত, প্রমাণ, দলিলাদি ও পাসপোর্ট যাচাই করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তার প্রাথমিক মনোনয়ন বাতিলের ঘোষণা দেয়া। বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে চট্টগ্রাম-১৩ আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসনে। গত ১৩ নভেম্বর সরোয়ার জামাল নিজামের প্রার্থীতা বাতিলের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে বিশাল মশাল মিছিল করেছেন বিএনপির ত্যাগী, নির্যাতিত নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণ। খবর বিজ্ঞপ্তির