সমস্যা সমাধানের দাবিতে ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের তালা

88

পরিস্কার পানি সরবরাহ, টয়েলেট সংস্কার, ডাইনিংয়ের অনিয়ম বন্ধসহ আবাসিক হল সংস্কারের দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) মাস্টারদা সূর্যসেন হলে তালা দেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এসময় হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. খালেদ মিসবাহুজ্জামানসহ আবাসিক শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করা হয়। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আবাসিক হলটির ছাত্র ও ছাত্রী; উভয় ব্লকের শিক্ষার্থীরা অফিস কক্ষে তালা দেন। এসময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পোস্টার হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে বেলা ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে তারা তালা খুলে দেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাস্টারদা সূর্যসেন হলে খাবারের পানিতে প্রচুর আয়রন। নল দিয়ে পড়ে ময়লা পানি। এসব পানি ব্যবহার ও খাবার অনুপযোগী। হলে ৬ বছর ধরে কোন বাবুর্চি নেই। ক্যান্টিন ম্যানেজারই রান্না করেন ইচ্ছেমত। টয়েলেটের ছাদ চুইয়ে নোংরা পানি পড়ে, বেশিরভাগ টয়েলেটের দরজা নষ্ট হওয়ায় পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের কক্ষগুলোতে চেয়ার-টেবিলসহ আসবাবপত্র সংকট। সন্ধ্যা হলেই শুরু হয় মশার কামড়। হলের নিরাপত্তা না থাকায় বন্যপ্রাণী ঢুকে যায় কক্ষে। হলের ছাত্রী ব্লকে আসনের অতিরিক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থী হওয়ায় এক প্রকার গাদাগাদি করে থাকতে হয়। টয়েলেটেও একই সমস্যা। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে প্রভোস্টকে বলে কোন সমাধান হয়নি। হল প্রশাসনের গাফিলতির কারণেই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সাজ্জাদ আনাম পিনন পূর্বদেশকে বলেন, ‘হলের পানি খাওয়া তো দূরের কথা ব্যবহার করাই যায় না। টয়েলেটে সমস্যা, আসবাবপত্র নেই, ডাইনিংয়ে অব্যবস্থাপনা। এক প্রকার মানবেতর জীবন-যাপন করছি আমরা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যার কথা প্রভোস্ট স্যারকে অবহিত করেও সমাধানও হয়নি। তাই আমরা আন্দোলন করেছি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে।’
জানতে চাইলে মাস্টারদা সূর্যসেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. খালেদ মিসবাহুজ্জান পূর্বদেশকে বলেন, ‘হলটা অনেক পুরোনো। তাই এখানে কিছু সমস্যা রয়েছে। আরো আড়াই বছর আগে এক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু কিছু কাজ করে ওই প্রতিষ্ঠান আর কোন কাজ করেনি। আর আমাদের সীমিত বরাদ্দ দিয়ে এত সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে, থোক বরাদ্দ দিয়ে জরুরি সমস্যার সমাধান করবে। আর বাকি কাজ স্বাভাবিক গতিতে চলবে। ওই টেন্ডার বাতিল করে হয়তো কাজ আরেকজনকে দেয়া হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হেলাল উদ্দিন আহম্মদ পূর্বদেশকে বলেন, ‘ওই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা খুব দুর্ভোগে আছেন। বিশেষ করে ছাত্রীদের বøকের অবস্থা খুব খারাপ। আমি শিক্ষার্থীদের দাবির কথা শুনেছি। শুনে উপাচার্য মহোদয়কে জানিয়েছি। হল প্রশাসনের সহযোগিতায় সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।’