সড়ক অবরোধ-বিক্ষোভ

11

নিজস্ব প্রতিবেদক

চলমান কোটা বিরোধী আন্দোলনে নগরীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে রাখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া কথা জানান তারা। গতকাল সোমবার বিকেল ৪টা থেকে ৮টা পর্যন্ত আন্দোলন করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা ষোলশহর রেলস্টেশন থেকে শুরু করে টাইগার পাস পর্যন্ত মিছিল নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে নিউ মার্কেট গিয়ে আন্দোলনের সমাপ্তি করে।
সরেজমিন দেখা গেছে, বিকেল ৪টা থেকে ২নং গেইট এলাকায় যানবাহন আটকে আছে। মোড়ের মাঝখানে গোল করে বসে শিক্ষার্থীরা কোটাবিরোধী নানা ¯েøাগান দিতে দেখা গেছে। গাইছে প্রতিবাদী গান। তাঁদের হাতে কোটাবিরোধী নানা প্ল্যাকার্ড ছিল। অবরোধ চলাকালে পাশেই পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য অবস্থান করছিলেন।
এসময় মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের ‘সারা বাংলা খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘মেধা না কোটা? মেধা-মেধা’, ‘মেধাবীদের কান্না, আর না, আর না, কোটার বিরুদ্ধে-লড়ায় হবে একসাথে’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
পাঁচলাইশে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (টিআই) মো. মাসুদুর রহমান পূর্বদেশকে বলেন, তারা শান্তভাবে আন্দোলন করেছে। বিকেল ৫টার দিকে তারা মিছিল সহকারে টাইগারপাস যায়। সেখানে এক ঘণ্টা অবস্থান করে পরে নিউ মার্কেটের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে যায়। সেখানে বক্তব্য দিয়ে আন্দোলন শেষ করে। আন্দোলন চলাকালীন যান চলাচল বন্ধ ছিল।
এর আগে শনিবার বিকেল সাড়ে চারটা থেকে একই এলাকায় সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে মিছিল নিয়ে সড়কে অবস্থান নেয় তারা। ফলে দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় নগরবাসীকে।
প্রসঙ্গত, কোটা ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে গত পাঁচদিন ধরে টানা আন্দোলন করে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে দুদিন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলন করলেও নগরে এর প্রভাব ছিল না। কিন্তু শুক্রবার থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর আন্দোলন করেছে নগরীর দুই নম্বর গেইট ও ষোলশহর এলাকায়। এ আন্দোলনে তারা চার দফা দাবি জানিয়ে আসছে।
দাবিগুলো হলো- ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখতে হবে, ২০১৮ এর পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রæত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকুরিতে (সব গ্রেডে) অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দিতে হবে এবং সংবিধান অনুযায়ী কেবল অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে; সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে; দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।