সকল অপরাধের উৎস মাদক : ডিআইজি

31

সারা দেশের ন্যায় গতকাল বুধবার চট্টগ্রামে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, মিথ্যা যেমন সকল পাপের উৎস তেমনি মাদক সকল অপরাধের উৎস। মাদক সেবনের ফলে মানুষ সব রকম খারাপ কাজ করতে বাধ্য হয়। মাদক নির্মূল হলে অপরাধও অনেকটা কমে যাবে। তিনি বলেন, মাদক সেবন বন্ধ করতে চাহিদা কমাতে হবে। তাহলেই অটোমেটিক সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যাবে। তাই বলা যায়, ডিমান্ড থাকলে সাপ্লাই হবে।
মোটেল সৈকতে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, সরকার মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। সে যুদ্ধে জয়ী হতে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণের চেয়ে মাদক রোধ কঠিন হলেও জনগণের সহযোগিতা পেলে সফলতা আসবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এদেশের জনগণকে সাথে নিয়ে সারাদেশে যেভাবে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে জয়ী হয়েছি, ঠিক সকলে মিলে সমন্বিতভাবে কাজ করলে মাদক রোধ করা সম্ভব হবে। সামগ্রিকভাবে উদ্যোগ নিলে মাদকবিরোধী যুদ্ধে বিজয় আসবে। দেশপ্রেমের অভাবে আমরা মিয়ানমারের কাছে পরাজিত হচ্ছি। তারা ১২ লাখ রোহিঙ্গা চাপিয়ে দিয়েছে। তারা ইয়াবা দিয়ে এ দেশ থেকে টাকা পাচার করছে।
তিনি বলেন, এ মাদক ব্যবসা করে অনেকে লাভবান হচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা অধিক লাভের আশায় এ রকম ব্যবসা থেকে সরে আসতে পারছে না। যার কারণে সমাজ দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশ মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। মাদকের ছোবলে মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও কলম্বিয়ায় লাখো মানুষ মারা গেছে। চীন দুইবার আফিম যুদ্ধ করেছে। আফগানিস্তানে পপি ফুলের চাষ হয়। মাদক ব্যবসা হলো তাদের আয়ের বড় উৎস। তারা পর্দার জন্য মেয়েদের গায়ে আলকাতরা মাখতে পেরেছে কিন্তু পপির চাষ বন্ধ করতে পারেনি। পাকিস্তান মাদকের করিডোর। মাদক, অস্ত্র ও মানবপাচার মাফিয়া ডনদের বড় ব্যবসা। সারা বিশ্বের নারীদের পতিতালয়ে পাচার করে তারা।
আইনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি কারো কাছে ২৫ গ্রাম ইয়াবা পাওয়া যায় তাহলে তার মৃত্যুদন্ডের বিধান রয়েছে।
ডিআইজি ফারুক বলেন, আমাদের সন্তানরা বা প্রজন্ম যদি এখনই সচেতন না হয়ে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে মাদক গ্রহণ করে তাহলে তার পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে। সন্তানেরা কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে, কি করছে তা প্রত্যেক পিতা-মাতা ও অভিভাবকরা কঠোরভাবে মনিটরিং করলে তারা আর মাদকে জড়াবে না। সন্তানদের নিয়ে আমাদেরকে সব সময় সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের যে উদ্যোগ সেটাকে স্বাগত জানাতে হবে। নিজেদের সচেতন করতে হবে এবং মাদক নির্মুলে পরিবার থেকেই এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি দেশকে মাদকমুক্ত করতে হলে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ও এডভোকেট মিলি চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. হাবিবুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক (কলেজ) প্রফেসর ড. গাজী গোলাম মাওলা, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী ও র‌্যাব-৭ এর উপ অধিনায়ক মেজর মো. মেহেদি হাসান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক মো. মজিবুর রহমান পাটওয়ারী। বক্তব্য রাখেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো.উপ অঞ্চলের উপ-পরিচালক শামীম আহমেদ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি মাওলানা কাজী শাকের আহমদ।