শিক্ষার্থীদের অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে হবে : মেয়র

44

সরকার আলোকিত নাগরিক সৃষ্টির জন্যই শিক্ষা খাতে ভর্তুকি দিয়ে প্রতি বছর বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। গতকাল বুধবার সকালে নগরের কর্ণফুলী থানাধীন আয়ুব বিবি সিটি করপোরেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিনামূল্যে বই বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এ মন্তব্য করেন।
মেয়র বলেন, মা-বাবার যথাযথ পরিচর্যায় সন্তান শিক্ষিত ও উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। তাই তাদের প্রতি সন্তানের নিখাদ শ্রদ্ধা থাকলে নিজের জীবন পরিপূর্ণ হতে পারে। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যারা শিক্ষার্থী তারা বাবা-মার কারণেই পাঠ গ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের তাদের বাবা-মার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। খবর বাংলানিউজের
চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়–য়ার সভাপতিত্বে সভায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক চসিকের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল হক উিউক, আয়ুববিবি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা লায়ন হাকিম আলী এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্যদের সদস্য এমএ মারুফ বিশেষ অতিথি ছিলেন। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মাহতফুজুর রহমান শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় শাখার ৭২২ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৮ হাজার ২৮০ টি পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়।
মেয়র আরো বলেন, একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই পারে আলোকিত ও মূল্যবোধ সম্পন্ন সুনাগরিক সৃষ্টি করতে।
আমাদের সমাজে নীতি- নৈতিকতার যে অবক্ষয় চলছে তা থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রয়েছে। একজন শিক্ষার্থী শুধু ভালো ফলাফল করলেই চলবে না, তাকে পরোপকারী ও নিজ গুণে গুণান্বিত হতে হবে। এই প্রসংগে মেয়র বলেন, সরকার আলোকিত নাগরিক সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষা খাতে ভর্তূকি দিয়ে প্রতি বছর কোটি কোটি শিক্ষার্থীর হাতে বিণামুল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করে আসছে। যা ইতিহাসে বিরল ঘটনা। এই কমসূচির আওতায় দেশের ৪ কোটি ২৬লক্ষ ১৯ হাজার ৮৬৫ জন ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিনামুল্যে ৩৫ কোটি ২১লক্ষ ৯৭ হাজার ৮৮২টি নতুন বই প্রদান করেছে সরকার। এর উদ্দেশ্যে হচ্ছে ছেলে-মেয়েদের শিক্ষাদীক্ষায় জ্ঞান বিজ্ঞানে স্বনির্ভর করা। সরকারের এই যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন এর ফলে দেশে শিক্ষা ও সাক্ষরতার হার বেড়েছে। ১০ বছর আগেও যেখানে বাংলাদেশর সার্বিক সাক্ষরতা হার ছিল অর্ধেক জনগোষ্ঠিরও কম। সেখানে বর্তমানে তা দুই-তৃতীয়াংশে ওঠে এসেছে। অথাৎ ২০০৮ সালে দেশের সাক্ষরতা হার ছিল ২৬ দশমিক ২৪ শতাংশ । আর এ হার বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৭৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এই সময়ে মাঝ-বয়সী জনগোষ্ঠির পাশাপাশি বয়স্ক এবং শিশুদের মধ্যেও শিক্ষার আওতা বেড়েছে ।এই কর্মসুচি অব্যহত থাকলে শতভাগ মানুষ শিক্ষায় শিক্ষিত হবে বলে মেয়র প্রত্যাশা করেন।