শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক

2

বান্দরবান প্রতিনিধি

জুম্ম জাতিকে বেঁচে থাকতে হলে দরকার তাদের অধিকার, সে অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদেরকে হাতে হাত, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে যে চুক্তি হয়েছিল সে চুক্তির সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন চাই। এ চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের কঠিন থেকে কঠিনতম সংগ্রাম করতে হবে।
গতকাল সোমবার সকালে বান্দরবান জেলা শহরের রয়েল হোটেলের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত ইউপিডিএফ’র প্রতিষ্ঠাতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার (এমন লারমা) ৪২তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় এ কথা বলেন পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আপ্রুমং মারমা। এসময় তিনি আরো বলেন, আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রধান সমস্যা হচ্ছে ভূমি বিরোধ। এ ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের ভূমি কমিশন গঠন করা হলেও আজ পর্যন্ত এ ভূমি কমিশনের কোনো কার্যক্রম দেখতে পাই নাই। যার কারনে দিন দিন পাহাড়ে ভূমি বিরোধ বেড়েই যাচ্ছে। তিনি বলেন, কেএনএফ, জেএসএস ও প্রসীত গ্রুপে ইউপিডিএফসহ নানা সংগঠন শান্তি চুক্তির বিরোধিতা করছেন। কোনো কোনো সংগঠন স্বায়ত্বশাসিত নিজেদের ল্যান্ড বলে দাবি করছেন। এটা পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্তি তৈরী করছে। ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক থাকতে এই অশান্তি হতে দেয়া যাবে না। আমাদের পতাকা তলে আসুন পাহাড়ে কিভাবে শান্তি ফিরিয়ে আনা যায় সেটির জন্য ঐক্যবদ্ধ হোন। ইউপিডিএফ’র প্রতিষ্ঠাতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমাকে স্মারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের অধিকার আদায়ের এক অবিসংবাদিত নেতা। তাঁর নেতৃত্ব ও আদর্শ আজও জুম্ম সমাজের অনুপ্রেরণার উৎস। স্মরণ সভায় বান্দরবান জেলার ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের সভাপতি রামতন সাং বম মালেক বলেন, দীর্ঘদিন শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়ার কারনে দিনদিন পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনের নামে সংঘাত বাড়ছে। জুম্ম জাতিয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ় করার পাশাপাশি চুক্তি বিরোধী ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী সকল কার্যক্রম প্রতিরোধ করে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতায় আমরা এতদুর এগিয়ে এসেছি। আমরা জনগণের পাশেই আছি, ভবিষ্যতেও পাশে থাকবো। অনুষ্ঠানে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (গণতান্ত্রিক) কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা আপ্রু মার্মা, কেন্দ্রীয় সদস্য জ্যোতিজ চাকমা, জেলা কমিটির সদস্য সচিব বিকাশ চাকমা, লামা উপজেলা কমিটির সভাপতি মংসইপ্রু ত্রিপুরা, বান্দরবান জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুয়েল ত্রিপুরাসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।