শহর-গ্রামে ভোটের আমেজ

10

নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তার আগেই আসনের সীমানা নির্ধারণ, ভোটকেন্দ্র সংস্কার, ভোটকেন্দ্র ও বুথ সংখ্যা নির্ধারণ এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শেষ করে ভোটগ্রহণে পুরোপুরি প্রস্তুত ইসি। যদিও একসাথে গণভোট হলে ভোটকেন্দ্র ও বুথের সংখ্যা বাড়বে। সেই প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে ইসি। চট্টগ্রামে ইতোমধ্যে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্যানেল প্রস্তুত করা হচ্ছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি পিছিয়ে নেই রাজনৈতিক দলগুলো। এক্ষেত্রে বিএনপি ও জামায়াত আগেভাগে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। যে কারণে শহর-গ্রামে ভোটের আমেজ ফিরেছে এসেছে।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী পূর্বদেশকে বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। তফসিল ঘোষণার পরপরই যাতে নিয়মানুযায়ী কাজ চালাতে সুবিধা হয় সেজন্য আগেভাগে অনেক কাজ শেষ করেছি। একইদিনে নির্বাচন ও গণভোট হলে কিছু ভোটকেন্দ্র ও বুথ বাড়বে। কেন্দ্র ও বুথে যাতে ভোটাররা সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারে সে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, চট্টগামে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে এবার ভোটার বেড়েছে প্রায় তিন লক্ষ ৩৩ হাজার ৬৮৮ জন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬৩ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৭ জন ভোটার ছিল। ত্রয়োদশে সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার ৩৩১ জন। মহিলা ভোটার ৩১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৯১জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছে ৬৩ জন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ও বুথের সংখ্যা কমানো হয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের ‘সুবিধার ভোটকেন্দ্র’ এবার বাদ দেয়ায় ভোটকেন্দ্র ও বুথ কমেছে। এবার এক হাজার ৯৬৫ ভোটকেন্দ্র ও ১২ হাজার ৩৮৭ বুথে ভোটগ্রহণ হবে। এমন হিসেবে এক হাজার ৯৬৫ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ১২ হাজার ৩৮৭ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ২৪ হাজার ৭৭৪ জন পোলিং কর্মকর্তা ভোটগ্রহণে নিয়োজিত থাকবে। এছাড়াও অতিরিক্ত ১০ শতাংশ হিসেবে আরো প্রায় চার হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রস্তুত থাকবে। তবে গণভোট একইদিনে হলে কেন্দ্র ও বুথের সংখ্যা বাড়লে এ হিসাবে পরিবর্তন আসবে।
আসছে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ইসি তফসিল ঘোষণার ইঙ্গিত দিলেও তার আগেই নির্বাচনী মাঠে নেমেছে বিএনপি ও জামায়াত। দুই দলই সংসদীয় আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। এক্ষেত্রে জামায়াত ১৬টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করলেও বিএনপি কয়েকটি আসনে কৌশলে প্রার্থীতা খালি রেখে বাকি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। তবে গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রার্থী চূড়ান্ত করার কারণে আগেভাগে নির্বাচনী মাঠ গুছিয়ে নিয়েছে জামায়াত। এখন বিভিন্ন ওয়ার্ডে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ লিফলেট বিতরণ করে ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছেন দলটির প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা। শহর-গ্রামের পাড়া-মহল্লায় জামায়াতের প্রার্থীর সমর্থনে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে।
বিএনপিও প্রার্থী ঘোষণার পর ভোটের মাঠে প্রচারণা শুরু করেছে। তবে কয়েকটি আসনে স্বস্তিতে নেই বিএনপির প্রার্থীরা। দলীয় প্রার্থীর বাইরে একাধিক প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। প্রার্থী বেশি থাকলেও সবাই ভোটের মাঠে সরব আছেন। সবাই ভোটের মাঠে ভোটার টানতে সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ করে আগেভাগে গণসংযোগ করছেন। সংসদীয় আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের এমন পদচারণায় বসে নেই নতুন দল এনসিপি। এনসিপির মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক নেতা ভোটের মাঠে আছেন। দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হলেই তারাও পুরোদমে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এছাড়াও গণঅধিকার পরিষদসহ ইসলামী দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরাও ছোটবড় শোডাউন দিয়ে ভোটের মাঠে থাকার জানান দিচ্ছেন। সবিমিলিয়ে শহর-গ্রামে এখন ভোটের আমেজ ফিরেছে। চা দোকান, জনবহুল এলাকায় জমে উঠছে প্রার্থীদের নিয়ে ভোটকেন্দ্রিক আলোচনা।