লোহাগাড়ায় পাহাড় কেটে বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট

1

এম সাইফুল্লাহ চৌধুরী, লোহাগাড়া

লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বায় পাহাড় কেটে বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের ঘটনাকে স্থানীয়রা ‘উন্নয়নের নামে পাহাড় হত্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের নীরবতায় এলাকার পরিবেশ ও জননিরাপত্তা আজ প্রশ্নের মুখে।
গতকাল বুধবার দুপুরে চরম্বা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডস্থ কালোয়ার পাড়া সংলগ্ন হিন্দু পাড়ার পর জোড়া ব্রিজের উত্তর পাশে সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায় একটি সুবিশাল পাহাড়ের প্রায় অর্ধেক মাটি কেটে পাচার করা হয়েছে। পাহাড়ের বুকে স্কেভেটারের দাগ লেগে আছে। পাহাড়ে রোপণকৃত গাছগুলোও কেটে ফেলা হয়েছে। পাহাড়ের মাটি দিয়ে চরম্বা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের দৃশ্যও চোখে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের মাঠ সম্প্রসারণ ও বাড়ি নির্মাণের নামে পাহাড়ে চালানো হচ্ছে কাটাকাটি। একদল প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রকাশ্যে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
পরিবেশবিদরা বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ বড় করা ও বাড়ি নির্মাণের পক্ষে যুক্তি থাকলেও পাহাড় ধ্বংস করে সেই কাজ করা আইনবিরোধী।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা আসলেই পাহাড়ধসের ভয়াবহতা বাড়বে। শিশুদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। এক সপ্তাহ ধরে রাতের আঁধারে পাহাড় কেটে মাটি বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হয়েছে। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যক্তি জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (ছৈয়দ মেম্বার) বিগত সরকারের আমলেও দীর্ঘদিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসহাব উদ্দিনের সাথে সিন্ডিকেট করে মাটি বালু কাটার সাথে জড়িত ছিলেন।
কয়েকজন বাসিন্দা জানান, পাহাড়টি ব্যক্তি মালিকানাধীন। এর মালিকানা ৭ জনের। পাঁচ বছর আগে পাহাড়টি কেটে বসতঘর নির্মাণ শুরু হয়। এরপর একটি একটি করে বসতঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে পাহাড়ের পূর্ব অংশে আটটি বসতঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পাহাড়টির দক্ষিণ অংশে প্রায় ১৫ শতক এরই মধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে বসতঘর নির্মাণের জন্য।
এ বিষয়ে জায়গার মালিক মো. শফির সাথে কথা বললে তিনি জানান, পাহাড় কাটা আইনানুগ অপরাধ, তাই পাহাড় কাটতে চাইনি।
তিনি বসতঘর নির্মাণে পাহাড় কাটার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, পাহাড় কাটলে প্রশাসন সমস্যা করে, সেটি জানি। তবে চ্যায়ারম্যান বলেছেন স্কুলের মাঠের জন্য মাটি কাটলে কোন সমস্যা হবে না। তাই চেয়ারম্যানের কথায় মাটি কাটতে দিয়েছি। ইতিমধ্যে বেশ কিছু মাটি স্কুলের মাঠ ভরাটের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা বলেছে, আরও ১০০ ট্রাক মাটি লাগবে। ইউনিয়নের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান ছৈয়দ হোসেন যখন স্কুলের মাঠ ভরাটের জন্য নিয়ে যাবে বলেছে, তাই নিষেধ করতে পারি নাই।
তিনি আরও বলেন, তিনি কারও কাছে মাটি বিক্রি করেননি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অথবা স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে মাটি বাবদ কোন টাকা দেয়নি।
চরম্বা ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ মিয়া জানান, স্কুলের মাঠ ভরাটের জন্য পাহাড়টি কাটা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছৈয়দ হোসেন এসব মাটি স্কুলের মাঠে দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
চরম্বা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হোসাইন জানান, স্কুলের মাঠ ভরাটের জন্য মাটিগুলো ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছৈয়দ হোসেন দিয়েছেন। মাটি বাবদ কোন টাকা দেওয়া হয়নি।
চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সৈয়দ হোসেন বলেন, আমি পাহাড় কাটার কথা কাউকে বলিনি। মো. শফি নামে কাউকে চিনিও না।
ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ মিয়া বলেন, ছৈয়দ মেম্বারের নেতৃত্বে পাহাড় কাটা হচ্ছে জানতে পেরেছি। তবে এ বিষয়ে উপজেলা বা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।