লামা প্রতিনিধি
ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান ঠেকাতে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় কাফনের কাপড় গায়ে দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ইটভাটার সাথে সম্পৃক্তরা। ইটভাটায় অভিযানের খবর পেয়ে উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে অভিযানকে বাধাগ্রস্ত করা হয়। মাথায় সাদা কাপড়ের পট্টি, কারো কারো গায়ে কাফনের কাপড় পড়ে অভিযানকারী দলকে আটকে দেয়া হয়। এক পর্যায়ে আন্দোলনের মুখে ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করতে পারেননি পরিবেশ অধিদপ্তর’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজুয়ান উল ইসলাম। একই দিন উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা থেকে কাঁঠালছড়া রাস্তায়ও স্থানীয় সহস্রাধিক নারী-পুরুষ কাঁঠালছড়া এলাকার ২টি ইটভাটা রক্ষায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। অবস্থান কর্মসূচী পালনকারী বদিউল আলম, রোকেয়া, তছলিমা, জাহানারা, রবিউল ইসলামসহ অনেকে জানান, ইটভাটার সাথে উপজেলার ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত। এই মূহুর্তে ইটভাটা ভাঙলে ২০ হাজারেরও বেশি ইটভাটা ও গাড়ি শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বেন। তাই বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি না করা পর্যন্ত ইটভাটা ভাঙতে দেওয়া হবে না। ভাঙতে হলে প্রশাসনকে লাশের উপর দিয়ে গিয়ে ইটভাটা ভাঙতে হবে। প্রশাসনকে ইটভাটা না ভাঙার অনুরোধও করেন আন্দোলনকারীরা।
এর আগে গত ১৬ নভেম্বরও শ্রমিকরা আভিযানিক দলের গাড়ি বহরের সামনে কাফনের কাপড় গায়ে জড়িয়ে সড়কে শুয়ে প্রতিবাদ করেন। পরে এ ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী এরফানুল হকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবানের উপপরিদর্শক মোহাম্মদ নুর উদ্দিন। এতে আরও ৩০০-৪০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক বলেন, সকাল থেকে কাফনের কাপড়, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ৫-৬ হাজার মানুষ ফাইতং বাজারে অবস্থান করেছে। উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দেখা গেছে। উপজেলার অধিকাংশ শ্রমজীবী মানুষ এসব ইটভাটার উপর নির্ভরশীল।
তবে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের অভিযানে বাধা দানকারীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা করা হয়েছে। উচ্চ আদালতের রায় রয়েছে। এই অঞ্চলে ইটভাটা থাকার সুযোগ নেই। দীর্ঘ আইনী প্রক্রিয়া শেষে এখানে ইটভাটা উচ্ছেদে কাজ শুরু হয়েছে। এটাতে যারাই বাঁধা দিবে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্য যে কোনো সময় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে গড়ে উঠা ইটভাটা ভেঙে ফেলা হবে।











