রাঙামাটি প্রতিনিধি
রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় কৃষি ব্যাংকে কৃষি ও এসএমই লোন লোন নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ পেয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদক রাঙামাটিস্থ সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আহামদ ফরহাদ হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের অন্য সদস্যরা।
দুদক সূত্র জানায়, লংগদু উপজেলার বহু প্রান্তিক কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও কাগজপত্র জালিয়াতি করে তাদের নামে কোটি টাকার ঋণ তোলা হয়েছে।
কৃষকদের দাবি, প্রণোদনার কথা বলে তাদের ভোটার আইডির কপি ও ছবি সংগ্রহ করা হলেও পরবর্তীতে তাদের হাতে দেওয়া হয় মাত্র দুই হাজার টাকা। অথচ ঋণ তোলা হয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে।
পরবর্তীতে কৃষকদের কাছে কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ পরিশোধের নোটিশ প্রদান করা হলে তারা জানতে পারেন, তাদের একেক জনের নামে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদ ও আসল টাকা দিতে হচ্ছে। ঘটনাটি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হলে দুদকের নজরে আসে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তৎকালিন শাখা ব্যবস্থাপক বিটন চাকমা এই জালিয়াতির মূল নির্দেশদাতা। তার অধীনে একটি প্রভাবশালী দালাল চক্র ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করেছে।
অভিযান শেষে দুদক কৃষি ব্যাংকের সব নথি জব্দ করা হয়েছে। শীঘ্রই পরিপূর্ণ তদন্ত শুরু করার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দুদক কর্মকর্তা বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এজন্য পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।
উল্লেখ্য, সোনালী ব্যাংক, লংগদু উপজেলা শাখা এমন দালাল চক্র ও অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভাসান্যাদম ও বগাচতর ইউনিয়নের কয়েকশ পরিবারকে ঋণে জর্জরিত করার অভিযোগ রয়েছে। যা দুদক ও বর্তমানে পিআইবির তদন্তাধীন রয়েছে।











