রিফাত হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন মিন্নি

38

স্বামী রিফাত শরীফ হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন বরগুনা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মারুফ হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার।
পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, মিন্নি রিমান্ডে থাকার সময় পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, তার স্বামী রিফাত হত্যার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। পুলিশ সুপার বলেন, মিন্নি হত্যাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং হত্যা পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এর আগে বুধবার এ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
গত ২৫ জুন জেলা শহরের কলেজ রোডে রিফাতকে (২৩) স্ত্রী মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করে একদল লোক। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় ১৩ জনকে আটকের পর মঙ্গলবার রিফাতের স্ত্রী মিন্নিকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। আর মামলার ১ নম্বর আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।
পুলিশ সুপার গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন বলেন, মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই হত্যা পরিকল্পনার সঙ্গে মিন্নির যুক্ত থাকার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।
হামলার ঘটনার একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে শুরু হয় আলোচনা। সেখানে দেখা যায়, দুই যুবক রামদা হাতে রিফাতকে একের পর এক আঘাত করছে। তার স্ত্রী মিন্নি তাকে বাঁচানোর জন্য হামলাকারীদের ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
বরগুনার সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্রী মিন্নি হামলাকারী সবাইকে চিনতে না পারার কথা জানালেও নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী ও তার ভাই রিশান ফরাজীর নাম বলেন।
রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ মিন্নিকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানান। মিন্নি শ্বশুর দুলাল শরীফের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
দুলালের দাবি, মামলার ১ নম্বর আসামি নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির বিয়ে হয়েছিল। রিফাতকে হত্যার ঘটনায় মিন্নি জড়িত ছিলেন। আহত রিফাতকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় মিন্নি সঙ্গে যাননি। মিন্নি বলছেন, নয়নের সঙ্গে তার বিয়ে হয়নি। জোর করে কাবিনে সই নেওয়া হয়েছিল। খবর বিডিনিউজের
রিফাত হত্যার তদন্তে ‘হস্তক্ষেপ করবে না’ হাই কোর্ট : দেশজুড়ে আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার তদন্তে হাই কোর্ট কোনো হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়েছে একটি বেঞ্চ।
রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেপ্তার, রিমান্ড, জিজ্ঞাসাবাদে নেওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ আদলতের নজরে আনা হলে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাই কোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ কথা জানায়।
এ বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ আদালতে উপস্থাপন করে আইনজীবী ফারুক হোসেন এদিন বলেন, বাদীর সবচেয়ে আস্থাভাজন হিসেবে মিন্নিকে এক নম্বর সাক্ষী করা হয়েছে। অথচ তাকে ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে আদালতে তোলা হয়। আদালত ৫ দিনের রিমাÐ দিয়েছেন। এ বিষয়টি উচ্চ আদালতের দেখা উচিত। তার পক্ষে কোনো আইনজীবীও দাঁড়াচ্ছে না।
বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক তখন বলেন, পুলিশ তদন্ত করছে। এটাতে আমরা ইন্টারফেয়ার করতে পারি না। আইনজীবী তখন বলেন, তদন্ত হবে। কিন্তু সে (মিন্নি) তো সাক্ষী। তাকে রিমাÐে নেওয়া হয়েছে।
বিচারক তখন বলেন, সে তো এখন গ্রেপ্তার। পুলিশ বলছে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। এখন আপনার কিছু করার থাকলে ফৌজদারি নিয়ম মেনে করুন। প্রপার চ্যানেলে আসুন। আমরা তদন্তে ইন্টারফেয়ার করতে পারি না।
পরে আইনজীবী ফারুক হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আদালতের কাছে বলেছি, এ মামলার চার্জশিটভুক্ত পাঁচ আসামিকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। সেখানে মামলার এক নম্বর সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নেওয়ার কারণে মামলাটি অন্যদিকে চলে যেতে পারে। এ কারণে আমি বিষয়টি আদালতের নজরে এনেছিলাম।
রিফাত শরীফের স্ত্রী মিন্নিকে পুলিশ যেভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে, তা নিয়ে বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতেও আলোচনা হয়। এর পেছনে প্রভাবশালী কারও প্ররোচনা রয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন একজন সংসদ সদস্য।
এদিকে মিন্নিকে বুধবার আদালতে হাজির করার পর তার পক্ষে কোনো আইনজীবীর না দাঁড়ানো নিয়েও আলোচনা চলছে।
মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন, তিনি তিন জন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন, তাদের দাঁড়ানোর কথাও ছিল, কিন্তু তারা শুনানিতে অংশ নেননি।
ওই তিন আইনজীবী শুনানিতে না দাঁড়ানোর কারণ হিসেবে ওকালতনামায় সই না হওয়ার কথা বললেও মিন্নির বাবার সন্দেহ, ‘প্রতিপক্ষের ভয়েই’ আইনজীবীরা তার মেয়ের পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন না। বরগুনার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে বুধবার রিমান্ড শুনানির সময় মিন্নির পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় তাকেই কথা বলার সুযোগ দেন বিচারক। মিন্নি আদালতে বলেন, আমার স্বামী রিফাত শরীফ। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার চাই। হত্যাকান্ডে আমি জড়িত নই। এ মামলায় আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে।