রায়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা পেয়েছে : বিএনপি

2

পূর্বদেশ ডেস্ক

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদন্ড দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছে তাতে ‘ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা পেয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। খবর বিডিনিউজের।
গতকাল সোমবার রায় ঘোষণার পর সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।
এই রায়ের মধ্য দিয়ে কয়েকটি বিষয় প্রমাণিত হয়েছে যে, ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার যত শক্তিশালী হোক না কেন, যত দীর্ঘ সময় অপশাসন চালিয়ে যাক না কেন, যত দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র ও প্রশাসন পরিচালনা করুক না কেন, একদিন না একদিন তার নির্মম পতন হবেই। একদিন না একদিন তাকে আদালতের কাঠ গড়ায় দাঁড়াতে হবে, বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গতকাল সোমবার এ মামলার রায় ঘোষণা করে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই বিচারক হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রথম রায় হওয়া এই মামলায় আমির হোসেন রাষ্ট্রের তরফে নিযুক্ত হয়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে লড়েছেন।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও এ মামলায় প্রাণদন্ড দেওয়া হয়েছে। অপর আসামি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন নিজেকে রাজসাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করায় তাকে লঘুদন্ড পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়।
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন বলেন, এই রায় ভবিষ্যতের জন্য একটি বার্তা দিয়েছে যে, রাষ্ট্রে যাতে আর কোনোদিন কোনো ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা না হয়, রাষ্ট্রে আর কোনোদিন ফ্যাসিস্টের উৎপাদন না হয়।
রাষ্ট্রে কোনো স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কেউ পাঁয়তারা না করে, কেউ একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ না পায়, সেজন্য এই রায় একটি শিক্ষা বলে আমি মনে করি।
তিনি বলেন, আসামি ‘ফ্যাসিস্ট’ শেখ হাসিনার একটি ধারায় আমৃত্যু কারাদন্ড আর একটি ধারায় মৃত্যুদন্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে। ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদন্ড এবং সাবেক আইজিপির পাঁচ বছর কারাদন্ড রায় দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি, এই সাজা যথেষ্ট না। তবে আইনে এর ওপরে সাজা নেই।
দোর্দন্ড প্রতাপে দেড় দশক দেশ শাসন করা হাসিনা ১৫ মাস আগের ওই অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়ে এখন পালিয়ে আছেন ভারতে। আসাদুজ্জামানও ভারতে পলাতক আছেন বলে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রথম সাবেক সরকারপ্রধান, যার মাথার ওপর ঝুললো মৃত্যুদন্ডের খাঁড়া।
আর সেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকেই শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ সাজার রায় এল, যে আদালত তার সরকার গঠন করেছিল একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য।
এই ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদন্ডের রায়ের ভিত্তিতেই আওয়ামী লীগের আমলে জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ শীর্ষ নেতা এবং বিএনপির একজনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন বলেন, “আমি বলতে চাই, ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার, দুর্নীতিবাজ শাসক, কোনো নিপীড়ক-নির্যাতক শাসক, গুম-খুনের রাজত্ব যারাই প্রতিষ্ঠা করুক না কেনৃইতিহাস সাক্ষী দেয় তাদের পতন নির্মম প্রক্রিয়া হয়েছে এবং তাদের একদিন না একদিন আদালতের কাঠাগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে।