রামুতে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

39

যৌতুকলোভী স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতনে নিহত হয়েছে এক গৃহবধূ। আসল ঘটনা ধামাচাপা দিতে সাজানো হচ্ছে আত্মহত্যার নাটক। ঘটনাটি ঘটেছে সদর থানার ঈদগাঁও ইউনিয়নের কালিরছড়া পূর্বপাড়া গ্রামে। নিহত গৃহবধূ রাজিয়া বেগম (১৮) রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের বড়বিল চেংছড়ি গ্রামের নুরুল আমিনের মেয়ে। গত মঙ্গলবার দুপুরে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। ময়নাতদন্ত শেষে গত বুধবার বিকালে রাজিয়া বেগমের মৃতদেহ দাফন করা হয়েছে।
নিহত রাজিয়া বেগমের পিতা নুরুল আমিন জানান, বিগত ৪ মাস পূর্বে রাজিয়া বেগমের সাথে ঈদগাঁও কালিরছড়া পূর্বপাড়া গ্রামের বশির আহাম্মদের পুত্র মোহাম্মদ ফারুখের বিয়ে হয়। বিবাহের ১/২ মাস যেতে না যেতেই স্বামী মোহাম্মদ ফারুখ, শাশুড়ি শাহানা বেগম ও শাহানা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী জালাল আহাম্মদ মিলে যৌতুকের জন্য রাজিয়া বেগমের উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়।
তিনি আরো জানান, সর্বশেষ মোহাম্মদ ফারুখ গত ১ মার্চ ২৫ হাজার টাকা যৌতুক দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। আমি টাকা দেবার কথাও বলেছিলাম তারা অপেক্ষা না করে আমার মেয়েকে মারধর করে হত্যা করেছে। মঙ্গলবার রাত ১২টা নাগাদ মোবাইলে জানান, রাজিয়া বেগম গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে তিনি যাওয়ার পূর্বে থানা পুলিশ লাশ নিয়ে যায় এবং অপমৃত্যুর একটি দরখাস্ত লিখে রাখে এবং এতে তার স্বাক্ষর নেয় পুলিশ। বিষয়টি না বুঝেই তিনি ওই দরখাস্তে স্বাক্ষর দেন।
তিনি জানান, পুলিশ অপমৃত্যু মামলা নিলেও এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। তার মেয়েকে স্বামী ও শ্বশুড় বাড়ির লোকজন পিটিয়ে হত্যা করেছে। তিনি এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে আইনী ব্যবস্থা নেবেন।