রাজনীতির কাকদের নিয়ে বিএনপি গঠিত: তথ্যমন্ত্রী

40

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি প্রচন্ডভাবে জনসমর্থনহীন হয়ে পড়েছে। সে ভয়ে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। প্রকৃতপক্ষে তাদের যে ধস নামানো পরাজয় হয়েছে ৩০ ডিসেম্বর, এতে তাদের নেতাদের ওপর কর্মীদের আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি গতকাল শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শিশু অধিকার বিষয়ক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন। সেমিনারে তথ্যমন্ত্রী শিশুদের কাঁধে বইয়ের বোঝা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ঢাকা সিটি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র হত্যা করেছিল বিএনপি, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। তিনি রাতের অন্ধকারে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে রাজনৈতিক ও রাজনীতির কাকদের সমন্বয়ে তিনি বিএনপি গঠন করেছিলেন। আপনারা জানেন, খাবারের উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে দিলে যেমন অনেক কাক চলে আসে খাওয়ার জন্য, জিয়াউর রহমানও ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে দিয়েছিলেন। আজ যারা বিএনপির বড় বড় নেতা, তারা রাজনীতির মাঠের কাক, রিজভী আহমেদসহ। তিনি বলেন, ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট গ্রহণ করার জন্যই তারা বিএনপি করেছিলেন। তাদের প্রত্যেকের অতীত কিন্তু ভিন্ন দল। মির্জা ফখরুল ইসলামের দল ভিন্ন। চট্টগ্রামের যারা নেতা তাদের দল ভিন্ন। আমি নাম বলতে চাই না। কেউ ব্যবসা করতেন, আবার কেউ অন্য দল করতেন। মওদুদ আহমেদের দল ভিন্ন। খোন্দকার মোশারফ হোসেনের দল ভিন্ন। বিভিন্ন দল থেকে রাজনীতির কাকদের নিয়ে যে দল গঠিত হয়েছে সেটির নাম বিএনপি। সুতরাং তারা নানা কথা বলছে। বিএনপির বড় বড় নেতারা রাজনীতির মাঠের কাক বলেও মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৩২ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছে। কোনো জায়গায় কোনো হাঙ্গামা হয়নি, গন্ডগোল হয়নি। মাত্র এক বছরের জন্য মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। উপ-নির্বাচনে ভোটার টার্ন আউট কম হয়। এক্ষেত্রে মেয়র ও কাউন্সিলররা নির্বাচিত হয়েছেন এক বছরের জন্য। সে কারণে ভোটারের উপস্থিতি কম ছিল।
তিনি বলেন, দ্বিতীয়ত তিন দিনের ছুটি পেয়েছে মানুষ। সে কারণে অনেকে বাড়ি চলে গেছে। সকালে যখন ভোটাররা ভোট দিয়ে যায় তখন ঢাকা শহরে প্রচন্ড বৃষ্টি হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ছিল। সব মিলিয়ে যে ভোটার উপস্থিতি, অত্যন্ত সন্তোষজনক বলে আমি মনে করি’।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা নির্বাচন অনেক জায়গায় খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে। অনেক প্রার্থী আছে। কয়েক ধাপে হচ্ছে। সেখানে প্রচুর ভোটারের উপস্থিতি হবে।
এর আগে বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিলের ‘শিশুর অধিকার: প্রেক্ষিত হালের বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, শিশুদের চেয়ে স্কুলের ব্যাগের ওজন বেশি। শিশুর কাঁধে বই-খাতার বোঝা কমাতে হবে। কেজি স্কুলে চার বছর লাগে ওয়ানে উঠতে। পৃথিবীর কোথাও এ সিস্টেম নেই। এ সিস্টেমের অবসান হওয়া প্রয়োজন। ইউরোপে কোন বয়সে কোন ক্লাসে পড়বে সেটি নির্ধারিত থাকে। আমাদেরও তা করা উচিত।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, শহরে শিশুরা কার্টুন দেখে খাবার খাচ্ছে। মা-বাবা টেবিলে খাচ্ছে। আমি মনে করি একসঙ্গে খাওয়া উচিত। আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে সমাজকে বের করে আনতে হবে। এখন শিশুরা আইফোনে খেলে, নয়তো কার্টুন দেখে। শিশুদের মেধার পাশাপাশি মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। তারা কী হতে চায় সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি বলেন, শিশুদের উদ্বুদ্ধ করা যায় কিন্তু বাধ্য করা ঠিক নয়। শিশুশ্রম বড় সমস্যা। গৃহকাজে, শিল্প কারখানায় শিশুশ্রম দেশের আইনে সমীচীন নয়। তাদের প্রতি ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। একইসঙ্গে শিশুদের মনন তৈরিতে গুরুত্বারোপ করতে হবে। আমার শিক্ষকদের দেওয়া মূল্যবোধ এখনো প্রেরণা জোগায়। সব মানুষ স্বপ্ন দেখে। সব মানুষের স্বপ্ন পূরণ হয় না। প্রচেষ্টা থাকলে কিছু স্বপ্ন পূরণ করা যায়।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা যে স্বপ্নের বাংলাদেশ রচনা করতে চাই, বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছেন তা পূরণে মেধাবী, বুদ্ধিদীপ্ত, মূল্যবোধ ও দেশাত্মবোধে জাগ্রত প্রজন্ম চাই। নয়তো উন্নত জাতি গঠন সম্ভব নয়।
সেমিনার উদ্বোধনকালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, সুযোগ বড় জিনিস। সেটি হাতছাড়া করা যাবে না। বঙ্গবন্ধু কন্যার উন্নয়নের সুফল মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাতে হলে মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের মানুষ হতে হবে, অমানুষ নয়। মানুষ হলে মানবাধিকার নিশ্চিত হবে।
কাউন্সিলের সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে মুখ্য আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নূর-ই-আকবর চৌধুরী।
আলোচনা করেন জাতিসংঘ শিশু তহবিলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কর্মকর্তা মাধুরী ব্যানার্জি, কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল উদ্দিন আল আজাদ, বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের মহাব্যবস্থাপক নিতাই কুমার ভট্টাচার্য, শিক্ষাবিদ হাসিনা জাকারিয়া বেলা, কাউন্সিলের কার্যনির্বাহী সদস্য রেহানা চৌধুরী প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার আনজুমান বানু লিমা।