রাজধানীর এফআর টাওয়ার আগুন কেড়ে নিল ১৯ প্রাণ

98

পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ৩৬ দিনের মাথায় আগুনে পুড়ল অভিজাত এলাকা বনানীর বহুতল ভবন এফআর টাওয়ার। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় গতরাত ১০টা পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার নাগরিকসহ ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মৃত্যু হয়েছে আগুনে পুড়ে, ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে অথবা যাদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বাঁচার চেষ্টায় লাফিয়ে পড়ে। এ ঘটনার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে জানিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগীয় উপ পরিচালক দেবাশিষ বর্ধন বলেন, “ভবনের ভেতরে উদ্ধার কাজ চলছে, সেখানে আরও কিছু মৃতদেহ আছে।” কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ের ৩২ নম্বর হোল্ডিংয়ে ২২ তলা ওই বাণিজ্যিক ভবনের সবগুলো ফ্লোরেই দোকান ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিস। সপ্তাহের শেষ দিন দুপুরে লাঞ্চ ব্রেকের আগে আগে সব অফিসেই তখন দারুণ ব্যস্ততা।
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা এরশাদ হোসাইন জানান, বেলা ১২টা ৫২ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে তাদের ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে। পরে আরও ১২টি ইউনিট তাদের সঙ্গে যোগ দেয়।
চার ঘণ্টা চেষ্টার পর বিকাল পৌঁনে ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার কথা জানান ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। তবে তখনও কয়েকটি ফ্লোর থেকে আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছিল, ধোঁয়া বের হচ্ছিল ভবনের বিভিন্ন অংশ থেকে। অগ্নিকান্ড থেকে বেঁচে ফেরা কেউ কেউ বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুন লাগার ধারণা দিলেও দেবাশিষ বর্ধন অগ্নিকান্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলতে চাননি।
বিকালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার আগে আমরা আগুনের উৎস বা ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য বলতে পারব না।”
অগ্নিকান্ডে সবচেয়ে বেশিক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সপ্তম থেকে দশম তলা। ওই চারটি ফ্লোরে বিভিন্ন অফিসে সোফাসহ আসবাবপত্র থাকায় প্রচুর ধোঁয়া সৃষ্টি হয়। তাতে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে বলে জানান দেবাশিষ বর্ধন। তিনি বলেন, ওই ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না- তা তদন্ত শেষ হলে বলা যাবে।
গিয়াস উদ্দিন নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই ভবনের সপ্তম তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হওয়ার পর তা উপরের দিকে ছড়াতে থাকে। আতঙ্কে বিভিন্ন ফ্লোরে শুরু হয়ে যায় হুড়োহুড়ি, তাতে বেশ কয়েকজন আহতও হন। ততক্ষণে ভবনের সামনে বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। টেলিভিশনগুলো ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি সম্প্রচার শুরু করে। দূর থেকেও বনানী এলাকার আকাশে ধোঁয়ার কুন্ডলী উঠতে দেখা যায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আমাদের একজন প্রতিবেদক জানান, ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা পানি ছিটিয়ে সপ্তম তলার আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার পর উপরের ফ্লোর জ্বলতে দেখা যায়। সেখানে পানি ছিটানোয় আগুন কমে এলে আবার সপ্তম ও অষ্টম তলায় আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
এদিকে উপরের ফ্লোরগুলোর অনেকে বাঁচার আশায় ছাদে উঠে যান। ১২ তলায় কাচ ভেঙে বেশ কয়েকজনকে হাত নেড়ে উদ্ধারকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে দেখা যায়। এরই মধ্যে বাঁচার মরিয়া চেষ্টায় বিভিন্ন ফ্লোর থেকে লাফিয়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত বা নিহত হন বেশ কয়েকজন। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা জনতা আর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা চিৎকার করে নিষেধ করেও তাদের থামাতে পারেননি।
এফআর টাওয়ারের একপাশের আহমেদ টাওয়ার এবং অন্যপাশের আওয়াল সেন্টারেও তখন আগুন ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দুই ভবনের বিভিন্ন ফ্লোরে থাকা বাসিন্দারাও ততক্ষণে বেরিয়ে এসেছেন। ওই দুই ভবনে থাকা দুরন্ত টিভি ও রেডিও টুডের সরাসরি সম্প্রচারও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
মিজান নামের একজন নিরাপত্তাকর্মী জানান, এফআর টাওয়ারের নিচতলা থেকে তিন তলা খাবার, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান এবং একটি মানি এক্সচেঞ্জ রয়েছে। তৃতীয় থেকে অষ্টম তলা পর্যন্ত রেস্তোরাঁ আর একটি কনভেনশন সেন্টার। এরপর নবম তলা থেকে উপরের ফ্লোরগুলোতে বিভিন্ন বায়িং হাউস ও ট্র্যাভেল এজেন্সি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিস। তার মধ্যে উই মোবাইল ও আমরা নেটাওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার লিংক থ্রির অফিসও রয়েছে।
ঠিক কতগুলো প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ওই ভবনে ছিল তা জানা না গেলেও সব মিলিয়ে ওই ভবনে এক হাজারের বেশি মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করত বলে নিরাপত্তাকর্মী মিজানের ধারণা। অগ্নিকান্ডের সূচনার ঘণ্টাখানেক পেরিয়ে যাওয়ার পর সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর উদ্ধারকর্মীরাও অভিযানে যোগ দেন। হেলিকপ্টার থেকেও ওই ভবনের ওপর পানি ছিটাতে দেখা যায়। আইএসপিআরের সহকারী পরিচালক রাশেদুল ইসলাম খান জানান, সামরিক বাহিনীর পাঁচ হেলিকপ্টার এ কাজে অংশ নেয়।
বেলা ৩টার দিকে আগুনের তীব্রতা কমে আসার পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা মই লাগিয়ে উপরের ফ্লোরগুলোতে আটকা পড়া মানুষকে নামিয়ে আনতে শুরু করেন। তখনও অষ্টম তলায় দেখা যাচ্ছিল আগুনের শিখা। টেলিভিশনে সরাসরি স¤প্রচার করা সেইসব দৃশ্যে ভাঙা কাচের ওপারে দাঁড়ানো অনেককে সাহায্যের আকুতি জানাতে দেখা যায়।
ভবনের সামনে উৎকণ্ঠিত ভিড়ের মধ্যে মহিউদ্দিন নামের একজন জানান, তার ভাই মোতাহার এফআর টাওয়ারের ১৪ তলায় একটি বায়িং হাউজে কাজ করেন। বেশ কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে তিনি ভেতরে আটকা পড়েছেন। ফোনে ভাইয়ের সঙ্গে তার কথাও হয়েছে।
কাফরুল থেকে আসা তিথি নামের এক তরুণী জানান, তার খালাতো বোন তানজিলা মৌরি এফআর টাওয়ারের দশম তলার ট্র্যাভেল এজেন্সি হেরিটেজ এয়ার এক্সপ্রেসে কাজ করেন। আগুন লাগার পরপরই বাসায় ফোন করে আকা পড়ার কথা জানান মৌরি। কিন্তু বনানীতে আসার পর তারা আর যোগাযোগ করতে পারছেন না।
ইরফান নামে একজন জানান, তার বাবা ১৪ তলার একটি অফিসে কাজ করেন। আগুন লাগার পর তিনি ছাদে উঠে ফোন করে খবর দিয়েছিলেন। সেই খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ল্যাডারে উঠে ১৪ তলা পর্যন্ত দেখেছেন ইরফান। তিনি বলেন, আমি দেখেছি ভেতরে অনেকে আটকা পড়ে আছে। কাচ ভাঙতে না পারায় তারা বের হওয়ার চেষ্টাও করতে পারছে না। ধোঁয়ার কারণে অনেকে অচেতন হয়ে গেছে।
ভবনের সামনে জড়ো হওয়া জনতার অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছিলেন, ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের দেরির কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে বেশি। তবে ঘটনাস্থলে অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর কর্মীদের চেষ্টায় কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। মই দিয়ে কয়েক দফায় অন্তত ৪০ জনকে তারা ওই ভবন থেকে নামিয়ে আনেন। বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে বিভিন্ন ফ্লোরে ঢুকে তল্লাশি শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক কর্নেল এসএম জুলফিকার রহমান সে সময় সাংবাদিকদের বলেন, “শতাধিক মানুষকে আমরা রেসকিউ করেছি। ভেতরে কেউ আটকা থাকলে বা হতাহত থাকলে আমরা উদ্ধার করব। সেই সঙ্গে ডাম্পিংয়ের কাজও চলবে।”
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক : রাজধানীর বনানীতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে হতাহতের ঘটনায় শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারা নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেছেন। তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া অগ্নিকান্ডের খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী আগুন নেভানো ও উদ্ধার তৎপরতায় সশস্ত্র বাহিনীসহ ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সমন্বয়ের মাধ্যমে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দেন।
রাজধানীর বনানীর বহুতল ভবনে এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। গতকাল বিকালে ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের এক সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বনানীর বহুতল ভবনে এফআর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।
৭ কর্মীকে খুঁজছে হেরিটেজ এয়ার এক্সপ্রেস : ঢাকার বনানীর যে বহুতল ভবনে অগ্নিকান্ড ঘটেছে, তার ১০ তলায় থাকা হেরিটেজ গ্রুপের সাত কর্মীর সন্ধান না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা।
সন্ধ্যায় হেরিটেজ এয়ার এক্সপ্রেসের এক্সিকিউটিভ অ্যাকাউন্ট্যান্ট আলমগীর বলেন, “যখন আগুন লেগেছে তখনই যে যার মতো দৌড়াদৌড়ি শুরু করি। আমি নিচ দিয়ে দৌড়ে বের হয়ে আসি। আমার মতো কেউ কেউ নিচ দিয়ে, আবার কেউ ছাদে চলে যায়। এখনও ছাদে আটকা আছে কয়েকজন, তারা আমাদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করেছেন। তবে সাতজনের সাথে কোনো যোগাযোগ হয়নি।
এই সাতজন হলেন- হেরিটেজ এয়ার এক্সপ্রেসের কর্মকর্তা রুমকি, জেসমিন সুলতানা, তানজিলা মৌলি, জেবুন্নেছা, নাহিদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান ও আতাউর রহমান।
আগুন লাগার সময় ১০ তলায় তাদের দৌড়িদৌড়ি করতে দেখেছেন বলে জানান আলমগীর। সাত ঘণ্টা পরও এই সাত সহকর্মীর খোঁজ না পেয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
আগুন লাগার সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে হেরিটেজ এক্সপ্রেসের ওমরাহ প্যাকেজ বিভাগের কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামালকে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জীবিত উদ্ধার করে। ২২ তলাবিশিষ্ট এফ আর টাওয়ারের দশম তলায় হেরিটেজ এয়ার এক্সপ্রেস লিমিটেড ও হেরিটেপ গ্রুপের কার্যালয়। আগুন লাগার সময় পাশাপাশি এই দুই অফিসে ২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন বলে জানান আলমগীর।
রাজধানীর বনানীর বহুতল ভবন এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডে আহত প্রায় অর্ধশত ব্যক্তিকে কুর্মিটোলা হাসপাতাল, ইউনাইটেড হাসপাতাল, অ্যাপোলো হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকল কলেজ হাসপাতাল, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সন্ধ্যা নাগাদ কুর্মিটোলা হাসপাতালে ১৫ জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয়জন, ইউনাইটেড হাসপাতালে ১০ জন, অ্যাপোলো হাসপাতালে নয়জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঁচজন ও বনানী ক্লিনিকে দুইজন ভর্তি হয়েছেন বলে এসব হাসপাতাল-ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
খবর বিডিনিউজ/বাংলানিউজ

এফআর টাওয়ারের
নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ
ব্যবস্থা ছিল না

রাজধানীর বনানীতে আগুন লাগা বহুতল ভবন এফ আর টাওয়ারের নিজস্ব কোনও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (ডেভেলপমেন্ট এন্ড প্ল্যানিং) সিদ্দিক মো. জুলফিকার আহমেদ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাকবলিত ভবনটির সামনে ওই অগ্নিকান্ডের উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেওয়া এই ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা সংবাদিকদের একথা জানান।
দুপুর পৌনে ১টার দিকে আগুন লাগার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এফ আর টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে এখন পর্যন্ত ৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
জুলফিকার আহমেদ বলেন, ‘২২ তলা এই বিল্ডিংয়ের অগ্নি নির্বাপণের জন্য নিজস্ব ব্যবস্থা ছিল না। ভবনের যতদিন নিজস্ব সক্ষমতা না থাকবে ততদিন এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে। হতাহতের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।
এফ আর টাওয়ারের আগুন নিয়ে তিনি বলেন, আগুন ৯৫ ভাগ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ভেতরে তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকায় কিছু জায়গায় আগুন জ্বলছে। আমাদের ইউনিটগুলো পানি ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা বলেন, আমাদের রেসকিউ টিম সার্চ করার জন্য প্রতিটি তলায় যাচ্ছে। ভেতরে কেউ হতাহত থাকলে তাদের উদ্ধার করা যাবে। এ পর্যন্ত ৬৮ জন আহত পেয়েছি। উদ্ধার কাজ শেষে হতাহতের সঠিক সংখ্যা বলা যাবে।
তিনি জানান, মৃতদেহ হাসপাতালে শনাক্ত করা হয়েছে। এই সংখ্যা বাড়তে পারে। ভবনে পূর্ণাঙ্গ তল্লাশির জন্য ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার দল প্রবেশ করেছে।
জুলফিকার আহমেদ জানান, পাঁচ থেকে সাত তলা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবার নয়-দশতলা থেকে শুরু করে উপরে দিকে তলাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।
তিনি বলেন, কী কারণে আগুন লেগেছে, তা এখনি নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। তবে ধারণা করা যাচ্ছে, এ ধরনের ভবনে সাধারণত বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ভবন তৈরির সময় বিল্ডিং কোড না মেনে তৈরি করা হয়। যে কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা আগুন লাগার কারণ, করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ করব। এ ধরনের অবহেলা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সময় এসেছে। আর ছাড় দেয়া যাবে না।
তিনি আরও জানান, উদ্ধারে সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, রেড ক্রিসেন্ট সহ অনেক স্বেচ্ছাসেবক কাজ করেছে। বার্তা সংস্থার খবর

আগুন থেকে
বাঁচতে মরিয়া
লাফ

ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের পর বনানীর বহুতল ভবন এফ আর টাওয়ার থেকে লাফিয়ে পড়ে হতাহত হয়েছেন অনেকে। ২২ তলা এই বাণিজ্যিক ভবনে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে আগুন লাগে। তখন ভবনের বিভিন্ন অফিসে অসংখ্য কর্মী ছিল।
সপ্তম ও অষ্টম তলায় আগুন লাগার পর যখন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছিল উপরে, তখন প্রাণ বাঁচাতে উপরের বিভিন্ন তলা থেকে বেশ কয়েকজনকে লাফিয়ে পড়তে দেখা যায়, কেউ কেউ তার বেয়ে নামতে গিয়েও পড়ে যান।
এই অগ্নিকান্ডে অনেকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে, যাদের পাঁচজনই লাফিয়ে পড়ে আঘাত পেয়ে মারা যান। এদের মধ্যে শ্রীলঙ্কার এক নাগরিকও রয়েছেন। ইউনাইটেড হাসপাতালে যে তিনজনের লাশ গেছে, তারাও নিহত হন লাফিয়ে পড়ে।আগুন লাগার পর ভবনের উপরের তলাগুলোতে আটকা পড়েন অনেকে, কাচ ভেঙে অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর কাছে প্রাণ বাঁচানোর আকুতি জানাতে দেখা গেছে তাদের। এদের অনেককে অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর কর্মীরা মই দিয়ে উদ্ধার করেন। অর্ধ শতের মতো আহত হয়ে হাসপাতালে গেছেন।
আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত চলবে উদ্ধার কাজ : রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারে উদ্ধার ও সার্চ অপারেশন আজ শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন। গতকাল রাতে ঘটনাস্থলে সামগ্রিক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, শুক্রবার সকাল ১০টার পর এফ আর টাওয়ার পুলিশের তত্ত্বাবধানে ছেড়ে দেওয়া হবে। আগুনের তীব্রতা ৮-১০ম তলায় বেশি ছিল জানিয়ে ফায়ারের ডিজি বলেন, কী কারণে বা কোন জায়গা থেকে আগুনের সূত্রপাত তা তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে। ভবনটিতে অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্রের যথেষ্ট ব্যবস্থা ছিল না। যেগুলো ছিল সেগুলো ইউজঅ্যাবল ছিল না। এমনকি সে পাইপটি আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যবহার হয় সেটিও পুড়ে গেছে।