রাউজান প্রতিনিধি
রাউজানে শীর্ষ সন্ত্রাসী মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি মেজর ইকবাল নামে পরিচিত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এর আগে গত সোমবার রাতে রাউজানের সুলতানপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইকবাল ওই গ্রামের আবদুল কুদ্দুসের ছেলে।
গতকাল দুপুরে এক প্রেস ব্রিপিংয়ে পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৪০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু মামলায় তিনি জেলও খেটেছেন। বর্তমানে মামলা বিচারাধীন রয়েছে ১১টি। যার মধ্যে ছয়টি হত্যা মামলা। সর্বশেষ ২০১০ সালে সাত বছর জেল খেটে তিনি জামিনে বের হন। এরপর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছিলেন। কয়েক বছর আগে তিনি এলাকায় ফিরেছেন।
পুলিশ জানায়, ১৯৮৯ সালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের তখনকার সাধারণ সম্পাদক ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ বাবর ও রাউজান কলেজ ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) মজিবুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এসব খুনের ঘটনার মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসে মেজর ইকবালের নাম। ১৯৯৩ সালে পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকতার হোসেনকে ব্রাশফায়ারে হত্যার প্রধান আসামিও করা হয় মেজর ইকবালকে। রাউজানে দুই ভাই টিটু ও মিঠুকে একসঙ্গে হত্যা, মুক্তিযোদ্ধা নিহার কান্তি বিশ্বাসকে হত্যা, ছাত্রলীগের জেলা নেতা ইকবাল ও জামিল এবং ফটিকছড়ির শ্যামল ও আমান নামের দুই ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা মামলার আসামি ছিলেন ইকবাল।
পুলিশ জানায়, অস্ত্রসহ বাড়িতে অবস্থান করছেন এমন খবরে ইকবালকে ধরতে অভিযান চালানো হয়। তবে তার কাছ থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি। অস্ত্র থাকার কথাও তিনি স্বীকার করেননি। তাকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, মেজর ইকবাল নামে পরিচিত এই সন্ত্রাসীকে পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের সোপর্দ করা হলে, আদালত জেল হাজতে প্রেরণ করেন।










