রাউজানের নোয়াপাড়ায় প্রধান শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা

2

রাউজান প্রতিনিধি

রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আসমা বেগমের অবসরজনিত বিদায় উপলক্ষে অনাড়ম্বর আবেগঘন বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষক, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শিক্ষক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষক আসমা বেগম ছিলেন একজন দক্ষ, নিবেদিতপ্রাণ ও প্রজ্ঞাবান শিক্ষক। তাঁর মতো সৎ ও পরিশ্রমী শিক্ষক পাওয়া ভাগ্যের বিষয়। তাঁর বিদায়ে নোয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একজন আদর্শ শিক্ষককে হারাচ্ছে’।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত রাউজান উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সীমা রাণী সেন বলেন, ‘আসমা বেগম তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে সততা, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা দিয়ে শিক্ষার্থীদের মন জয় করেছেন। তিনি আমাদের সকলের অনুকরণীয়’।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তৃষ্ণা শীলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দক্ষিণ রাউজান প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি পবন চক্রবর্তী এবং সাধারণ সম্পাদক সুজন দাশ গুপ্ত।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শ্যামল কান্তি দে। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রত্না মহাজন, টিংকু চৌধুরী, দীপস বড়ুয়া, সনজিৎ মহাজন, শিল্পী সেন, জোবায়ের ফারুক, রূপম চক্রবর্তী, রাউজান প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি তৈয়ব চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক একে বাবর প্রমুখ।
সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মলয় কুমার দে, সাধন চন্দ্র বড়ুয়া, সত্য রঞ্জন দাশ, অসীম বড়ুয়া, মিল্টন দাশ, সৌমেন বড়ুয়া।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দের মধ্যে ছিলেন বাসনা দে, রুম্পা চৌধুরী, স্বর্ণলতা দাশগুপ্ত, সঞ্জুশ্রী চৌধুরী, সুমিত্রা চৌধুরী, লিপি রুদ্র, বিকাশ দাশ, নীপা দে ও পিয়াংকা দাশগুপ্ত।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষক আসমা বেগমের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, ‘তিনি কেবল একজন শিক্ষক নন, ছিলেন আমাদের পথপ্রদর্শক ও আদর্শ মানুষ’।
অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আসমা বেগমকে সম্মাননা স্মারক ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অতিথিদের চোখে ছিল আবেগের ছোঁয়া।