রহস্যময় ট্রেনে তিন হাজার কিমি. পথ পাড়ি কিমের

39

ভিয়েতনামের হ্যানয়ে বুধ ও বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠকে বসবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন। এই বৈঠক উপলক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিমান এয়ারফোর্স ওয়ানে করে ভিয়েতনামে আসবেন ট্রাম্প। তবে কিম ট্রাম্পের পদ্ধতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এই বৈঠকে যোগ দিতে কিম ভিয়েতনামে পৌঁছবেন ট্রেনে চেপে।
গত শনিবার রাতে কিম পিয়ংইয়ং থেকে ভিয়েতনামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। স্থানীয় সময় ওইদিন রাত ৯টায় তিনি চিনের সীমান্তবর্তী শহর ড্যানডংয়ে পৌঁছন। পিয়ংইয়ং থেকে চীনের মধ্যে দিয়ে ভিয়েতনামে পৌঁছতে কিম পাড়ি দেবেন তিন হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ। এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে তার সময় লাগবে ৬০ ঘন্টারও বেশি।
কিমের সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন তার বোন কিম ইয়ো জং এবং তার অন্যতম প্রধান আলোচক প্রাক্তন জেনারেল কিম ইয়ং চোল। এর আগে কয়েকবার চীন সফরে বিশেষ ট্রেন ব্যবহার করেছেন কিম। বিমান ভ্রমণের ব্যাপারে কিম পরিবারের অনীহা রয়েছে। কিম জং উনের পিতা প্রয়াত কিম জং ইলও একাধিকবার ট্রেনে করে চিন সফর করেছেন।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কিমের ট্রেনের ভেতরের ফুটেজ খুব কমই ব্যবহার করেছে। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত নানা স্থির ও ভিডিও চিত্রে এই ট্রেনের ভেতরের বিভিন্ন দৃশ্য প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৫ সালে প্রকাশিত এক ভিডিওতে একটি সম্মেলন কক্ষ দেখানো হয়েছিল। বলা হয়ে থাকে, এই ট্রেনে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে।
সম্মেলন কক্ষ, ডিনার কক্ষ, ব্যাংকুয়েট হল ছাড়াও আছে অফিস ঘর। ট্রেনে বসেই রাষ্ট্রীয় সব কাজ করতে পারেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা। এমনকি উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতার ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য দেশটির বিভিন্ন এলাকায় তৈরি করা হয়েছে মোট ২০টি বিশেষ রেলস্টেশন। ট্রেনবহরকে নজরে রেখে আকাশে উড়তে থাকে সামরিক হেলিকপ্টার ও উড়োজাহাজ। গত জুনের শীর্ষ বৈঠকে দু’পক্ষ মৌখিকভাবে উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে সম্মত হলেও এখন পর্যন্ত এই ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি।
পিয়ংইয়ং অস্ত্র ধ্বংস করার আগে নিষেধাজ্ঞার প্রত্যাহার চায়। অন্যদিকে ওয়াশিংটন বলছে, পরমাণু অস্ত্র পুরোপুরি ধ্বংস করার আগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয়। এই অবস্থায় আসন্ন হ্যানয় বৈঠকে দু’পক্ষ পরস্পরকে কতটা ছাড় দিতে পারে তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন পর্যবেক্ষকরা।