‘যে কেউ’ এরকম সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করতে পারে: খসরু

1

কদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে বাসে আগুন ও বোমা ফাটানোর ঘটনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ মনে করেন, এরকম সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আওয়ামী লীগ কেন, ‘যে কেউ করতে পারে’। কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা আওয়ামী লীগের ঢাকা লকডাউন কর্মসূচি ঘিরে এরকম অগ্নিসংযোগ ও বোমা হামলার ঘটনায় বিভিন্ন স্থান থেকে দলটির কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে গুলশানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈঠকে পর সাংবাদিকদের সামনে আসেন আমীর খসরু। খবর বিডিনিউজের
তার কাছে বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু, জাতীয় নির্বাচন, বিএনপির প্রার্থী তালিকা, আওয়ামী লীগের বিষয়ে জানতে চান সাংবাদিকরা। আগামী ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি রেখে ইতোমধ্যে প্রচার অভিযান শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন। তবে গণঅভ্যুত্থান দমাতে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার না পর্যন্ত দলটির সব ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় মে মাসে। নির্বাচন কমিশন দলটি নিবন্ধন স্থগিত করায় তাদের নির্বাচনের পথও বন্ধ। একই অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান দলটির সভাপতি শেখ হাসিনার বিচারের রায় কোন দিন হবে, তা জানানো হবে বৃহস্পতিবার। সেদিন ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি নেতা আমীর খসরু বলেন, আওয়ামী লীগ তো নির্বাচনের রেইসেও নাই, দেশেও নাই, আওয়ামী লীগের নেত্রীও নাই, তাদের কর্মকান্ড স্থগিত আছে। এরকম সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আওয়ামী লীগ কেন, যে কেউ করতে পারে। সন্ত্রাসী কর্মকান্ড থেকে যদি আপনি রক্ষা চান, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে সঠিক। তিনি বলেন, কারা করছে এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড তাদের খুঁজে বের করতে হবে। আমরা আশা করছি, সরকার এই বিষয়ে আরও বেশি সচেষ্ট থাকবে, আরো ভালোভাবে এটার মোকাবেলা করতে হবে। নির্বাচনের আগে কেউ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে সেটা বিশ্বাস করার ‘কোনো কারণ নেই’, বলেন তিনি।
সকাল ১১টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ইউরোপী ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ছাড়াও দলের যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে সফল জাতীয় নির্বাচন দেখতে চায়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, নির্বাচনটা যাতে সফলভাবে হয় তারা সেদিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এই মুহূর্তে তাদের মনোযোগটা হচ্ছে নির্বাচনকে সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করা। যেহেতু তাদের একটা বড় সম্পৃক্ততা এই নির্বাচনে আছে। তারা চায় এই নির্বাচনটা অবাধ, সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হোক এবং বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা ফিরে আসুক।