আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের আয়োজনে এবং পিএইচপি ফ্যামিলির পৃষ্ঠপোষকতায় ২৪তম আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলন গতকাল শনিবার বিকেলে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। দেশি-বিদেশি খ্যাতনামা ক্বারীদের মোহনীয় সুরে কুরআন তিলাওয়াত মুগ্ধ হয়ে শুনেন হাজারো দ্বীনদার শ্রোতা জনতা। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও চেয়ারম্যান এবং পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা ক্বারীদের মধ্যে কুরআন তিলাওয়াত করেন শাইখ আহমদ আল জাওহারি-মিসর, ক্বারী গোলাম নেযহাদ-ইরান, ক্বারী আনোয়ারুল হাসান শাহ ক্বাদেরী-পাকিস্তান, ক্বারী নাযীর আসগার-ফিলিফাইন এবং বাংলাদেশের ক্বারী শায়খ আহমদ বিন ইউসূফ আলহাযহারী। নাতে রাসূল (দ.) পরিবেশন করেন মুহাম্মদ মুনির উদ্দীন কাদেরী।
সূফি মিজানুর রহমান বলেন, বিশ্বে সর্বাধিক পঠিত ঐশীগ্রন্থ হচ্ছে কুরআন মজিদ। মানুষকে সুপথকে দেখাতে এবং কল্যাণের পথে প্রতিষ্ঠিত রাখতে প্রিয় নবীর (দ.) ওপর কুরআন মজিদ অবতীর্ণ করেন মহান আল্লাহ পাক। ইনসাফভিত্তিক মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কুরআন সুন্নাহর নির্দেশনা ও বাণী সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে। মানবজাতিকে আল্লাহ পাক তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। মানুষের মাঝে অসীম শক্তি সম্ভাবনা ও প্রতিভা বিদ্যমান। লোভ লালসা, মিথ্যা গরিমা অহংবোধ, অহংকার ও মানুষের প্রতি বিদ্বেষভাব মানুষের পতন ডেকে আনে। এই মন্দঅভ্যাস থেকে হৃদয়কে পবিত্র করে পরিশুদ্ধি অর্জন করতে হবে। হৃদয়কে পবিত্র করতে পারার মধ্যেই জীবনের পরিপূর্ণ কামিয়াবি ও সাফল্য নিহিত। কুরআন মজিদের এই নূর বা জ্যোতি আমাদের জীবনকে সফলতার শীর্ষে নিয়ে যাবে। সূফি মিজানুর রহমান বলেন, আপনার সন্তানকে উচ্চ শিক্ষিত ডাক্তার ডক্টরেট যাই করুন না কেন, তাকে একজন ভালো সৎ নীতিবান আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। যুব তরুণদেরকে নবী ওলী মনীষীদের আদর্শের দীক্ষা দিতে পারলে তারা ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। তিনি আল্লামা জালাল উদ্দীন আলকাদেরীর (রহ.) একটি উক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আল্লাহ পাক যার কল্যাণ চান তাকে নেক কাজ করার সুযোগ দেন এবং ওলী বুজুর্গদের সান্নিধ্য অর্জন তার জন্য সহজ করে দেন। সুফি মিজানুর রহমান বলেন, সম্মেলনে পরিচালনা পর্ষদের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দিলশাদ আহমেদ কর্তৃক নির্মিত বিগত কয়েক বছরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলনের ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়।
ড. আল্লামা জাফর উল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ক্বিরাত সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ অছিয়র রহমান আলকাদেরী, মাহফিলের প্রধান সমন্বয়ক আলী হোসেন সোহাগ, জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের খতিব আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মুহাম্মদ আলাউদ্দীন, পরিচালনা পর্ষদের সিনিয়র সহসভাপতি মুহাম্মদ খোরশেদুর রহমান, পর্ষদের সেক্রেটারি জেনারেল প্রফেসর কামাল উদ্দীন আহমদ, রাজনীতিবিদ সৈয়দ আজম উদ্দীন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, ইদ্রিচ মিয়া চেয়ারম্যান, অধ্যক্ষ আল্লামা রফিক উদ্দীন সিদ্দিকী। শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আনোয়ারুল হক, মুহাম্মদ সিরাজুল মুস্তফা, মাওলানা শাহ নূর মুহাম্মদ আলকাদেরী, জাফর আহমদ সওদাগর, আব্দুল হাই মাসুম, দিলশাদ আহমেদ, অধ্যক্ষ অহিদুল আলম, মুহাম্মদ আবুল মনসুর সিকদার, হাফেজ ছালামত উল্লাহ, মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম, হাফেজ মাওলানা আহমদুল হক, হাফেজ ক্বাজী মাওলানা জালাল উদ্দীন, মাইনউদ্দিন হোসেন মিঠু, আবু সাঈদ মুহাম্মদ হামেদ, খোরশেদ আলী চৌধুরী, মুহাম্মদ শাহেদ করিম, নাজিব আশরাফ, মুহাম্মদ জহির, মুহাম্মদ নাঈম সহ বিভিন্ন দরবারের সাজ্জাদানশীন, ওলামা মাশায়েখ, বিভিন্ন কলেজ মাদ্রাসা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ-শিক্ষকবৃন্দ এবং নানা স্তরের ওলামায়ে কেরাম। সম্মেলনে আন্তর্জাতিক ক্বারিদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সূফি মিজানুর রহমান। মিলাদ কেয়াম শেষে দেশ জাতির শান্তি সমৃদ্ধি কল্যাণ এবং বিশ্বের মজলুম মানুষের পরিত্রাণ কামনায় মুনাজাত করা হয়। সম্মেলনে হাজারো কুরআনপ্রেমী দ্বীনদার জনতা অংশগ্রহণ করেন। খবর বিজ্ঞপ্তির











