মশা মারতে ইউএসএ’র বিটিআই ব্যবহার শুরু

1

নিজস্ব প্রতিবেদক

ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে প্রথমবারের মতো আমেরিকান প্রযুক্তির লার্ভিসাইড বিটিআই (ব্যাসিলাস থুরিংয়েনসিস ইসরায়েলেন্সিস ব্যবহার শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। গতকাল সোমবার নগরীর দক্ষিণ হালিশহর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী কার্যক্রমে নালা-নর্দমায় পানি মিশ্রিত বিটিআই পাউডার ফগার মেশিনের মাধ্যমে ছিটানো হয়।
এসময় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, জনবল ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি ছিল। এখন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। শহরে চিহ্নিত ২৫টি ডেঞ্জার জোনে প্রথমে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। বিশেষ করে নালা পরিষ্কারের সময় এই ওষুধ ছিটালে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে।
চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী বলেন, আগে টেমিপোস ফিফটি ব্যবহার করা হলেও এবার মেয়রের নির্দেশে আরও উন্নত ও পরীক্ষিত আমেরিকান বিটিআই প্রয়োগ করা হচ্ছে। একবার বিটিআই ছিটালে ১৫ দিন পর্যন্ত সেই জায়গা নিরাপদ থাকে। ওষুধটির কার্যকারিতা ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশ। তবে অনেকদিন একই ওষুধ ব্যবহার করলে মশা রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে। তাই সময়মতো ওষুধ পরিবর্তন জরুরি।
চসিক জানায়, পর্যায়ক্রমে পুরো শহরজুড়ে বিটিআই প্রয়োগ করা হলে মশাবাহিত রোগ কমাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাবে। বিটিআই একটি প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন ব্যাকটেরিয়াভিত্তিক লার্ভিসাইড। এটি পানিতে প্রয়োগ করার পর লার্ভা খাদ্যের সঙ্গে বিটিআই গ্রহণ করে এবং ব্যাকটেরিয়ার উৎপাদিত ক্রিস্টাল প্রোটিন টক্সিন লার্ভার পরিপাকতন্ত্রে কার্যকর হয়ে তাদের দ্রুত নিধন ঘটায়। বিশ্বজুড়ে ডেঙ্গু, জিকা ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে এটি বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত ওষুধ।বিটিআই লার্ভিসাইড ব্যবহারে মানুষ এবং প্রাণী ও পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয় না বলে চসিকের কর্মকর্তারা জানান।
এদিন সকালে বিটিআই ছিটানোর কর্মস‚চিতে আরও উপস্থিত ছিলেন- চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি, কীটতত্ত¡ববিদ রাশেদ চৌধুরী।
এদিকে চলতি বছরে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে নভেম্বর মাসে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, নভেম্বরে আক্রান্তের সংখ্য ১ হাজার ৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। আর চলতি বছরের ১১ মাসে মোট আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ৫১২ জন, মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের। ডিসেম্বরে ডেঙ্গুর প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে এরই মধ্যে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।