মশার ভয়ে অর্থমন্ত্রী

22

ঢাকায় এবার ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের প্রথম দিকেই আক্রান্ত হয়েছিলেন, এর আগে এডিস মশাবাহিত আরেক রোগ চিকুনগুনিয়াও ভুগিয়েছে- তাই আর পরিকল্পনা কমিশনে যাচ্ছেন না অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘ওখানে বেশি মশা। এ পর্যন্ত দুইবার কামড় দিয়েছে, একবার চিকুনগুনিয়া ও আবার ডেঙ্গু এটা কি কথা হলো নাকি?’
গত ১৩ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের দু’দিন আগে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তফা কামাল। বাজেট দিতে হাসপাতাল থেকে সরাসরি সংসদে গেলেও কিছুক্ষণ পর অসুস্থ হয়ে পড়ায় প্রধানমন্ত্রী তার হয়ে বাজেট উপস্থাপন করেন। পরদিন বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনেও ছিলেন না অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীই সেটা সামলেছিলেন।
অর্থমন্ত্রীর ডেঙ্গু হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সময় থেকে ঢাকায় ডেঙ্গু প্রকোপ বেড়েছে ব্যাপক হারে। মধ্য জুনের পর গত এক মাসে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগের টানা তৃতীয় মেয়াদের সরকারে বিগত সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী মুস্তফা কামালকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন শেখ হাসিনা। খবর বিডিনিউজের
পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে পাঁচ বছর শেরে বাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনে অফিস করা মুস্তফা কামাল নতুন মন্ত্রণালয় পাওয়ার পরেও সেখানেই বসছিলেন। তিনি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পরেই পরিকল্পনা কমিশনের ভবনের দেওয়ালসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের সচিত্র বিবরণী বেশি দৃশ্যমাণ হয়।
‘উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ’, ‘সময় এখন আমাদের’, ‘অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ ইত্যাদি ¯েøাগানও শোভা যায় পরিকল্পনা কমিশনের দেওয়ালে।
এখন থেকে সচিবালয়ে অফিস করবেন কি না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অফিস এখন দুই জায়গায় করব (পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়)। কিন্তু ওখানে বেশি মশা। এ পর্যন্ত দুইবার কামড় দিয়েছে একবার চিকুনগুনিয়া ও আবার ডেঙ্গু এটা কি কথা হলো নাকি? আমি আর ভয়ে ওখানে যাচ্ছি না। এখানে আসতে দুই ঘণ্টা লেগেছে আজ’।
ডেঙ্গুর ধকল সামলে এখন সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে জানান ৭২ বছর বয়সী মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘আমি অসুস্থ ছিলাম। এখন আর সমস্যা নাই, অসুখ ভালো হয়ে গেছে। চশমা ব্যবহার করে চোখের সমস্যা চলে গেছে’।