
এস এম ওসমান
মৃত্যুর ফেনিল নিঃশ্বাসে নশ্বর মানব দেহ নিতর হওয়া প্রকৃতিরই নিয়ম। এরপর ও শতাব্দীর পর শতাব্দী বেঁচে থাকে নিগুড় শ্রমসাধনায় ও অপসহীন আদর্শের মাঝে। বিংশ শতাব্দীর শেষে দিকে মফস্বলে আদর্শের উপর সাংবাদিকতা করা তেমন সহজ ছিল না। তাছাড়া আনোয়ারা ছিল একেবারে ভিন্ন কারণ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির সোপানের সাথে আনোয়ারার ছিল সারথি। সারাদেশের চোরা কারবারিরা পশ্চিম আনোয়ারায় গড়ে তোলে অভয়ারন্য, চোরা কারবারিদের শত লোভনীয় অফারে রির্পোট বন্ধ করতে না পেরে এই অকুতভয় কলম যোদ্ধাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যক্ত পোষণ করে। তারা তাকে দমিয়ে রাখার নিমিত্তে বহুবার ডাক যোগে মৃত্যুর স্মারক হিসেবে সাদা কাপড় পাঠিয়েছেন। দেশ জাতির কল্যাণে নিবেদিত মফস্বল সাংবাদিকতার এই আলোকবর্তিকাকে ভূমিত করা সম্ভব হয়নি। সৈয়দ আহসানুল হুদা নারী নির্যাতনকারীদের কাছে ছিলেন যমদূতের মতো, রাত দুপুরে তাহার বাংলোয় নির্যাতিত ও তদ্বীয় স্বজনদের পদচারনা দেখা যেত যেনো এটাই তাদের শেষ ঠিকানা। তিনি প্রথমে ঐ নারীর স্বামী ও সজনদের বুঝিয়ে সংসার সুখের করে তুলতে চেষ্টা চালিয়ে যেতেন। তাতে যদি না হয় তিনি আইনের হাতে নির্যাতনকারীকে তুলে দিতে কার্পণ্য করতেন না। এই পরোপকারী মানুষটি মাথায় সাদা টুপি ও লুঙ্গি পরে আনোয়ারার মাটি ও মানুষের সাথে মিশে থাকতে ভাল বাসতেন। মা-মাটির টানে (চট্টগ্রাম শহরে) জনতা ব্যাংকের চাকুরী ছেড়ে দিয়ে দৈনিক বাংলার মাধ্যমে যুক্ত হন সাংবাদিকতা পেশায়। এরপর দৈনিক সংবাদ ও সমকাল, বাংলার বানী সর্বশেষ দৈনিক আজাদীতে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জীবনের যবনিকা ঘটে। তিনি অজপাড়া গায়ের আপন নিবাসে থেকেও পিছিয়ে পড়া অনাথ এতীম শিক্ষার্থীদের পিতৃতুল্য দায়িত্ব বোধের মাধ্যেমে সৃষ্টি করেছেন দেশের হাজারো কৃতি সন্তান, অফিস আদালত থেকে শুরু করে আজ দেশের স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্ব স্ব স্থানে আপন আলোয় উজ্জ্বল।
প্রচার বিমুখ মানুষটির বড় ভাই শাহ সুফি সৈয়দ নুরুল হুদা এর দক্ষিণ চট্টগ্রামের একমাত্র ১৬ টি প্রকল্প বিশিষ্ট দ্বীনি শিক্ষা নিকেতন “শাহ ই দরবার ইসলামী কমপ্লেক্স ট্রাস্ট” উদ্যোগ নিলে বড় ভাইয়ের সহ যোদ্ধা হিসাবে নিজেকে আত্বনিয়োগ করে। উক্ত কমপ্লেক্সে প্রতিবছর আসর জমাত দেশে খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পন্ডিতরা যা দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত ও বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হত। চট্টল সভ্যতার আদি নিদর্শন দেয়াং পাহাড়ের উপর মানব সৃষ্ট অত্যাচার তুলে ধরে “রক্তাক্ত দেয়াং” শিরোনামে ফিচার প্রকাশ করলে বুন্ধুা মহলে হইচই পড়ে যায়।
মফস্বল সাংবাদিকদের দুর্দশার কথা সংবাদ পত্রের মালিক ও সমাজের কাছে তুলে ধরতে গড়ে তুলেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সমিতি। আনোয়ারা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সৈয়দ নুরুল হুদা সাংবাদিকতা থেকে অবসরে গেলে সর্বসম্মতভাবে তাকে আনোয়ারা প্রেস ক্লাবের সভাপতি করা হয়। আমৃত্যু সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এই সুহৃদ মানুষটি। ২০০৮ ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত হলে ভারতে সিএমসি হাসপাতাল সহ দেশে বিদেশে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করে ১৭ নভেম্বর ঢাকার ডেলটা হাসপাতালে ৪৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যু কালে স্ত্রী ও দুই শিশু কন্যা রেখে যান। আমি অধম ও তাহার উপকার ভোগীর অন্যতম।
লেখক : গবেষক ও প্রাবন্ধিক










