মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের টার্গেট করে সক্রিয় এনসিপি

0

এম এ হোসাইন

বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের ক্ষোভকে পুঁজি করে চট্টগ্রামে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন আসনে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছে এবং বিএনপি ও জামায়াতপন্থী অনেক নেতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বলে জানা গেছে।
এনসিপি নেতৃত্বের দাবি, বিএনপির বিভক্ত অবস্থাকে তারা কাজে লাগাতে চায় এবং আগামী নির্বাচনে অন্তত বেশ কয়েকটি আসনে চমক দেখাতে প্রস্তুত।
এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী মীর মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, অনেক লোক এনসিপিতে আসতে চায়, তারা আমাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। এনসিপি চট্টগ্রামে ভালো অবস্থানে আছে। কোথায় কাকে রাখা হবে, সব সেট করা আছে। এখন হেভিওয়েট প্রার্থী আসলে তখন কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। এটা নিশ্চিত থাকেন, আমাদের প্রার্থী তালিকা দেখে অনেকেই চমক পাবেন।
তিনি বলেন, আমরা জানি বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকট এখন তুঙ্গে। দলীয় সিদ্ধান্তে যারা বঞ্চিত, তাদের অনেকেই বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম খুঁজছেন। আমরা সেই সুযোগটাই কাজে লাগাতে চাই।
বিএনপি চট্টগ্রামের দশটি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। ছয়টি আসনে এখনও প্রার্থী দেয়নি দলটি। দলটির প্রায় আসনে দ্বন্দ্ব আছে, আর সেই দ্বন্দ্বকে কাজে লাগাতে চায় এনসিপি। হতাশ হওয়া নেতারা যোগাযোগ রক্ষা করছেন এনসিপির সাথে। চলছে দরকষাকষিও। পদ নিয়ে এনসিপিতে আসতে জোর লবিং শুরু করেছেন বিএনপির অনেকে। শুধু বিএনপি নয়, জামায়াতের একাংশও এনসিপির সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন, এমনটা দাবি করা হচ্ছে। এই অবস্থায় এনসিপি যদি সংগঠিতভাবে মাঠে নামতে পারে, তবে চট্টগ্রামের অন্তত ৭/৮টি আসনে তারা তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থানে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এনসিপির আরেক যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, আমাদের সাথে অনেক লোক কাজ করতে চায়। বিএনপি-জামায়াতসহ অনেক দলের লোকজন আমাদের দলে যোগ দিতে চায়। অন্তত শতাধিক লোক তো হবেই। সাবেক কাউন্সিলর থেকে শুরু করে সাবেক মেয়র এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার হেভিওয়েট লোকজন আছে। এখন আমরা নিজেরাই চিন্তায় আছি, তাদের ভিড়ে আমরা কোনো বাদ যাবো নাকি। আবার তাদের কোথায় স্থান দেওয়া হবে এবং পুরাতন নেতাকর্মীদের সাথে কিভাবে সমন্বয় করা যায় সেটা নিয়েও দলের একটা টিম প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, দলের মধ্যে এখন তুমুল আলোচনা চলছে, ভিন্ন দল থেকে কাউকে স্থান দেওয়া হবে কিনা সেটা নিয়ে। আমরা এতদিন মাঠে কাজ করেছি, এখন হুট করে কেউ এসে সে জায়গা দখল নেবে সেটা অনেকে মানতে চায় না। আবার অনেকে চায় দলে মুরব্বি লোক আসুক। এখন যারা আসতে চায় তাদের কোথায় স্থান দেওয়া হবে, সেটা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমরা প্রচুর সাড়া পাচ্ছি।
এনসিপি কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর একটি বক্তব্যের জের ধরে চট্টগ্রামের রাজনীতির নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের টার্গেট করে করা সেই মন্তব্য প্রভাব ফেলেছে রাজনীতিতে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার মূল বিষয়, বিএনপির দ্বন্দ্বে এনসিপি কি সত্যিই জায়গা করে নিতে পারবে? না কি শেষ মুহূর্তে বিএনপি ঐক্য ফেরাতে পারবে? সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। আর তার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এনসিপি নামের নতুন শক্তি।
স¤প্রতি এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ চট্টগ্রামের একটি অনুষ্ঠানে বলেন, বিএনপির যারা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন, কিন্তু বাংলাদেশপন্থায় বিশ্বাস করেন এবং ২০২৪-পরবর্তী বাংলাদেশের পুনর্গঠনে ভ‚মিকা রাখতে চান, আমরা তাদের এনসিপিতে ওয়েলকাম জানাচ্ছি। কে জিতবে, কে হারবে সেটা মুখ্য নয়, আমরা চাই জনগণের ভোট যেন নির্বাচনে জিতে যায়। নির্বাচনকে আমাদের জেতাতে হবে, নির্বাচন ব্যবস্থাকে জেতাতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা এমন এক মাফিয়াতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করছি, যারা নিজ দলের লোকদেরও রাস্তায় গুলি করে হত্যা করতে পিছপা হয় না। যারা গুলি খেতে চান না, তারা যেন অস্ত্রের রাজনীতি ও পেশিশক্তির রাজনীতিতে নিজেদের সম্ভাবনা নষ্ট না করেন। রাজনীতি হতে হবে সৎ ও নীতি-ভিত্তিক।
সূত্র বলছে, এনসিপি এখন বিএনপির ভোটব্যাংকের দিকে নজর দিচ্ছে। অনেক তরুণ, সাবেক ছাত্রনেতা ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা ইতোমধ্যে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। আগামী এক মাসের মধ্যে এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে।