নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং এন্ড বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিওএ) নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী সরওয়ার হোসেন সাগরের মনোনয়নপত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ নির্বাচনে শুধুমাত্র মালিক পক্ষই প্রার্থী হতে পারেন। আর কোন প্রতিষ্ঠানে বোর্ড অব ডাইরেক্টর ছাড়া কোন শেয়ার হোল্ডার নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলে তাকে অবশ্যই সেই বিষয়ে বোর্ড অব ডাইরেক্টরের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে সারওয়ার হোসেন সাগর বর্ণালী কর্পোরেশনের বোর্ড অব ডাইরেক্টরের সদস্য নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
মূলত তিনি বর্ণালী কর্পোরেশনের শুধুমাত্র ১০০ শেয়ারের মালিকানায় শেয়ার হোল্ডার মাত্র। এ ক্ষেত্রে সরওয়ার হোসেন সাগরের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বর্ণালী কর্পোরেশনের বোর্ড অব ডাইরেক্টরের অনুমোদন কিংবা রেজুলেশন মনোয়নপত্রের সাথে দাখিল করতে হয়। কিন্তু তিনি মনোনয়নপত্রের সাথে তা দাখিল করেননি বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। এ জন্য নির্বাচনের একাধিক প্রার্থী সারওয়ার হোসেন সাগরের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানান।
এ বিষয়ে সারওয়ার হোসেন সাগর বলেন, আমি শেয়ার হোল্ডার ডাইরেক্টর। আমি মালিক হোল্ড করছি। আর আমি যে মালিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করছি, আমার একটা বোর্ড অব ডাইরেক্টরর্সের রেজুলেশন অনুযায়ী জমা দিয়েছি। আমরা ৮ জন মিলে বর্ণালীর মালিক। এর মধ্যে বোর্ডে আছেন ৪ জন। সবাই তো আর বোর্ডে থাকেন না।
তিনি বলেন, আমরা চাই একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। নির্বাচনে ভয়ের কিছু নেই। এখানে সবাই সবাইকে চিনে।
এছাড়া নির্বাচনের প্রার্থী এ এইচ এম মনজুর আলম, রফিকুল ইসলাম মোমিন এবং মশিউল আলম স্বপন চার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনের ভুল ব্যাখা দিয়ে অসাধুভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পাঁয়তারা করার অভিযোগ এনে তাদের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশন বরাবরে অভিযোগ করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিএসবিওএ সংগঠনটি সরকারের বাণিজ্য সংগঠন আইন ২০২২ ও উক্ত আইনের ৩০ ধারায় ক্ষমতাবলে সরকার কর্তৃক প্রণিত বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে থাকে। এর প্রেক্ষিতে বিগত ২৯/০৯/২০২৫ তারিখে বিএসবিওএ নির্বাচন বোর্ড এক পরিপত্র জারি করেন। এই পরিপত্রের ১৩ নং দফায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে, বিএসবিওএ’র নির্বাহী কমিটিতে কোন ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদ শেষে অন্যূন একটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে পরবর্তীতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। যা বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ২০২৫ এর ১৮ (৪) অনুযায়ী যথাযথ। বিএসবিওএ সংগঠনে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে একজন ব্যক্তি ভোটাধিকার প্রাপ্ত হন ও নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে থাকেন।
কিন্তু উল্লেখিত চারটি প্রতিষ্ঠান ইতিপূর্বে বিএসবিওএতে নির্বাহী কমিটিতে থেকে বর্তমান ঘোষিত নির্বাচনে তাদের প্রতিষ্ঠানে পক্ষে ভিন্ন ব্যক্তিকে দিয়ে আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়া অসাধুভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পাঁয়তারা করছে। অভিযোগে তাদের প্রার্থিতা বাতিল করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
একইভাবে নির্বাচন কমিশনের কোন সদস্য অ্যাসোসিয়েশনে উপস্থিত না থেকে শুধুমাত্র একজন কর্মচারীকে দিয়ে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। জমাদানের শেষ দিন পর্যন্ত মোট সাতটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে এবং ঐ কর্মচারী সাতটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ার তালিকা তৈরি করে তা ক্লোজ লিখে স্বাক্ষর করে দেন। অথচ পরদিন একটি পত্রিকায় কমিশনের প্রধানের বয়াত দিয়ে প্রকাশিত হয়, মোট ১৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে এবং প্রার্থীর নাম ও তাদের প্রতিষ্ঠানের নামও উল্লেখ করেছে। এটিকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করছেন প্রার্থীরা।
জানতে চাইলে এ এইচ এম মনজুর আলম বলেন, ৫ আগস্টের হত্যা মামলার আসামিদের যোগসাজশে নির্বাচনে গুরুতর অনিয়মের আশঙ্কা করছি আমরা। তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী নির্বাচন কমিশনের কর্মকান্ডে অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে ক্ষোভের দানা বাঁধছে। এই কমিশন বিদায়ী কমিটির নেতারা তাদের নিজেদের নাম ভোটার তালিকা থেকে প্রত্যাহার করে অন্য কর্মচারী বা ব্যক্তি বিশেষকে দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা বেআইনি ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। অদৃশ্য নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে মনোনয়নপত্র জমা নেওয়ার যে কথা প্রকাশ করেছে, এতে আমরা শঙ্কিত। আমরা আশঙ্কা করছি, এ অদৃশ্য নির্বাচন কমিশন অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে না এসে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই না করে ডামি নির্বাচনে ১২ সদস্যের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি নির্বাচন নাটক সাজাতে পারে।
জানতে চাইলে মশিউল আলম স্বপন বলেন, মনোয়ন যাচাই-বাছাই সভায় নির্বাচনের বিতর্কিত বিষয় নিয়ে কমিশন কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেনি। ১৯৯৬ সালের আদলে চট্টগ্রাম বন্দরকে অচল করে দিতে মরিয়া হয়ে উঠে তারা। তাদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।
গত ৫ আগস্টের পর এ.কে.এম. শামসুজ্জামান রাসেল আত্মগোপনে থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
প্রধান নির্বাচন কমিশন সৈয়দ আরিফুল ইসলাম বলেন, কে কখন মনোনয়ন ফরম জমা দিল তা মূখ্য বিষয় নয়, একটা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন মূখ্য বিষয়।









