ভিন্নমতের প্রবাসী কণ্ঠরোধের অনুমতি সৌদি যুবরাজের!

38

সাংবাদিক জামাল খাশোগি’র নৃশংস হত্যাকান্ডের এক বছরেরও বেশি সময় আগে ভিন্নমতের প্রবাসীদের কণ্ঠরোধের অনুমোদন দিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এ লক্ষ্যে তাদের মুখ বন্ধ করে দিতে একটি গোপন ক্যাম্পেইনের অনুমোদন দেন তিনি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
তিবেদনে বলা হয়, ভিন্নমতের প্রবাসীদের কণ্ঠরোধের ওই ক্যাম্পেইনের মধ্যে নজরদারি, অপহরণ, আটক রাখা ও নির্যাতনের মতো বিষয়গুলোর অনুমতি দিয়েছেলেন যুবরাজ। সৌদি আরবের এই প্রচেষ্টা সংক্রান্ত গোয়েন্দা প্রতিবেদন হাতে পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এমন একাধিক কর্মকর্তা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সৌদি কর্মকর্তারা। সৌদি যুবরাজের এই উদ্যোগকে ‘সৌদি র্যাপিড ইন্টারভেনশন গ্রুপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন কর্মকর্তারা। ২০১৮ সালে এ গ্রুপটির শিকারে পরিণত হন নারী অধিকার নিয়ে আওয়াজ তোলা একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক। তারা ওই নারীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়েছিল।
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নিজ দেশের নাগরিকদের নজরদারির অভিযোগ বহু পুরনো। তবে বিদেশে বসবাসরত নাগরিকরাও এর বাইরে নয়। সাংবাদিক জামাল খাশোগির নৃশংস হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়েই এ বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে। ওই হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে এ মাসেই সৌদি আরবের ৪০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ তহবিল ফিরিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হলিউড ফার্ম এনডেভার ট্যালেন্ট এজেন্সি। রিয়াদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির চুক্তিও বাতিল করা হয়েছে। এনডেভারকে সমৃদ্ধ করা এবং এর কাজের মধ্য দিয়ে সৌদি আরবের অর্থনীতিকে বহুমুখী করার লক্ষ্য নিয়ে ওই তহবিল বিনিয়োগ করেছিল রিয়াদ।
ক্রীড়া ও চলচ্চিত্র নির্মাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে থাকে এনডেভার। গত বসন্তে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বেশ কয়েকজন মার্কিন রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের উন্নয়ন এবং তেলের ওপর দেশটির নির্ভরতা কমাতে চুক্তির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।