ভাষাসৈনিক ও দৈনিক দেশবাংলার সম্পাদক এমএ হক

1

জামাল উদ্দিন

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আওয়ামী লীগের প্রাণপুরুষ এম.এ. হক-এর আজ সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ৯ নভেম্বর ২০১৮ সলে ৮৭ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে যান। মোহাম্মদ আবদুল হক- এই নামে তাঁকে কমই চেনেন। তিনি এম.এ. হক নামেই বহুল পরিচিত। আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ গ্রামে তাঁর জন্ম ১৯৩৪ সালে। তিনি চলে যেতে পারেন, জানি তাঁর প্রাণহীন দেহটা সীমিত সময়ের বেশি প্রিয়জনদের কাছে রেখে দেওয়া হবে না। মাটির নিচেই তাঁকে রেখে আসা হবে। হয়তো ধ্বািন প্রতিধ্বনিত হবে ’যদি ডাকো এপার হতে এই আমি আর ফিরবো না’। চোখের সামনে এখনও ভেসে উঠে এম.এ.হক সাহেবের হাসিমাখা দৃঢ় প্রত্যয়ের মুখখানা। জীর্ণশীর্ণ দেহটা যেন ছিল পাথরের মত শক্ত। কণ্ঠ ছিল বজ্রের ন্যায় কঠোর আর ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন।তিনি ভাষা আন্দোলন করেছেন, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। ছিলেন মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কাÐারী।
শৈশবেই পিতা এম এ জলিলকে হারান। বিধবা মাতা বিলকিস বেগম শোককে শক্তিতে পরিণত করেন শিশু আবদুল হক’কে বুকে নিয়ে। মায়ের অনুপ্রেরণায় তার পড়ালেখার হাতেখড়ি। মায়ের কোলে বসেই শ্লেট এবং পেনসিলের সাথে সখ্য সৃষ্টি করেন। ভর্তি হন আনোয়ারা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে। স্কুলের গন্ডি পার হতে না হতেই তিনি জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। তখনকার দিনে ক’জনই বা রাজনীতি করতেন। বলতে গেলে রাজনীতির হাওয়া সবেমাত্র শুরু। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী রাজনীতির পতাকা তলে সমবেত হলেন। তারপর থেকে আর থেমে থাকতে হয়নি। ’৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন। ২০ বছরের টগবগে যুবক এম এ হক জড়িয়ে পড়েন নির্বাচনী যুদ্ধে। যখন হাই স্কুলের ছাত্র তখন নিজ গ্রামে ‘অরুণ ক্লাব’ নামে একটি সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলেন। তিনি ছিলেন ঐ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। উক্ত ক্লাবের মাধ্যমে কবিগান, পুঁথিপাঠের আসর, বাইনের গান সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এলাকায় সামাজিক বিপ্লবের সূচনা করেন এবং সক্রিয় একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নিজেকে সেই ছোটবেলা থেকেই গ্রাম থেকে গ্রামে সংগঠন গড়ে তোলেন। ব্যাপক জনপ্রিয়তায় ১৯৫৫ সালে ইউনিয়ন বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হন।
আনোয়ারা থানা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি চাতরী গ্রামের এম এ ছাত্তার। তিনি ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রিয়ভাজন। সেই এম.এ ছাত্তার ও চট্টলবীর নামে খ্যাত এম.এ. আজিজ ছিলেন হক সাহেবের রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু। এই দু’নেতার বিশ্বাসভাজন ছিলেন এম. এ হক। সেই সময় থেকে তিনি জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য পদ লাভ করেন। তখন আজকের চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও কক্সবাজার জেলা নিয়ে ছিল আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক চট্টগ্রাম জেলা। তিনি ১৯৫৮ সালে জেলা কমিটির কোষাধ্যক্ষ পদ লাভ করেন। ১৯৫৮ সালে ফিল্ডমার্শাল আয়ুবখান মার্শাল-ল জারি করে রাজনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ করে দেয়। তখন তিনি অত্যন্ত সাহসের সাথে গ্রামগঞ্জ ঘুরে গোপনে রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যেতে থাকেন। ১৯৬১ সালে তিনি আনোয়ারা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। তারপর থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ২৪ টি বছর ধরে একনাগাড়ে সভাপতির দায়িত্ব পালন করে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্ব প্রদান করেন। ১৯৬৭ সালে আয়ুবখান মৌলিক গণতন্ত্র দিয়ে ইউনিয়ন বোর্ডের নির্বাচন দেন। উক্ত নির্বাচনে হক সাহেব ইউনিয়ন বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৮ সালে রাজনৈতিক গুরু আজিজ মিয়ার নির্দেশে সর্বপ্রথম আয়ুবের মৌলিক গণতন্ত্রী সদস্য পদ হতে এম.এ.হক পদত্যাগ করেন। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনে হক সাহেব জীবনবাজি রেখে শহর, বন্দর গ্রামে চষে বেড়িয়েছেন। তিনি একাধারে রাজনীতিক সমাজসেবক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছাড়াও তিনি সংবাদ পত্রের প্রকাশনা ও সাংবাদিকতার মতো গুরু দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৬৯ সনে গণ আন্দোলনের সময় নগরীর হাজারীগলি থেকে ‘দৈনিক সান্ধ্য বাংলাদেশ’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশন করতেন।
১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ চট্টগ্রাম ১২ নির্বাচনী এলাকা আনোয়ারা-পশ্চিম পটিয়া থেকে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে এম এ হক সাহেবকে মনোনয়নের প্রদান করেন। কিন্তু আর্থিক অনটন ও নানা প্রতিকুল পরিস্থিতির কারণে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলে স্বয়ং বঙ্গবন্ধু ১ লক্ষ টাকা নির্বাচনী ব্যয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তখনকার সময়ে নির্বাচন সামাল দিতে কমপক্ষে ১০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। বাকী টাকা পাবে কই। অবশেষে এম এ আজিজ সাহেব এম এ হক ও তৎসময়ের থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিনকে ডেকে বললেন একজন বিকল্প প্রার্থীর সন্ধান করতে। তারা বিকল্প কাউকে না পেয়ে আখতারুজ্জান বাবুর কথা ভাবলেন। তখন তিনি বড় ভাই বশিরুজ্জানের মৃত্যুতে বি জামান কোম্পানী পরিচালক, বড় ব্যবসায়ী। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে আওয়ামীলীগ বিরোধী। এমনকি তার কয়েকমাস পূর্বে আনোয়ারার থানা আওয়ামীলীগ আয়োজিত হানাদার পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে মালঘর বাজারে (বাংলাবাজার) আয়োজিত এক জনসভায় এম এ আজিজ ছিলেন প্রধান অতিথি। সভা শুরুর একটু আগে আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে মুসলীম লীগের সন্ত্রাসীরা অতর্কিতে হামলা চালিয়ে সভার মঞ্চটি ভেঙ্গে দেয়। বাবুর প্রতি তাঁরা ক্ষুব্ধ হলেও টাকা ওয়ালা লোক না পেয়ে আখতারুজ্জামান বাবুর সাথে তারা দেখা করেন। বাবু তাদেরকে বললেন, এমএ আজিজ আমাকে নমিনেশন দেবে? আমি যে ওনার মিটিং ভেঙ্গেছি। এমএ হক ও নাছির সাহেব বললেন, আমাদের একটা ভরসা আছে আপনি বশিরুজ্জামানের ভাই। মৃত্যুর আগে বশিরুজ্জামান জেলা আওয়ামী লীগের ট্রেজারার ছিলেন। বাবুকে সাথে নিয়ে তারা এমএ আজিজের সাথে দেখা করতে গেলেন।এম এ আজিজের সাথে দেখা করতেই তিনি গর্জে উঠলেন ‘সে তো আমার জনসভা ভেঙ্গে দিয়েছিল। তাকে নমিনেশন দেয়ার প্রশ্নই আসে না। এই নিয়ে অনেক ঘটনা। অবশেষে অন্যকোন প্রার্থী না পেয়ে আখতারুজ্জান বাবুকে ১টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের সদস্যপদ পুরুণ করিয়ে সদস্য পদ দিয়ে উক্ত আসন থেকে এমপি পদে মনোনয়ন দেয়া হয়। এছাড়া এমএনএ প্রার্থী হিসেবে আনোয়ারা-বাঁশখালী-কুতুবদিয়া এলাকা থেকে নমিনেশন লাভ করেন আতাউর রহমান খান কায়সার। উভয়ের নির্বাচনে এম. এ হক আরামকে হারাম মনে করে পটিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী, কুতুবদিয়া অঞ্চল চষে বেড়ান। দু’জনকেই বিপুল ভোটে জয়ী করতে সক্ষম হন। এমনই পরিস্থিতিতে শুরু হয়ে যায় অসহযোগ আন্দোলন। ২৫ মার্চ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর ঝাঁপিয়ে পড়লে এম এ হক সাহেব মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণের জন্যে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে সভা-সমাবেশ করে সকলকে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে আহবান জানান। এর কয়দিন পর তিনি ভারতে যাবার উদ্দেশ্যে বেশ কয়জন কর্মীসহ পটিয়া, বোয়ালখালী, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান হয়ে ফটিকছড়িতে মাইজভান্ডার শরীফে আশ্রয় নেয়। কিন্তু হানাদার বাহিনী চতুর্দিকে ঘেরাও করাতে তাঁরা ফটিকছড়ির পথে ভারতে যেতে না পেরে চলে আসেন বোয়ালখালীতে। সেখান থেকে এম এ হক চলে আসেন পটিয়ার কৈগ্রামে। সেখানে বিরাট এক মুক্তিবাহিনী গঠন করেন। তিনি থাকতেন কৈগ্রামের মতলব সওদাগরের বাড়িতে। সেখান থেকে চট্টগ্রাম শহরে এসে মৌলভী ছৈয়দের সাথে গোপনে কাজ শুরু করেন, তাদের এ গ্রুপে অমল মিত্র, শফিউল বশর, হারিজ, জামাল, বশর, শামশুল হক, নুরুল হক সহ আরও অনেক মুক্তিযোদ্ধা ছিল। ভারত থেকে ট্রেনিং নিয়ে যেসব মুক্তিযোদ্ধা আসতেন এম.এ হক তাদের থাকা খাওয়া সহ যাবতীয় পথ নির্দেশনার দায়িত্ব পালন করেন। তখন তিনি ছিলেন সকল মুক্তিযোদ্ধার মুরুব্বি, সবাই তাকে শ্রদ্ধা করতেন।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আনোয়ারা-পটিয়া-বাঁশখালীতে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে বিরোধ দেখা দেয়। মৌলভী সৈয়দের অনুরোধে এম.এ হক চলে আসেন মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয় সাধনে। এদিন সার্জেন্ট আলম অস্ত্রসস্ত্র সহ এক বাহিনী নিয়ে বাঁশখালীর কুন্ডূ পাহাড়ে আশ্রয় নেন। হক সাহেব তা জানতে পেরে সার্কেন্ট আলম-এর আস্থানায় যান এবং তাঁর সাথে দেখা করেন। সকলের সাথে সমন্বয় সাধন করে এম.এ হক সাহেব সাজেন্ট আলমকে বললেন, আপনি কমান্ডার অপারেশনের দায়িত্ব পালন করুন, আর অন্যসব দায়িত্ব আমার উপর ছেড়ে দিন। হক সাহেবের নির্দেশ ছিলো আমার কথা ছাড়া একজন লোককে মারতে পাববে। কিন্তু তারা সেই নির্দেশ অমান্য করে তৈলারদ্বীপ ক্যাম্পে এক অপ্রীতিকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিচ আনোয়ারী ও তার ভাই ইসমাইল আনোয়ারী সহ হাটহাজারীর কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেন। এ ঘটনার কয়েকদিন পর বাঁশখালীর এক অপারেশনে সার্জেন্ট আলম নিজ দলের মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নির্মমভাবে খুন হন। হক সাহেব ক্ষুব্ধ হয়ে উক্ত ক্যাম্প ত্যাগ করে শহরে মৌলভী সৈয়দের আস্থানায় চলে আসেন। ১৬ ডিসেম্বর দেশ শত্রুমুক্ত হলে পরিস্থিতি উন্নতির লক্ষ্যে গোটা বাংলাদেশকে কয়েকটা জোনে ভাগ করা হয়। প্রফেসর নুরুল ইসলাম চৌধুরীকে চট্টগ্রামের জোনাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়। এম এ হক সাহেব ঐ জোনের কাউন্সিলর সদস্য ছিলেন। এবং একই সময়ে আন্দরকিল্লা থেকে ‘দৈনিক দেশ বাংলা’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। তিনি ছিলেন ঐ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। উক্ত পত্রিকায় তিনি ‘হককানী’ নামে নিয়মিত একটি কলাম লিখতেন। দেশ স্বাধীনের পর প্রসিদ্ধ ‘ক্রিসেন্ট সোপ ফ্যাক্টরি’র ম্যানেজিং ডাইরেক্টর পদে অধিষ্ঠিত হন এম এ হক সাহেব। চট্টগ্রামে কো-অপারেটিভ ব্যাংক এর ডাইরেক্টর এবং মার্চেন্ট কোঅপারেটিভ ব্যাংকের সদস্য নির্বাচিত হন। দেশ স্বাধীনের পূর্বে আনোয়ারায় কোন কলেজ ছিল না। এমএনএ আতাউর রহমান খান কায়সার ও এমপি আখতারুজ্জামান চৌধুরীর হাতে হাত মিলিয়ে আনোয়ারা কলেজ প্রতিষ্ঠায় নেমে পড়েন এম.এ. হক। তিনি তখন থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং নাসির উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক। বলতে গেলে নেতৃবৃন্দের অনুরোধে আনোয়ারা কলেজ প্রতিষ্ঠায় তারাই হলেন অন্যতম উদ্যোক্তা। এমনকি এম এ হকই প্রথম ক্রিসেন্ট সোপ ফ্যাক্টরি’র ফান্ড থেকে এক লক্ষা টাকা অনুদান প্রদান করেন এবং রিলিফের ১লাখ টাকাসহ কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেন। পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে আনোয়ারা কলেজ একটি পূর্ণাঙ্গ কলেজে রূপ লাভ করে।
চট্টগ্রাম তথা আনোয়ারা থানা আওয়ামী লীগের প্রাণপুরুষ এম.এ হক হলেন সর্বজনীন শ্রদ্ধা ও ভালবাসার একজন মানুষ। প্রতিবাদী কণ্ঠ হিসেবে তাঁকে নেতা কর্মীদের সকলেই সমীহ করে চলতেন। মিথ্যেকে প্রশ্রয় দিতেন না বলে অনেকের বিরাগ ভাজনও হয়েছেন। আনোয়ারা থানা আওয়ামীলীগের ২৩ বছরের সভাপতি এম এ হক জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ, সহ সভাপতি হিসেবে দীর্ঘ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সর্বশেষ ২০০৩ সালে পুনরায় আনোয়ারা থানার আওয়ামী লীগের আহবায়কের দায়িত্ব প্রদান করা হলে বৃদ্ধ বয়সেও তিনি গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে আনোয়ারা থানা আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করে তোলেন ।
সদাহাস্যোজ্জ্বল এ প্রবীণ রাজনীতিবিদ কয়েক বছর আগেও পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতেন ক্লান্তিহীন ভাবে রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকান্ডে। বর্তমান প্রজন্মের জন্যে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকা এম এ হক সাহেব অন্যায়, অবিচার, অশিক্ষা, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুদ্রবেশে লড়াই করেছেন। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয় স্বাধীনতা সংগ্রামী মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এম.এ.হক শেষ বিদায়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মান পান-নি। কারণ তিনি ফরম পুরণ করে মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত হওয়াকে অসম্মান মনে করতেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি আমাকে বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমরাই পরিচালনা করেছি, দক্ষিণ চট্টগ্রামে আমিই মুক্তিযোদ্ধাদের রাজনৈতিক পরামর্শক ছিলাম, আমাকে কেন ফরম পূরণ করে মুক্তিযোদ্ধা হতে হবে? মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত না হওয়ায় জীবনের শেষ বিদায়ে তিনি রাষ্ট্রীয় সম্মানে সম্মানিত হলেন না, এই লজ্জা আমার, আপনার, আমাদের প্রশাসন ব্যবস্থার। পরিশেষে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে যেন এক কণ্ঠে বলি; জয়তু এ.এ.হক, তোমাকে যেন আমরা স্মরি তোমার জীবন মাঝে।
লেখক : গবেষক ও প্রকাশক