ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অনুমোদন পেল বিটিসিএল

3

দেশে পরীক্ষামূলকভাবে ‘মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর’ (এমভিএনও) হিসেবে কার্যক্রম চালানোর অনুমোদন পেয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বিটিসিএল। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব।
তিনি বলেছেন, ‘বিটিসিএল টিম এমভিএনও চালুর জন্য কাজ করছে। দ্রুতই এটার পাইলট (পরীক্ষামূলক) শুরু হবে’।
সাধারণত মোবাইল সেবাদাতা অপারেটরগুলোর নিজস্ব নেটওয়ার্ক কাঠামো, তরঙ্গ, টাওয়ারসহ বেশকিছু কাঠামোগত স্থাপনা থাকে। এমভিএনও হচ্ছে এমন এক ধরনের অপারেটর, যাদের নিজস্ব কোনো টেলিকম নেটওয়ার্ক কাঠামো থাকে না।
তারা অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক কাঠামো ভাড়া নিয়ে নিজেদের ব্রান্ড নামে মোবাইল সেবা দিতে পারেন। বিশ্বের অনেক জায়গায় এ ধরনের কোম্পানি রয়েছে। খবর বিডিনিউজের
এমভিএনও পরীক্ষামূলকভাবে চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়ে ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব লিখেছেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেয়ার পরে সব ধরনের টেকনোলোজি আনব্লকের উদ্যোগ নিয়েছি। এ ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে ফাইভ-জি। ভোল্টি রোল আউট শুরু হয়েছে পুরোদমে। ভয়েস ওভার ওয়াইফাই লঞ্চ হয়েছে। শুরু হচ্ছে প্রাইভেট ফাইভ-জি। আমি আশা করি, দ্রুতই লার্জ পাবলিক ইনডোর (এলপিআই), স্মল সেল, নেটওয়ার্ক স্লাইস এবং হট স্পটের মতো টেলিকম সার্ভিস গুলোও শুরু হবে। নতুন পলিসিতে এসব প্রযুক্তিকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ৭০০ মেগাহার্জের অকশনও ডাকা হয়েছে’।
অল্প বিনিয়োগ করে এই খাত থেকে আর কেউ টাকা তুলে নিতে পারবে না উল্লেখ করে ফয়েজ তৈয়্যব লিখেছেন, ‘কানেক্টিভিটিকে কেন্দ্র করে টেলিকম খাতকে জিম্মি করে রেখেছে প্রায় সব লেয়ারের মাফিয়ারা, সজ্ঞানে ও অজ্ঞানে। আওয়ামী লীগ টেলিকম কানেক্টিভিটিকে ব্যবহার করেছে টোল প্লাজা হিসেবে। আমরা চাই কানেক্টিভিটি হাইওয়েতে কোনো টোল প্লাজা থাকবে না। অতি সামান্য বিনিয়োগ করে কেউ বিশাল ইকোসিস্টেম এবং ইনভেস্টমেন্ট সার্কেলে রেন্ট সিকিং করতে পারবে না। এজন্য আমরা ফাইবার উন্মুক্ত করে দিয়েছি ও দিচ্ছি , যেন এক্সেস টু ফাইবার এবং বাল্ক ডেটা ফ্লোতে কোনো অবকাঠামোগত বাধা না আসে। আমি আশা করি, দেশের কানেক্টিভিটি নির্ভর টেলিকম ধীরে ধীরে ডিজিটাল সার্ভিস বেজড ইন্ডাস্ট্রিতে রূপান্তর হবে। যেখানে এড টেক, অ্যাগ্রো-টেক, গভ-টেক, ফিন-টেক, হেলথ-টেক, স্টার্টাপ, ওটিটি বেজড ডিজিটাল সার্ভিসের অমিত সম্ভাবনা তৈরি হবে। টেলিকম ও ইন্টারনেট কানেক্টিভিটিতে পড়ে থাকায় দেশের ডিজিটাল সার্ভিস ও ডিজিটাল ট্রান্সফর্মেশনের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এখানে মোবাইল ইন্টারনেট ও ব্রডব্যান্ডের বাজার এখনো এমবি/জিবি কেন্দ্রিক। অথচ দরকার ছিল সেবাকেন্দ্রিক যেখানে বেসিক প্যাকেজের উপর শিক্ষার্থী, পেশাজীবী, সেবা গ্রহীতার জন্য আলাদা আলাদা প্যাকেজ, থাকবে স্পোর্টস ও এন্টারটেইনমেন্ট প্যাকেজ, থাকবে, সিকিউর ইন্টারনেট প্যাকেজ, কিংবা গেমিং কিংবা ডেভেলপমেন্ট কিংবা কমপিউটিং সার্ভিস। তারা আমাদের বামন করে রেখেছিল’।
তিনি বলেন, ‘আমরা দুর্বৃত্তায়ন ও অচলায়তন ভেঙে সার্ভিস বেজড ইকোসিস্টেম গড়ছি, দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পাবে দেশের অর্থনীতি’।