ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরো মধুরতর হবে

3

বাংলাদেশ ভারতের প্রতিবেশী ও অকৃত্রিম বন্ধুদেশ। দেশে দক্ষিণপূর্ব সীমান্ত ছাড়া বাকি সীমান্তে ভারত। ভারতের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে ভারত বাংলাদেশকে সার্বিক সহযোগিতার হাত সম্প্রসারণ করতে দেখা গেছে। টানা তৃতীয় বার নরেন্দ্র মোদির সরকারের ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের সাথে ভারতের মধুর সম্পর্ক আরো গভিরতর হবে। বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও নব নির্বাচিত মন্ত্রীপরিষদের সদস্যদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আমাদের বিশ্বাস দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধুর সম্পর্ক আরো মধুরতর হবে।
টানা তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন নরেন্দ্র মোদি। গতকাল রোববার দেশটির স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনের আঙিনায় এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার ৭২ সদস্যও একযোগে শপথ নিয়েছেন মোদির সঙ্গে। এর মধ্যে ৩০ জন ক্যাবিনেট মন্ত্রী, পাঁচজন স্বতন্ত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং ৩৬ জন প্রতিমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু মোদিসহ অন্য মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান।
কংগ্রেস নেতা জওহরলাল নেহেরুর পর মোদিই প্রথম যিনি প্রধানমন্ত্রিত্বের দুই পূর্ণ মেয়াদ শেষ করে তৃতীয়বার এ পদে আসীন হলেন। শপথবাক্য পাঠ করে দেশ চালানোর গুরুদায়িত্ব আবার কাঁধে নিলেন তিনি। মোদির নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন নীতীন গড়কারি, রাজনাথ সিং, অমিত শাহ, জেপি নাড্ডা, শিবরাজ সিং চৌহান, নির্মলা সীতারমণ, এস জয়শঙ্কর, মনোহর লাল খাত্তার, এইচ ডি কুমারাস্বামী, পীযূষ গয়াল, ধর্মেন্দ্র প্রধান, জিতন রাম মাঞ্জি, সর্বানন্দ সোনোয়াল, রাজীব রঞ্জন সিং, বীরেন্দ্র কুমার, কে রাম মোহন নাইডু, প্রহ্লাদ যোশি, জুয়াল ওরাম, জি কিষান রেড্ডি, কিরেন রিজিজু, চিরাগ পাসওয়ান, হরদীপ সিং পুরি, মনসুখ মান্ডাভিয়া, ভূপেন্দ্র যাদব, গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, গিরিরাজ সিং, অশ্বিনী বিষ্ণু, রাও ইন্দ্রজিৎ সিং প্রমুখ।
মোদির শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা। এর মধ্যে শনিবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জু, সেশেলসের ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ আফিফ, মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী প্রবীন্দ কুমার জগন্নাথ, নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল প্রচন্ড ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোগবে শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। কেবল বিদেশিই নয়, ভারতের রাজনৈতিক নেতাদেরকেও আমন্ত্রণ জানানো হয় মোদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে।
এর মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট মল্লিকার্জুন খাড়গে। তবে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি অনুষ্ঠানে যাননি। ওদিকে, চলচ্চিত্র তারকারা শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।
শপথের আগে সকাল সকাল মোদি গিয়েছিলেন রাজঘাটে। মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধের সামনে গিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন তিনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর সৌধ ‘সদৈব অটল’-এর কাছেও গিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন তিনি।
মোদির শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান উপলক্ষে সাজ সাজ রব ছিল দিল্লিতে। কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয় রাজধানী। তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ের ব্যবস্থা নেয় দিল্লি পুলিশ। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের কারণে দিল্লির আকাশসীমাতেও গতকাল কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
এবারের লোকসভা নির্বাচনে ২৯২টি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ পেয়েছে ২৩৩টি আসন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে এনডিএ সরকার গড়লেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি বিজেপি। ফলে তারা চাপে রয়েছে।
সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বিজেপি’কে শরিক দলগুলোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এনডিএ শরিকরা মোদিকেই প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বেছে নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর তিনি শপথ নিলেন। তার এই শপথ গ্রহণে বাংলাদেশের মানুষ দুদেশের সম্পর্ক আরো বৃদ্ধি পাবার আশা পোষণ করছে দেশের জনগণ।
তবে দু’দেশের সুদীর্ঘ সম্পর্কের মধ্যেও তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানি বন্টন ও সীমান্তে হত্যা ও চোরাচালানীর মত বেশকিছু সংকট এখনও রয়েগেছে। বিজেপির নেতৃত্বাধীন নতুন জোট সরকার দু’দেশের বিদ্যমান সংকট নিরসনে কী উদ্যোগ গ্রহণ করবেন তা দেখার বিষয়। মোদিজি এ বিষয়ে খুব সচেতনভাবে অবগত। এবারে তিস্তার পানিবন্টনসহ সীমান্ত হত্যা বন্ধে কঠোরভাবে কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পারে দু’দেশের মানুষ এমনটি প্রত্যাশা।