ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু

47

সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাশ। ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব লাভের পর আজ সোমবার সকালে চসিক মেয়রের দপ্তরে সিটি মেয়রের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় এ কূটনীতিক।
সিটি মেয়র নবনিযুক্ত হাইকমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সমগ্র ভারতবাসী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তথা ভারত সরকার এবং বিএসএফ ও ভারতীয় সৈন্যদের সহযোগিতা, আত্মত্যাগের সফল পরিণতি বাংলাদেশ। এমনকি সে সময় ভারত বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছিল। বাংলাদেশের জন্য ভারতবাসীর এতটা ত্যাগ ও ভালোবাসা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
নবনিযুক্ত হাইকমিশনারকে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে সিটি মেয়র বলেন, বিগত ১০ বছরে চট্টগ্রাম বন্দরে সক্ষমতা অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বন্দরের সক্ষমতার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই উদ্যোগী হয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। বে-টার্মিনালসহ সরকারের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে বন্দরের সক্ষমতা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে।
মেয়র বলেন, প্রতিনিয়ত ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার পরিবহন চট্টগ্রাম বন্দরের গমন-বহিঃগমন করে। চট্টগ্রাম পোর্ট কানেকটিং সড়কটি বন্দরের প্রবেশের একমাত্র মাধ্যম। বর্তমানে জাইকার অর্থায়নে পরিকল্পিতভাবে সড়কটি সংস্কার করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গক্রম মেয়র বর্তমান সরকারের গৃহীত প্রকল্প মাতারবাড়ি ডিপ সি-পোর্ট, মিরাসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন টানেলসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলে চলমান উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়াদিও আলোচনায় তুলে ধরেন।
নবনিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাশ চট্টগ্রাম নগরকে গ্রীন ক্লিন নগরে রুপান্তরে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সম্ভাবনাময় চট্টগ্রাম। উন্নয়নের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম অনেকদূর এগিয়ে গেছে। ইতোপুর্বে আমি এ শহরে অনেকবার এসেছি। কিন্তু এরকম সৌন্দর্য্যমÐিত শহর ইতোপূর্বে দেখিনি। চট্টগ্রামের উন্নয়নে আমি অভিভুত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নে এগিয়ে যাক, ভারত সরকারও তা চায়। এতে ভারতের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের উন্নয়নে পাশে থাকতে ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ। বাংলাদেশকে ভারত সবসময় বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসাবেই দেখে বলে দু’দেশের জনগণের মধ্যেও বন্ধুত্বপুর্ণ আচরণ লক্ষ্য করা যায়।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের বহুমুখি ব্যবহারের মাধ্যমে সেভেন সিস্টারসহ দু’দেশের জনগণের আর্থিক উন্নতি সম্ভব। চট্টগ্রাম বন্দর শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলে শ্রমবাজার, কর্মসংস্থান, পুঁজি বিনিয়োগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দু’দেশের জনগণের আর্থিক উন্নতি ঘটবে।
তিনি চট্টগ্রাম নগরীর জন্য ভারত সরকারের প্রদত্ত এলইডি প্রকল্প সম্পর্কে মেয়রের কাছ থেকে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, অতি শীঘ্রই এ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হবে। এ প্রসঙ্গে রিভা গাঙ্গুলী বলেন, দু’দেশের বন্ধুত্বে নিদর্শন হিসেবে নমনীয় ঋণ চুক্তির আওতায় চট্টগ্রামে এলইডি প্রকল্প উপহার দিয়েছেন ভারত সরকার। এটা ভারত সরকারে গ্রাউন্ড ওয়ার্ক। শুধুমাত্র ঘর-গৃহস্থালির কাজে নয়, এলইডি বাল্বের সাহায্যে আলোকিত হবে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের পথঘাটও। ফলে দিনের যে সময়টিতে বিদ্যুতের চাহিদা থাকে বেশী, সে সময় বিদ্যুতের চাহিদা কমিয়ে আনতে এলইডি বাতি কার্যকর ভ‚মিকা রাখে। এতে বিদ্যুতের সাশ্রয় হবে। জ্বালানি সাশ্রয়ী এলইডি বাল্বের সাহায্যে অতিরিক্ত উৎপাদন খরচ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। পরিবেশ রক্ষায়ও সহায়ক বলে তিনি সিটি মেয়রকে জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভরতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জি, ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, চসিক প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম ও প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ একেএম রেজাউল করিম।