ভারতের নতুন সরকার বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশাকে মর্যাদা দেবে

3

পূর্বদেশ ডেস্ক

অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনে বাংলাদেশের জনপ্রত্যাশাকে ভারতের নতুন সরকার মর্যাদা দেবে বলে প্রত্যাশা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ভারতের নতুন সরকার নিয়ে সাংবাদিকরা আমাদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছেন। আমরা ভারতের নতুন সরকারের কাছে একটাই আশা করব, তাদের দেশে যেভাবে জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে এখনো, তাদের নির্বাচন কমিশন যেভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তাদের বিচার বিভাগ যেভাবে কাজ করতে পারে, আমাদের প্রত্যাশা, ভারতের সরকার, জনগণের যে প্রত্যাশা বাংলাদেশের মানুষের, সেই প্রত্যাশাকে তারা মর্যাদা দেবেন। সেভাবে তারা বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলবেন।
লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন জোট বিজয়ী হওয়ায় রোববার তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করেন নরেন্দ্র মোদী এবং তার নতুন মন্ত্রিসভাও শপথ নেয়।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গতকাল সোমবার এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
সরকার দলের অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে মির্জা ফখরুল জলবায়ু তহবিলের অর্থ লোপাটের অভিযোগ তুলে বলেন, ক্ষমতাসীনদের ‘ক্ষুধা সর্বগ্রাসী’। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন- ভয়াবহ অবস্থা। বাংলাদেশ গভীর চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে। বৈর্শ্বিক যে পরিবর্তন হচ্ছে উষ্ণতা, সেই উষ্ণতার কারণ বলা হচ্ছে, জলবায়ু বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাংলাদেশের শতকরা ১৭ ভাগ মানুষ তারা এফেক্টেড হবেন, তারা (পানির) নিচে যাবেন, এটার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে অলিরেডি। এটাকে প্রতিরোধ করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে তারা চেষ্টা করছে সবাই মিলে। তার জন্য কিছু ফান্ডও বাংলাদেশকে তারা দিয়েছিল।
সেই ফান্ড তারা (সরকার) খেয়ে ফেলেছে। এদের তো খিদার শেষ নেই, সর্বগ্রাসী ক্ষুধা। আমরা নাট্যকার সেলিম আল দীনের লেখা একটা নাটক দেখেছিলাম, সেই নাটকে মূল চরিত্র ছিল- সব কিছু খেয়ে ফেলা। প্রচুর খায়, সব খেয়ে যখন শেষ তখন কাগজপত্র খেতে শুরু করল, টেবিল খাওয়া শুরু করে। আওয়ামী লীগ আজকে সেই অবস্থায় চলে গেছে। তারা এখন সব কিছু খেয়ে ফেলছে। খবর বিডিনিউজের।
জিয়াউর রহমানের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল ‘আধুনিক কৃষি, অভিন্ন নদীর পানি আগ্রাসন এবং জলবায়ু ভারসাম্যহীনতা রোধে শহীদ জিয়ার ভূমিকা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক শাহাদত হোসেন বিপ্লব।
দুর্নীতির প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, গতকাল (রোববার) একটা সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পুরনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলো, আমি নাম বলব না তার, আপনারা অনেকে চিনে ফেলতে পারেন তাকে। সে এখন রাজনীতি থেকে দূরে আছে। সে তখন ছাত্রলীগের নেতা ছিল, পরবর্তিকালে সে আওয়ামী লীগও করেছে, এমপিও হয়েছে। এখন প্রায় ১০-১২ বছর ধরে আর রাজনীতির কাছাকাছি নাই।
আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি রাজনীতি করছ না কেন; বলেছে, কোন রাজনীতি করব। আমি বললাম, আওয়ামী লীগ করবা। সে বলল, আওয়ামী লীগ কী আওয়ামী লীগ আছে? এটা তো এখন আজিজ আর বেনজীরের আওয়ামী লীগ। দেখুন একজন আওয়ামী লীগের নেতা তার উপলব্ধিটা এমন হয়েছে যে, সে রাজনীতি থেকে চলে গেছে, এটাই বাস্তবতা।
তিনি বলেন, আজকে সেই আওয়ামী লীগ নেই, যে স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছিল। সেই আওয়ামী লীগ নেই, যারা আমাদের সাথে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম-লড়াই করেছিল।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যখনই আসে তখনই তাদের কেমিস্ট্রিতে পরিবর্তন শুরু হয়। সেই পরিবর্তনটা হচ্ছে তারা সর্বগ্রাসী হওয়া শুরু করে। শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই বলেছিলেন ওই সময়ে, ‘সবাই পায় সোনার খনি, আমি পাই চোরের খনি’।
মির্জা ফখরুল বলেন, যে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে, এখন আমাদের লক্ষ্য, যেমন করে হোক এই দানবকে সরিয়ে ফেলতে হবে। এর পথ একটাই- জনগণকে সংগঠিত করে আমাদেরকে আন্দোলন আরও তীব্র করতে হবে এবং সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাদেরকে পরাজিত করতে হবে।