পূর্বদেশ ডেস্ক
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি কমানোর দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন এক দল শিক্ষার্থী। গতকাল বুধবার প্রশাসনিক ভবনের সামনে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। রোববারের মধ্যে ফি কমানোর ঘোষণা না পেলে প্রশাসনিক ভবনে ‘তালা ঝোলানোর হুঁশিয়ারিও’ দিয়েছেন তারা। খবর বিডিনিউজের
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার জন্য আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন চলবে। ভর্তিচ্ছুদের প্রতি ইউনিট ও উপ ইউনিটে আবেদনের জন্য গুণতে হবে ১ হাজার টাকা। শিক্ষার্থীরা এই ফি কমানোর দাবি তুলে বলছেন, বর্তমান ফি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। গত বছর আবেদন ফি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। চাকসু নেতারাও ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি কমানোর দাবি জানিয়েছেন। বুধবারের অবস্থান কর্মসূচি থেকে প্রতি ইউনিটের ভর্তি ফি ‘যৌক্তিকভাবে’ কমানোর দাবি তুলে ধরা হয়।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের চবি শাখার সভাপতি আব্দুর রহমান বলেন, আমরা ভেবেছিলাম পরিবর্তনের পর অন্তত শিক্ষার্থীদের অধিকার ফিরবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এখনও ‘জুলুমবাজির’ একই চিত্র। গত বছর কথায় কথায় আশ্বাস দেওয়া হলেও কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি বলেন, কৃষকের ছেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চায়, কিন্তু ইউনিটে আবেদন আর যাতায়াতের খরচই তাদের জন্য বড় বাধা। তাই আবেদন ফি কমানো এখন সময়ের দাবি।
ইতিহাস বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী রাতুল বিন হোসেন বলেন, ১ হাজার টাকা অনেকের কাছে তেমন কিছু নয়, কিন্তু এই টাকাই কারও এক সপ্তাহের জীবিকা।
ইতিহাস বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী তাহসান হাবিব বলেন, বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে হলে সবার নাগালে শিক্ষা আনতেই হবে। একজন রিকশাচালকের দৈনিক আয় দিয়ে তার সন্তানের একাধিক ইউনিটে আবেদন করা অসম্ভব। গত বছর আশ্বাস দিলেও প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয়নি। বরং একই উচ্চ ফি রাখা হয়েছে। রোববারের মধ্যে সিদ্ধান্ত না এলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যাব।
ভর্তি পরীক্ষার ফি কমানোর দাবি তুলে ধরা হয়েছে চাকসুর ফেসবুক পেইজেও। চাকসু নেতারা পূর্ববর্তী ভর্তিপরীক্ষার খরচ বিশ্লেষণ করে বিশ্ববিদ্যালয় ফান্ড থেকে সমন্বয় করে আবেদন ফি কমানোর ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া এক ইউনিটের আবেদন ফি দিয়ে সব ইউনিটে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং আবেদন ফি থেকে প্রাপ্ত অর্থ, সরকার বরাদ্দ ও অন্যান্য খাত থেকে পাওয়া অর্থ এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব সকল শিক্ষার্থীর জন্য প্রকাশ করারও দাবি জানান।











