বোরোর ভালো ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

3

এম এ হোসাইন

এখন চলছে বোরো ধান কাটার মৌসুম। চট্টগ্রামে এবার বোরো আবাদ ভালো হওয়াতে মনে আনন্দ থাকার কথা থাকলেও শ্রমিকের অতিমজুরিতে দিশেহারা কৃষকরা। অতিরিক্ত অর্থ দিয়েও মিলছে না কৃষিশ্রমিক। ফলন ভালো হলেও শ্রমিকের মজুরির তুলনায় সরকার ধানের দাম বাড়াইনি বলে জানিয়েছেন একাধিক কৃষক।
ধানের দাম গত বছরের মতো থাকলেও এবার শ্রমিকের মজুরি অনেক বেড়েছে। কোনো কোনো জায়গায় দৈনিক ১২০০ টাকাতেও মিলছে না কৃষিশ্রমিক। আবার দৈনিক মজুরির সাথে অন্যান্য খরচ যোগ হয়ে মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে দেড় হাজার টাকার উপরে। অথচ গত বছরের মতো এবারও ধান প্রতিমণ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চন্দনাইশের সাতবাড়িয়া এলাকার কৃষক আবু বক্কর বলেন, এবার আমি চার কানি জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছি। ফলন অনেক ভালো হয়েছে। কাটা-মাড়াই শুরু করেছি। শ্রমিকের অতিরিক্ত মজুরির কারণে অনেকটা দিশেহারা অবস্থা। ১২শ টাকা দৈনিক মজুরিতে কাজ করাতে হচ্ছে। সব মিলে শ্রমিকের খরচ দৈনিক দেড় হাজার টাকার উপরে পড়বে। এরপরও নিয়মিত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
আনোয়ারার কৃষক আরিফ হোসেন বলেন, গত মৌসুমে ভালো ফলন হয়নি। এবার ফলন ভালো হয়েছে। ইতিমধ্যে মাঠে থাকা ধান কাটা শেষ। সব কিছুর দাম বাড়তি। শেষে এসে দ্বিগুণ দামে শ্রমিকও দিতে হয়েছে। এখন ভালো দামে ধান বিক্রি করতে পারলে লাভ হবে।তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলায় এবার বোরো মৌসুমের আবাদ হয়েছে ৬৮ হাজার ৭শ ৯৯ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬২ মেট্রিক টন। ইতিমধ্যে প্রায় ৬৮ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। এছাড়াও সরকারিভাবে এবার ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৫৮ মেট্রিক টন। সিদ্ধ চাল ৬৭০ মেট্রিক টন ও আতপ চাল ৫ হাজার ৯শ ৩ মেট্রিক টন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি গুদামে কৃষক থেকে প্রতিকেজি ধান ৩২ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৫ ও আতপ চাল ৪৪ টাকা করে ক্রয় করা হবে।