বৈঠকের জন্য ভিয়েতনামে ট্রাম্প-কিমের সাক্ষাৎ

31

দ্বিতীয় বৈঠকের জন্য ভিয়েতনামে উপস্থিত হয়ে সাক্ষাৎ করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার রাজধানী হ্যানয়ের মেট্রোপোল হোটেলে দু’দেশের পতাকার সারির সামনে দাঁড়িয়ে কিম এবং ট্রাম্প দুইজনই হাসিমুখে করমর্দন করেন।
এসময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আলোচনা খুবই সফল হবে বলে মনে করেন তিনি। তবে উত্তর কোরিয়াকে নিরস্ত্রীকরণের দাবি থেকেও যুক্তরাষ্ট্র সরবে না। কোরিয়া যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করবেন কি-না- এ প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “সেটি আমরা দেখব।” ওদিকে কিমও বৈঠকের আলোচনা খুব সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, তারা ভিয়েতনামে দ্বিতীয় বৈঠক করার পথে বাধা টপকাতে পেরেছেন এবং এখন ধৈর্য ধরা প্রয়োজন।
বুধবার ট্রাম্প এবং কিমের মধ্যে প্রথমে ২০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত আলোচনা হবে। এরপর সহযোগীদের নিয়ে ভোজনপর্ব সারবেন তারা। তারপরই বৃহস্পতিবার দুই নেতার মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক হবে। এসব বৈঠকে তারা কি নিয়ে আলোচনা করবেন সে সম্পর্কে সঠিক কিছু জানা যায়নি। তবে দুইদিনের এ সম্মেলনে তারা কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাছাড়া, কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনও এদিন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈঠকের আগে ট্রাম্প ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও দেখা করবেন। বুধবার এক টুইট বার্তায় সম্মেলনের আয়োজক দেশটির ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। “পৃথিবীর অল্প কিছু এলাকার মতো ভিয়েতনামও সমৃদ্ধশালী। উত্তর কোরিয়াও শিগগিরই এরকম হতে পারে, যদি তারা নিরস্ত্রীকরণ করে,” বলেছেন ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসের দেওয়া সূচি অনুযায়ী, বুধবার হ্যানয়ের সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতার ২০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত বৈঠক করার কথা রয়েছে। এবারের বৈঠককে সিঙ্গাপুরে গত বছরের জুনে হওয়া প্রথম বৈঠকের ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি না থাকায় সিঙ্গাপুরের ওই বৈঠকের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন পশ্চিমা বিশ্লেষকরা। এরপর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সামান্য অগ্রগতি দেখা গেলেও নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।
সমালোচকদের সুনির্দিষ্ট অগ্রগতির প্রমাণ দেখাতে এবার তাই বৈঠকে দুই নেতাই মরিয়া থাকবেন বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্প অবশ্য শীর্ষ সম্মেলন শুরুর আগেই প্রত্যাশার লাগাম টেনে ধরেছেন। বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে তাড়াহুড়ো নেই তার। “আমি কারও ক্ষেত্রেই তাড়াহুড়ো করতে চাই না। কেবল (পারমাণবিক অস্ত্রের) পরীক্ষা দেখতে চাই না। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা পরীক্ষা করছে না, ততক্ষণ আমরা খুশি,” বলেছেন তিনি।