বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে আইন মেনে চলতে হবে

43

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আমাদের যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, সেগুলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ মেনে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হবে। আমাদের শিক্ষাখাতে যেসব পরিবর্তন হচ্ছে, এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অবশ্যই ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছি। গতকাল সকালে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানবিকতা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের মাদক, সন্ত্রাস, মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে থাকারও আহবান জানান তিনি। দীপু মনি বলেন, আমরা এখন শিক্ষাক্ষেত্রে মান্নোয়নের কথা বলছি। এটা করতে হলে আমাদের যে কারিকুলাম আছে, সেটার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মনের মধ্যে মানবিকতা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম, সততা, কর্তব্যবোধ, নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতা এসব মূল্যবোধগুলো আয়ত্ত করতে হবে।
সমাবর্তনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের যে লক্ষ্য সেই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে সোনার মানুষ লাগবে। সেই সোনার মানুষ হিসেবে তোমরা আশা করি নিজেদের গড়ে তুলবে। জাতি তোমাদের কাছ থেকে যে কর্তব্যবোধ আশা করে, সেটিকে মাথায় রেখে নিজেদের গড়ে তুলবে। মাদক, সন্ত্রাস, মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ থেকে নিজেদের দূরে রাখবে। শৃঙ্খলা খুব জরুরি। একজন মানুষের লক্ষ্য ও অর্জনের মধ্যে সেতু হচ্ছে শৃঙ্খলা।
গবেষণাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদ সৃষ্টির লক্ষে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, জাতীয় বিজ্ঞান ফেলোশিপের আওতায় একাধিক ক্যাটাগরিতে ফেলোশিপ প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষাকে আরও সহজলভ্য করার জন্য একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন সমাবর্তন বক্তার বক্তব্যে বলেন, মানুষ বড় হলে দেশ বড় হয়। আর দেশ আলোকিত হয় মানুষ আলোকিত হলে। তিনি আরও বলেন, প্রাচীন গ্রিসে ১৮ বছর পূর্ণ হলে যুবককে সম্রাটের সামনে নিয়ে যেয়ে প্রতিজ্ঞা করানো হতো এবং বলা হতো ‘তুমি জন্মের পর যে গ্রিস দেখেছ, মৃত্যুর সময় যেন তার চেয়ে অনেক বড় গ্রিস দেখে যেতে পারো- সে প্রতিজ্ঞা করো।’ আজকের তরুণ প্রজন্মকে এর তাৎপর্য ধারণ করতে হবে। জন্মে যে বাংলাদেশকে দেখেছে, মৃত্যুর সময় যেন তার চেয়ে বড় বাংলাদেশকে দেখে যেতে পারে, সেই স্বপ্ন দেখতে হবে তরুণ সমাজকে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, উচ্চ শিক্ষার প্রসারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করছে। তবে বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা সনদ বাণিজ্য করছে। তাদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, অনেক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, রাষ্ট্রপতি তথা আচার্য কর্তৃক নিয়োগকৃত উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও পর্ষদকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয় না। এ তিনটি পদ খালি আছে এমন বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা বেশ বড়। এ ছাড়া আচার্য কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে পরিচালনা বোর্ড বরখাস্ত করার নজিরও আছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মিত একাডেমিক সভা করে না। এসব অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ ও শিক্ষার্থীরা। আশা করি এসব অনিয়ম হতে প্রতিষ্ঠানগুলো বিরত থাকবে। মাদক ও জঙ্গিবাদ তরুণ সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আজকের তরুণ সমাজ এ দুটি ব্যাধি হতে নিজেদের দূরে রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, পড়ালেখা মানসম্মত হতে হবে। নয়তো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে কাজ করছে।
বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান সাইদ আল নোমান বলেন, মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়কে চিনবে শিক্ষার্থীর মাধ্যমে। তাদের সাফল্যে ফুটে উঠবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান। আমরা সে বিশ্বাসকে পুঁজি করে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে প্রয়াস চালাচ্ছি। অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সিটির উপাচার্য এম. সেকান্দর খানসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষকরাও বক্তব্য দেন। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রায় ৬শ’ গ্র্যাজুয়েটকে সনদ প্রদান করা হয়। এছাড়া ১২০ জনকে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য পদক দেওয়া হয়।